5:46 am, Saturday, 16 May 2026

আফ্রিকান প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে পুতিনের যে কথা হলো

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে বিশাল বহর নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আফ্রিকার চার দেশ জাম্বিয়া, সেনেগাল, কমোরোস এবং দক্ষিণ আফ্রিকা প্রেসিডেন্ট। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মিসরের প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা মাদবুলি।

শনিবার (১৭ জুন) এ প্রতিনিধি দলটি পুতিনের সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক করে। এ সময় তাদের সঙ্গে পুতিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা পুতিনকে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন। এজন্য তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

কিন্তু পুতিন ওই সময় দাবি করেন, তারা আলোচনা করতে চাইলেও ইউক্রেনই সব সময় এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আরও বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যেন আরও বেশি যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেন এবং যেসব ইউক্রেনীয় শিশুকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে তাদের দ্রুত সময়ে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শিশুদের কথা তোলার পর পুতিন আফ্রিকান প্রেসিডেন্টকে থামিয়ে দেন। তিনি তাকে বলেন, এসব শিশুকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে রাশিয়ায় আশ্রয়ের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। পুতিন বলেছেন, ‘শিশুরা হলো পবিত্র। আমরা তাদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নিয়েছি, তাদের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা করছি।’

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট আফ্রিকা মহাদেশে যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে কথা বলেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন এ যুদ্ধ অবশ্যই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে হবে।

এ ব্যাপারে পুতিনকে রামাফোসা বলেন, ‘এই যুদ্ধ অনন্তকাল চলতে পারে না। সব যুদ্ধই নিষ্পত্তি করতে হয় এবং একটা সময় শেষ হয়। আর আমরা এখানে একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে এসেছি এ যুদ্ধও শেষ হতে হবে।’

এছাড়া যুদ্ধে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করায় আফ্রিকান নেতাদের প্রশংসা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এদিকে এরআগে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন আফ্রিকান নেতারা। তারা জেলেনস্কিকেও আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যতক্ষণ রুশ সেনারা তার দেশে অবস্থান করবে ততক্ষণ তিনি কোনো আলোচনা করবেন না।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

আফ্রিকান প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে পুতিনের যে কথা হলো

Update Time : 09:02:59 am, Sunday, 18 June 2023

ডেস্ক রিপোর্ট : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে বিশাল বহর নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আফ্রিকার চার দেশ জাম্বিয়া, সেনেগাল, কমোরোস এবং দক্ষিণ আফ্রিকা প্রেসিডেন্ট। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মিসরের প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা মাদবুলি।

শনিবার (১৭ জুন) এ প্রতিনিধি দলটি পুতিনের সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠক করে। এ সময় তাদের সঙ্গে পুতিনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা পুতিনকে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন। এজন্য তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

কিন্তু পুতিন ওই সময় দাবি করেন, তারা আলোচনা করতে চাইলেও ইউক্রেনই সব সময় এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আরও বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যেন আরও বেশি যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেন এবং যেসব ইউক্রেনীয় শিশুকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে তাদের দ্রুত সময়ে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শিশুদের কথা তোলার পর পুতিন আফ্রিকান প্রেসিডেন্টকে থামিয়ে দেন। তিনি তাকে বলেন, এসব শিশুকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে রাশিয়ায় আশ্রয়ের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। পুতিন বলেছেন, ‘শিশুরা হলো পবিত্র। আমরা তাদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নিয়েছি, তাদের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা করছি।’

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট আফ্রিকা মহাদেশে যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে কথা বলেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন এ যুদ্ধ অবশ্যই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে হবে।

এ ব্যাপারে পুতিনকে রামাফোসা বলেন, ‘এই যুদ্ধ অনন্তকাল চলতে পারে না। সব যুদ্ধই নিষ্পত্তি করতে হয় এবং একটা সময় শেষ হয়। আর আমরা এখানে একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে এসেছি এ যুদ্ধও শেষ হতে হবে।’

এছাড়া যুদ্ধে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করায় আফ্রিকান নেতাদের প্রশংসা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এদিকে এরআগে শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেন আফ্রিকান নেতারা। তারা জেলেনস্কিকেও আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যতক্ষণ রুশ সেনারা তার দেশে অবস্থান করবে ততক্ষণ তিনি কোনো আলোচনা করবেন না।