1:38 pm, Wednesday, 22 April 2026

রাজনগরের চান্দখাড়া বিলি গ্রামে জমি ক্রয়ে ভাইরে সাথে প্রতারনার অভিযোগ (ভিডিওসহ)

জাফর ইকবাল: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার চান্দখাড়া বিলি গ্রামে প্রবাসী দুই ভাইয়ের সাথে প্রবাসী এক ভাইয়ের জমি ক্রয় নিয়ে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসে থেকে তিন ভাই সমান টাকা দিয়ে ৪ বিঘা জমি রেখে দুই ভাই বড় ভাইর নিকট প্রতারিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কয়েক বার শালিস বৈঠক হলেও সমাধান না হওয়ায় রাজনগর থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে।

জানাযায়, চান্দখাড়া বিলি গ্রামের তিন ভাইয়ের মধ্যে শিব্বির মিয়া দুবাই, জিলু মিয়া সৌদী আরব, জহির মিয়া দুবাই প্রবাসী। তিন ভাই একত্রে ৪ বিঘা জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয় করার জন্য বড় ভই শিব্বির মিয়াকে দায়ীত্ব দেওয়া হয়। শিব্বির মিয়া জমি ক্রয় করতে গিয়ে দলিল করার সময় অর্ধেক জমি তার নিজ নামে দলিল করেন। বাকী অর্ধেক জহির মিয়া ও জিলু মিয়ার নামে দলিল করেন। প্রথম অবস্থায় বিষয়টি জানাজানি হয়নি। পরবর্তীতে বাড়ির ফলাদি ও গাছ কাটতে গেলে শিব্বির মিয়া বাঁধা দেন। বিষয়টি নিয়ে শিব্বির মিয়া ও জহির মিয়া, জিলু মিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।এব্যাপারে থানায় মামলা হয়।

রাজনগর থানার এসআই জিলানি ঘটনা স্থলে এসে এলাকার মেম্বার শহীদ আলী গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রেনু মাষ্টার, মছদ্দর মিয়া, শিব্বিরের স্ত্রী রোবেনা বেগম, তাদের বোন আয়তুন বেগম, বোনের স্বামী মশাইদ আলী, ফুফাত্ব ভাই শফিক মিয়া, খালিক মিয়া, ওয়াসিদ মিয়া, আকলু মিয়া, নাইওর মিয়াসহ অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তি মিলে তাদের বিরোধ মিমাংসার জন্য বাড়িটি ভাগ বাটোয়ারা করে সীমনা খুটিও পুতে দেন। এসময় সিন্ধান্ত হয় শিব্বির মিয়া অতিরিক্ত যে জমি নিজ নামে দলিল করেছেন তা পরবর্তীতে সমান অংশে জহির মিয়া ও জিলু মিয়াকে দলিল করে দিবেন। সে সময় শিব্বির মিয়া উপস্থিতি থেকে বিষয়টি মেনে নেন। সীমানা খুটি মোতাবেক জহির মিয়া একটি গাছ বিক্রি করলে শিব্বির মিয়া আপত্তি করেন। এসময় তিনি জানিয়ে দেন সালিশ কর্তৃক সীমানা খুটি ও ভাগ বাটোয়ারা তিনি মানেন না। এছাড়াও তাদের পুরাতন বাড়ির .২ শতক জমি চালাকি করে সহজ সরল পিতার নিকট থেকে সু-কৌশলে শিব্বির মিয়া দলিল করে নেন। প্রবাসী জহির মিয়া ফোনে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বড় ভাই শিব্বির মিয়ার নিকট বিদেশ থেকে অনেক কষ্টের রোজগারের টাকা আমরা ২ ভাই মিলে তাকে দিয়েছি জমি কেনার জন্য। সে প্রতারনা করে ৪ বিঘা জমির ২ বিঘা তার নামে একা দলিল করে। আমাদের সাথে সে প্রতারনা করেছে। সে এলাকার আকলু মিয়া, নাইওর মিয়া বলেন, তিন ভাই বিদেশ পরিশ্রম করে জমি ক্রয় করেছে। প্রত্যেকে সমান ভাগ পাওয়া উচি”। সেদিক বিবেচনা করে আমরা পুলিশের উপস্থিতিতে খুটি মেরে সীমানা নিধারন করে দিয়েছিলাম। সেসময় শিব্বির মেনে নিলেও পরে আপত্তি জানায়।

