3:21 am, Saturday, 16 May 2026

শব্দে শব্দে অনুপ্রেরণা, আশিকুরের ছোঁয়ায় উজ্জীবিত টাইগাররা

সিলেট প্রতিনিধি : ক্রিকেটারদের মোটিভেট করতে কোচরা কত কিছুই না করেন। তবে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদারের পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন।

প্রতিদিন হাতের বাহুতে লিখে আনেন ছোট ছোট ইতিবাচক শব্দ; কখনো ‘Positivity’, কখনো ‘Purity’, আবার কখনো ‘Team Bonding’। সিলেটে বাংলাদেশের প্রথম অনুশীলনের দিন তার বাহুতে লেখা ছিল একটি শব্দ ‘Cooperation’।

বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিংয়ে নতুন উদ্যম আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিল্ডারদের তীক্ষ্ণতা প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার।

স্লিপে সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত ক্যাচ কিংবা পুরো দলের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আলাদা করে নজর কেড়েছে। সেই পরিবর্তনের পেছনে অবদান রাখছেন ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার।
পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পান আশিকুর। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন কাজ করলেও জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে এটিই তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। আর শুরুতেই যেন বাজিমাত করেছেন তিনি। শুধু টেকনিক্যাল কাজ নয়, ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখতেও নিচ্ছেন নানা উদ্যোগ।

নিজের বাহুতে লেখা এই শব্দগুলোর গল্পও বেশ মজার। শুরুতে এগুলো শুধুই নিজের জন্য লিখতেন আশিকুর। পরে সেটাই ছড়িয়ে পড়ে পুরো দলের মধ্যে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একচুয়ালি এই লেখাটা প্রথমে আমার নিজের জন্যই ছিল। পরে টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল এটা দেখে জানতে চায় কেন লিখেছি। তখন আমি এটা নিয়ে ব্যাখ্যা করি, হার্ডলসে কথা বলি। আমার ফিলোসফি হচ্ছে, প্লেয়াররা সূর্যের আলোর মতো আর কোচরা আয়নার মতো। সূর্যের আলো আয়নায় পড়লে সেটি প্রতিফলিত হয়। আমি প্রতিদিন একেকটা শব্দ লিখে আনি। এটা আমাদের এনার্জি অনুভব করতে সাহায্য করে।’

শুধু অনুশীলন বা ম্যাচের সময় উৎসাহ দেওয়াতেই থেমে নেই আশিকুরের কাজ। দলের সেরা ফিল্ডারদের জন্য চালু করেছেন বিশেষ পুরস্কারও। ঢাকা টেস্টে দারুণ ফিল্ডিংয়ের জন্য লিটন দাস ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দেওয়া হয় বিশেষ মেডেল।

এই উদ্যোগ নিয়ে আশিকুর বলেন, ‘দুই ইনিংসে যারা সেরা ফিল্ডিং করেছে, তাদের গ্রেডিং করা হয়। যারা ভালো ক্যাচ নিয়েছে, মাঠে বেশি ইমপ্যাক্ট ফেলেছে, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি কাজের পেছনে আনন্দ খুঁজি, উৎসাহ খুঁজি। স্বীকৃতি দিলে খেলোয়াড়রা বাড়তি আত্মবিশ্বাস পায়।’

বাংলাদেশের ফিল্ডিং নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও শোনালেন তিনি। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন আশিকুর, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ওরা খুব দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। সাদমান যে ক্যাচটা নিয়েছে, সেটা সহজ ছিল না। এত কাছ থেকে, এত গতির বলে ওই ক্যাচ নিতে অসাধারণ মনোযোগ লাগে। আমি মনে করি আমাদের ক্রিকেটারদের মাইন্ড পাওয়ার এবং কনসেন্ট্রেশন পাওয়ার খুবই শক্তিশালী। এজন্যই পঞ্চম দিনেও দলের এনার্জি প্রথম দিনের মতোই ছিল, বরং আরও বেশি।’

বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক ফিল্ডিং পারফরম্যান্সে যে পরিবর্তনের আভাস মিলছে, তার পেছনে শুধু অনুশীলন নয়, মানসিক প্রস্তুতি ও দলীয় বন্ধনের প্রভাবও স্পষ্ট। আর সেই জায়গাতেই ভিন্নধর্মী এক ছাপ রেখে চলেছেন আশিকুর!

