1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

ফলোআপ: জঙ্গি আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা: কুলাউড়ার কালা পাহাড়ে জঙ্গি সংঘটনের আস্তানায় সিটিটিসি’র অভিযান

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৩
  • ৫৯৪ বার পঠিত

সৈয়দ আশফাক তানভীর, দুর্ঘম পাহাড়ী এলাকা থেকে ফিরে: কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পাহাড়ী এলাকায় শনিবার ও সোমবার দুই দিনে ২৭ জঙ্গি আটকের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে ওই এলাকায় খাসিয়া সহ সরকারি খাস জমিতে বসবাসরত এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। শান্তি প্রিয় এই জনপদে হঠ্যাৎ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ও জঙ্গি আটকের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করছে।


জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের লংলা পাহাড়ের (ষাড়ের গজ) গভীর অরণ্যে গত মাস দুয়েক থেকে একটি জঙ্গি সংঘটনের সদস্যরা পরিচয় গোপন করে স্থানীয়দের কাছ থেকে সরকারি খাস জমি ক্রয় করে কৌশলে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিরাপদ ভেবে এই এলাকা বেছে নেয়। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট শুক্রবার রাত ব্যাপী অভিযান শেষে শনিবার সকালে পূর্ব টাট্টিউলী গ্রামের পাহাড়ী বাইশালী এলাকা থেকে নারী, পুরুষসহ ১০ জন জঙ্গি সদস্যকে আটক করে। এরা সবাই নব্য জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদের কাফেলার সদস্য। এ ঘটনার দুদিন পর গত ১৪ আগস্ট সকালে কর্মধা ইউনিয়নের আছগরাবাদ চা বাগান এলাকার সিএনজিযোগে রোগী পরিচয়ে পলায়নের সময় সিএনজি চালকদের দক্ষতায় ওই জঙ্গি সংঘটনের আরো ১৭ সদস্যকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে হস্তান্তর করা হয়। পরে কুলাউড়া থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঢাকা থেকে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর সদস্যরা এসে ওই ১৭ জঙ্গিকে আটক করে নিয়ে যায়। আটককৃত জঙ্গিদের মধ্যে ২ জন সদস্যকে নিয়ে ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মধা ইউনিয়নের কালা পাহাড়ে গড়ে ওঠা তিনটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও কুলাউড়া থানা পুলিশ। এ সময় পাহাড়ের গভীর অরণ্যে বৃষ্টিময় দিনে রুদ্ধশ^াসকর ১০ ঘন্টার ওই অভিযানে কালাইগিড়ি এলাকার ফরেস্টের বনায়নের ভিতরে ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, দা, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ডেটরনেটার ও জিহাদী বই সহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। মোট ২৭ জঙ্গি আটকের পর বিষয়টি নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা সদরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

স্থানীয় এলাকায় সরেজমিন ঘুরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অত্র এলাকার একাধিক বাসিন্দারা জানান, জঙ্গিরা নদী ভাঙ্গন এলাকার লোক বলে পরিচয় গোপন করে টাট্টিউলী এলাকার বাসিন্দা রশিদ আলীর ভাই প্রবাসী রফিক আলীর কাছ থেকে খাস জমি ক্রয় করে বসবাস করছে মাস দুয়েক থেকে। এ সময় তারা এলাকায় চলাচলের সময় স্থানীয়দের সাথে মিশত না। বসবাসরত বাইশালী এলাকা থেকে ওই জঙ্গি সদস্যরা সবজি বাগান করার কথা বলে পাহাড়ের গভীরে কালাইগিড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করত। জঙ্গিদের এই এলাকায় আনার পেছনে কারা রয়েছে তা পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা হোক। কর্মধার পাহাড়ি এলাকায় আর কোন জঙ্গি রয়েছে কিনা এ নিয়ে খাসিয়াসহ স্থানীয় বসবাসকারী অনেকের মধ্যে জঙ্গি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ বলেন, আমাদের অজ্ঞাতে জঙ্গিরা শান্তিপ্রিয় কর্মধা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় পরিচয় গোপন রেখে বসতি গড়ে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ এসব জঙ্গিদের মদদদাতা, আশ্রয়দাতাদের বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোন লোককে আশ্রয় না দিতে স্থানীয়দেরকে জানিয়ে দিয়েছি।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুছ ছালেক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জঙ্গি আস্তানা থেকে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সদস্যরা পৃথক অভিযানে ২৭ জঙ্গি সহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেন। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ এসব জঙ্গিদের সাথে সম্পৃক্ত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুলাউড়া থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল সহ আশপাশের এলাকাতে নজরদারি রাখছে।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..