ডেস্ক রিপোর্ট : ২৩ বছর আগে এই অস্ট্রেলিয়াতেই বাংলাদেশকে ঘিরে ছিল অন্যরকম এক আবহ। টেস্ট ক্রিকেটে তখন সবে হাঁটতে শেখা দলটি খেলতে নেমেছিল স্টিভ ওয়াহ, ম্যাথু হেইডেন, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর বেশি সময়ও পেরোয়নি। তাই সেই সফরে বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি বিদ্রুপও কম হয়নি।
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার ডেভিড হুকস তো বলেই বসেছিলেন, দুই দলের টেস্ট এক দিনেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব।
শেষ পর্যন্ত এক দিনে ম্যাচ শেষ হয়নি।
তবে বাংলাদেশের জন্য সেই সফর ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
২৩ বছর পর আবার সেই ডারউইন। মাঝের সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে অনেকটা পথ পেরিয়েছে বাংলাদেশ, এসেছে বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য। তবু এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পা রাখার আগে আশাবাদের চেয়ে শঙ্কাই ছিল বেশি। নাহিদ রানার চোট, শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণ নিয়েও ছিল প্রশ্ন। তার ওপর একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ায় সেই শঙ্কা আরও বেড়েছিল।
টেস্ট শুরুর আগের দিন তাই ম্যাচটি কত দূর গড়াবে, সেটি নিয়েও কৌতূহল ছিল অস্ট্রেলিয়ায়। সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘কী মনে হয়, এটা কি তিন দিনের টেস্ট হতে চলেছে?’ হাসিমুখে তার উত্তর ছিল, ‘কে বলতে পারে?’
এসব কিছুর জবাব প্রথম দিনেই ২২ গজে দিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়াকে শুরু থেকেই চাপে রাখে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। হাসান মাহমুদ সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনও তৈরি করেন নিয়মিত চাপ। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন হাসান। ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নিয়ে একাই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান এই পেসার।
হাসানের সঙ্গে নতুন বলে তাসকিন ও এবাদতও ছিলেন দুর্দান্ত। নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থ, শরীরের কাছাকাছি বল আর পরিকল্পিত ফিল্ডিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের স্বস্তিতে থাকতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। একমাত্র স্টিভেন স্মিথই লড়াই করে ৭১ রান করেন। বাকি ব্যাটারদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
বল হাতে অস্ট্রেলিয়াকে থামানোর পর ব্যাট হাতেও দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার তিন পেসার মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও প্যাট কামিন্সও বাংলাদেশের ব্যাটারদের সেভাবে চাপে ফেলতে পারেননি। স্টার্ক নেন একটি উইকেট, হ্যাজলউড ও কামিন্স থাকেন উইকেটশূন্য।
প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৯৬ রান। সাদমান ইসলাম দলীয় ৩৬ রান করে ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিমের ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনটা আরও স্বস্তির হয়েছে। মুমিনুল ৩৫ ও তানজিদ ৩২ রানে অপরাজিত। শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে ১০২ রান পিছিয়ে থেকে ব্যাটিং শুরু করবে বাংলাদেশ।
এদিকে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আরেকটি মাইলফলকও ছুঁয়েছেন মুমিনুল। তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এখন তিনি। ৭০ টেস্টে ১০ সেঞ্চুরি ও ৩১ ফিফটিতে ৫ হাজার ১৩৪ রান করেছিলেন তামিম। এই ম্যাচের আগে ৫ হাজার ১৩১ রান নিয়ে শুরু করা মুমিনুল প্রথম ইনিংসেই তাকে ছাড়িয়ে যান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৮০৬ রান নিয়ে শীর্ষে আছেন মুশফিকুর রহিম।
সাদমানের উইকেটটি অবশ্য বাংলাদেশের জন্য কিছুটা আক্ষেপের। মিচেল স্টার্কের বলে প্যাডে খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় তুলে দেন তিনি। কাভারে ক্যাচ নেন নাথান লায়ন। ৩০ বলে ২০ রান করে ফেরেন সাদমান। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্টে স্টার্কের শিকার হলো ৪৩৪টি-বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে যা এখন সর্বোচ্চ।
সবকিছু ছাপিয়ে দিন শেষে ডারউইনে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সটা স্বস্তির। ২৩ বছর আগে এই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ও ১৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই অস্ট্রেলিয়াকেই ১৯৮ রানে অলআউট করে ব্যাটিংয়ে আধিপত্য দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। ২৩ বছর পর সেই ডারউইনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যেন পুরোনো সেই হিসাবটাই চুকিয়ে নিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