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শব্দে শব্দে অনুপ্রেরণা, আশিকুরের ছোঁয়ায় উজ্জীবিত টাইগাররা

Update Time : 09:49:00 am, Thursday, 14 May 2026

সিলেট প্রতিনিধি : ক্রিকেটারদের মোটিভেট করতে কোচরা কত কিছুই না করেন। তবে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদারের পদ্ধতিটা একটু ভিন্ন।

প্রতিদিন হাতের বাহুতে লিখে আনেন ছোট ছোট ইতিবাচক শব্দ; কখনো ‘Positivity’, কখনো ‘Purity’, আবার কখনো ‘Team Bonding’। সিলেটে বাংলাদেশের প্রথম অনুশীলনের দিন তার বাহুতে লেখা ছিল একটি শব্দ ‘Cooperation’।

বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিংয়ে নতুন উদ্যম আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিল্ডারদের তীক্ষ্ণতা প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার।

স্লিপে সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত ক্যাচ কিংবা পুরো দলের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আলাদা করে নজর কেড়েছে। সেই পরিবর্তনের পেছনে অবদান রাখছেন ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার।
পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পান আশিকুর। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন কাজ করলেও জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে এটিই তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। আর শুরুতেই যেন বাজিমাত করেছেন তিনি। শুধু টেকনিক্যাল কাজ নয়, ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখতেও নিচ্ছেন নানা উদ্যোগ।

নিজের বাহুতে লেখা এই শব্দগুলোর গল্পও বেশ মজার। শুরুতে এগুলো শুধুই নিজের জন্য লিখতেন আশিকুর। পরে সেটাই ছড়িয়ে পড়ে পুরো দলের মধ্যে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একচুয়ালি এই লেখাটা প্রথমে আমার নিজের জন্যই ছিল। পরে টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবাল এটা দেখে জানতে চায় কেন লিখেছি। তখন আমি এটা নিয়ে ব্যাখ্যা করি, হার্ডলসে কথা বলি। আমার ফিলোসফি হচ্ছে, প্লেয়াররা সূর্যের আলোর মতো আর কোচরা আয়নার মতো। সূর্যের আলো আয়নায় পড়লে সেটি প্রতিফলিত হয়। আমি প্রতিদিন একেকটা শব্দ লিখে আনি। এটা আমাদের এনার্জি অনুভব করতে সাহায্য করে।’

শুধু অনুশীলন বা ম্যাচের সময় উৎসাহ দেওয়াতেই থেমে নেই আশিকুরের কাজ। দলের সেরা ফিল্ডারদের জন্য চালু করেছেন বিশেষ পুরস্কারও। ঢাকা টেস্টে দারুণ ফিল্ডিংয়ের জন্য লিটন দাস ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দেওয়া হয় বিশেষ মেডেল।

এই উদ্যোগ নিয়ে আশিকুর বলেন, ‘দুই ইনিংসে যারা সেরা ফিল্ডিং করেছে, তাদের গ্রেডিং করা হয়। যারা ভালো ক্যাচ নিয়েছে, মাঠে বেশি ইমপ্যাক্ট ফেলেছে, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি কাজের পেছনে আনন্দ খুঁজি, উৎসাহ খুঁজি। স্বীকৃতি দিলে খেলোয়াড়রা বাড়তি আত্মবিশ্বাস পায়।’

বাংলাদেশের ফিল্ডিং নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও শোনালেন তিনি। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি ও দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন আশিকুর, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ওরা খুব দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। সাদমান যে ক্যাচটা নিয়েছে, সেটা সহজ ছিল না। এত কাছ থেকে, এত গতির বলে ওই ক্যাচ নিতে অসাধারণ মনোযোগ লাগে। আমি মনে করি আমাদের ক্রিকেটারদের মাইন্ড পাওয়ার এবং কনসেন্ট্রেশন পাওয়ার খুবই শক্তিশালী। এজন্যই পঞ্চম দিনেও দলের এনার্জি প্রথম দিনের মতোই ছিল, বরং আরও বেশি।’

বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক ফিল্ডিং পারফরম্যান্সে যে পরিবর্তনের আভাস মিলছে, তার পেছনে শুধু অনুশীলন নয়, মানসিক প্রস্তুতি ও দলীয় বন্ধনের প্রভাবও স্পষ্ট। আর সেই জায়গাতেই ভিন্নধর্মী এক ছাপ রেখে চলেছেন আশিকুর!