কামারচাক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শহীদ আলী বলেন, প্রবাসী তিন ভাইর বিরোধ নিস্পত্তি করতে আমরা কয়েক বার সালিশ বৈঠক বসেছি। সর্বশেষ রাজনগর থানার এসআই জিলানি সহ বিষয়টি নি:স্পত্তি করতে শিব্বিরের উপস্থিতিতে সীমানা খুটি মারা হয়। শিব্বির এই সময় সিন্ধান্ত মেনেও নেয়। পরবর্তীতে জহির মিয়া একটি গাছ বিক্রি করলে শিব্বির আপত্তি করে গাছটি আটকায়। পরে আমি গাছটি নষ্ট হয়ে যাবে চিন্তা করে বিচারে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে বলে টাকা আমার জিম্মায় রেখে গাছ ক্রয় করেছিল তাদের গাছটি দিয়েছি।

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, শিব্বির কাজটি ঠিক করেনি। তিন ভাই মিলে একত্রে ৪ বিঘা জমি ক্রয় করে শিব্বির অর্ধেক তার নামে দলিল করে। সাবেক সেলিম চেয়ারম্যানও চেষ্টা করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বার, পঞ্চায়েত কারও সিদ্ধান্ত শিব্বির মানতে নারাজ।

এব্যাপারে এই মামঅর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিলানি বলেন তারা ভাই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ। কারও সিন্ধান্ত শিব্বির মিয়া মানছেনা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

রাজনগরের চান্দখাড়া বিলি গ্রামে জমি ক্রয়ে ভাইরে সাথে প্রতারনার অভিযোগ (ভিডিওসহ)

Update Time : 02:09:14 pm, Sunday, 3 September 2023

জাফর ইকবাল: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার চান্দখাড়া বিলি গ্রামে প্রবাসী দুই ভাইয়ের সাথে প্রবাসী এক ভাইয়ের জমি ক্রয় নিয়ে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসে থেকে তিন ভাই সমান টাকা দিয়ে ৪ বিঘা জমি রেখে দুই ভাই বড় ভাইর নিকট প্রতারিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কয়েক বার শালিস বৈঠক হলেও সমাধান না হওয়ায় রাজনগর থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে।

জানাযায়, চান্দখাড়া বিলি গ্রামের তিন ভাইয়ের মধ্যে শিব্বির মিয়া দুবাই, জিলু মিয়া সৌদী আরব, জহির মিয়া দুবাই প্রবাসী। তিন ভাই একত্রে ৪ বিঘা জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয় করার জন্য বড় ভই শিব্বির মিয়াকে দায়ীত্ব দেওয়া হয়। শিব্বির মিয়া জমি ক্রয় করতে গিয়ে দলিল করার সময় অর্ধেক জমি তার নিজ নামে দলিল করেন। বাকী অর্ধেক জহির মিয়া ও জিলু মিয়ার নামে দলিল করেন। প্রথম অবস্থায় বিষয়টি জানাজানি হয়নি। পরবর্তীতে বাড়ির ফলাদি ও গাছ কাটতে গেলে শিব্বির মিয়া বাঁধা দেন। বিষয়টি নিয়ে শিব্বির মিয়া ও জহির মিয়া, জিলু মিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।এব্যাপারে থানায় মামলা হয়।

