3:57 pm, Thursday, 13 August 2026

অজিদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে রেকর্ডবুকেও উজ্জ্বল হাসান

ডেস্ক রিপোর্ট : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই বল হাতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে দিয়েছেন তিনি।

হাসানের বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। এটি টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহও।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা স্বাগতিকদের হয়ে একাই প্রতিরোধ গড়েন স্টিভেন স্মিথ।

১০৯ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তবে স্মিথকে সঙ্গ দেওয়ার মতো বড় জুটি গড়তে পারেননি আর কেউ।
শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন হাসান। ১৭ ওভার বল করে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটিই তার সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে টেস্টে পাঁচ উইকেটও পেয়েছিলেন হাসান। তবে ডারউইনে ছয় উইকেট নিয়ে নিজের আগের সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।

শুধু ক্যারিয়ার সেরা বোলিং নয়, এই পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের পেসারদের সেরা বোলিংয়ের তালিকাতেও উঠে এসেছেন হাসান। টেস্টে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এক ইনিংসে সেরা বোলিং ফিগারে তার ওপরে আছেন কেবল শাহাদাত হোসেন ও ইবাদত হোসেন।

শাহাদাত ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন। ইবাদত ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয়। হাসানের ৫৫ রানে ৬ উইকেট এখন এই তালিকার তৃতীয় সেরা ফিগার।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার এখন হাসানেরই। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ছিল মোহাম্মদ রফিকের ৬২ রানে ৫ উইকেট এবং সাকিব আল হাসানের ৬৮ রানে ৫ উইকেট। ডারউইনে ছয় উইকেট নিয়ে সেই রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন হাসান।

হাসানের এই সাফল্যের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ের উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের জুনে ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলতে গিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৬৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে কেন্টকে জেতাতেও বড় ভূমিকা রাখেন হাসান।

হাসানের ছয় উইকেটের পর বাংলাদেশের ব্যাটাররাও শুরুটা করেছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। প্রথম দিন শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়ার জবাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। ১ উইকেটের বিনিময়ে শত রানের দ্বারপ্রান্তে টাইগাররা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে ব্যাটারি রিকশা-ইবাইক: জ্বালানিমন্ত্রী

অজিদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে রেকর্ডবুকেও উজ্জ্বল হাসান

Update Time : 08:39:40 am, Thursday, 13 August 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই বল হাতে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়ে দিয়েছেন তিনি।

হাসানের বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। এটি টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহও।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা স্বাগতিকদের হয়ে একাই প্রতিরোধ গড়েন স্টিভেন স্মিথ।

১০৯ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। তবে স্মিথকে সঙ্গ দেওয়ার মতো বড় জুটি গড়তে পারেননি আর কেউ।
শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।
এই ধসের মূল কারিগর ছিলেন হাসান। ১৭ ওভার বল করে ৩টি মেডেনসহ মাত্র ৫৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটিই তার সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে টেস্টে পাঁচ উইকেটও পেয়েছিলেন হাসান। তবে ডারউইনে ছয় উইকেট নিয়ে নিজের আগের সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।

শুধু ক্যারিয়ার সেরা বোলিং নয়, এই পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের পেসারদের সেরা বোলিংয়ের তালিকাতেও উঠে এসেছেন হাসান। টেস্টে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এক ইনিংসে সেরা বোলিং ফিগারে তার ওপরে আছেন কেবল শাহাদাত হোসেন ও ইবাদত হোসেন।

শাহাদাত ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন। ইবাদত ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয়। হাসানের ৫৫ রানে ৬ উইকেট এখন এই তালিকার তৃতীয় সেরা ফিগার।

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার এখন হাসানেরই। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ছিল মোহাম্মদ রফিকের ৬২ রানে ৫ উইকেট এবং সাকিব আল হাসানের ৬৮ রানে ৫ উইকেট। ডারউইনে ছয় উইকেট নিয়ে সেই রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন হাসান।

হাসানের এই সাফল্যের পেছনে সাম্প্রতিক সময়ের উন্নতিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের জুনে ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলতে গিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৬৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে কেন্টকে জেতাতেও বড় ভূমিকা রাখেন হাসান।

হাসানের ছয় উইকেটের পর বাংলাদেশের ব্যাটাররাও শুরুটা করেছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। প্রথম দিন শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়ার জবাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। ১ উইকেটের বিনিময়ে শত রানের দ্বারপ্রান্তে টাইগাররা।