রাজনগর থানার এসআই জিলানি ঘটনা স্থলে এসে এলাকার মেম্বার শহীদ আলী গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রেনু মাষ্টার, মছদ্দর মিয়া, শিব্বিরের স্ত্রী রোবেনা বেগম, তাদের বোন আয়তুন বেগম, বোনের স্বামী মশাইদ আলী, ফুফাত্ব ভাই শফিক মিয়া, খালিক মিয়া, ওয়াসিদ মিয়া, আকলু মিয়া, নাইওর মিয়াসহ অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তি মিলে তাদের বিরোধ মিমাংসার জন্য বাড়িটি ভাগ বাটোয়ারা করে সীমনা খুটিও পুতে দেন। এসময় সিন্ধান্ত হয় শিব্বির মিয়া অতিরিক্ত যে জমি নিজ নামে দলিল করেছেন তা পরবর্তীতে সমান অংশে জহির মিয়া ও জিলু মিয়াকে দলিল করে দিবেন। সে সময় শিব্বির মিয়া উপস্থিতি থেকে বিষয়টি মেনে নেন। সীমানা খুটি মোতাবেক জহির মিয়া একটি গাছ বিক্রি করলে শিব্বির মিয়া আপত্তি করেন। এসময় তিনি জানিয়ে দেন সালিশ কর্তৃক সীমানা খুটি ও ভাগ বাটোয়ারা তিনি মানেন না। এছাড়াও তাদের পুরাতন বাড়ির .২ শতক জমি চালাকি করে সহজ সরল পিতার নিকট থেকে সু-কৌশলে শিব্বির মিয়া দলিল করে নেন। প্রবাসী জহির মিয়া ফোনে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, বড় ভাই শিব্বির মিয়ার নিকট বিদেশ থেকে অনেক কষ্টের রোজগারের টাকা আমরা ২ ভাই মিলে তাকে দিয়েছি জমি কেনার জন্য। সে প্রতারনা করে ৪ বিঘা জমির ২ বিঘা তার নামে একা দলিল করে। আমাদের সাথে সে প্রতারনা করেছে। সে এলাকার আকলু মিয়া, নাইওর মিয়া বলেন, তিন ভাই বিদেশ পরিশ্রম করে জমি ক্রয় করেছে। প্রত্যেকে সমান ভাগ পাওয়া উচি”। সেদিক বিবেচনা করে আমরা পুলিশের উপস্থিতিতে খুটি মেরে সীমানা নিধারন করে দিয়েছিলাম। সেসময় শিব্বির মেনে নিলেও পরে আপত্তি জানায়।

কামারচাক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শহীদ আলী বলেন, প্রবাসী তিন ভাইর বিরোধ নিস্পত্তি করতে আমরা কয়েক বার সালিশ বৈঠক বসেছি। সর্বশেষ রাজনগর থানার এসআই জিলানি সহ বিষয়টি নি:স্পত্তি করতে শিব্বিরের উপস্থিতিতে সীমানা খুটি মারা হয়। শিব্বির এই সময় সিন্ধান্ত মেনেও নেয়। পরবর্তীতে জহির মিয়া একটি গাছ বিক্রি করলে শিব্বির আপত্তি করে গাছটি আটকায়। পরে আমি গাছটি নষ্ট হয়ে যাবে চিন্তা করে বিচারে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে বলে টাকা আমার জিম্মায় রেখে গাছ ক্রয় করেছিল তাদের গাছটি দিয়েছি।

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেন, শিব্বির কাজটি ঠিক করেনি। তিন ভাই মিলে একত্রে ৪ বিঘা জমি ক্রয় করে শিব্বির অর্ধেক তার নামে দলিল করে। সাবেক সেলিম চেয়ারম্যানও চেষ্টা করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বার, পঞ্চায়েত কারও সিদ্ধান্ত শিব্বির মানতে নারাজ।

এব্যাপারে এই মামঅর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিলানি বলেন তারা ভাই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ। কারও সিন্ধান্ত শিব্বির মিয়া মানছেনা।