8:11 am, Sunday, 26 July 2026

ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলো ‘মরণ ফাঁদ’

ডেস্ক রিপোর্ট : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। বুধবার (১১ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (১০ জুন) ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর নিরলস হামলায় ৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ক্ষুধার্ত ত্রাণপ্রার্থীও রয়েছেন। মঙ্গলবার গাজার কেন্দ্রীয় অংশে ইসরায়েলনিয়ন্ত্রিত নেতসারিম করিডোরের কাছে ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। গাজা সরকারের তথ্য অফিস জানায়, এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের এক শিশুও রয়েছে। শিশুটির নাম মোহাম্মদ খলিল আল-আথামনেহ।
এই ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) নামের একটি বিতর্কিত সংস্থা, যার কার্যক্রম ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলছে এবং এটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণ এই বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে ‘মানব কসাইখানা’ বলে অভিহিত করেছেন। জিএইচএফ কার্যত একটি ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।
গাজা সরকারের তথ্য অফিস এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিএইচএফ এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক ভয়ঙ্কর হাতিয়ার। যারা ত্রাণ দেওয়ার নামে নিরস্ত্র ও ক্ষুধার্ত মানুষদের টেনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে সেখানে।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, জিএইচএফ-এর এসব ত্রাণকেন্দ্র এখন ‘রক্তপাতের মঞ্চ’ হয়ে উঠেছে, যেখানে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের টানা বোমাবর্ষণ ও অবরোধের মুখে গাজার হাসপাতালগুলো মারাত্মক চাপে পড়েছে। বিশেষ করে সহায়তা বিতরণকেন্দ্রগুলোর আশপাশে ইসরায়েলি হামলায় বাড়তে থাকা হতাহতের চাপ বহন করতে পারছে না চিকিৎসা ব্যবস্থা।

বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও জানায়, সম্প্রতি আহত হয়ে আসা অধিকাংশ রোগীই বলেছেন, তারা সাহায্য বিতরণকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এসব হামলা চালানো হয়েছে বিভিন্ন দিক থেকে। ড্রোন, ট্যাংক ও স্নাইপার ব্যবহার করে এসব বিচ্ছিন্ন রাণকেন্দ্রে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
এসব হামলাকে মূলত মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার এক প্রক্রিয়া বলে অভিমত সাংবাদিক আজ্জুমের।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জিএইচএফের সহায়তা কেন্দ্র ঘিরে হামলায় ১২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৩৬ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৯ জন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিচারবহির্ভূত হত্যা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী

ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত, ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলো ‘মরণ ফাঁদ’

Update Time : 08:03:39 am, Wednesday, 11 June 2025

ডেস্ক রিপোর্ট : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় একদিনে কমপক্ষে আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক। বুধবার (১১ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
স্থানীয় চিকিৎসা কর্মকর্তাদের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (১০ জুন) ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর নিরলস হামলায় ৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ক্ষুধার্ত ত্রাণপ্রার্থীও রয়েছেন। মঙ্গলবার গাজার কেন্দ্রীয় অংশে ইসরায়েলনিয়ন্ত্রিত নেতসারিম করিডোরের কাছে ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের মানুষের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। গাজা সরকারের তথ্য অফিস জানায়, এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন। নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের এক শিশুও রয়েছে। শিশুটির নাম মোহাম্মদ খলিল আল-আথামনেহ।
এই ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ) নামের একটি বিতর্কিত সংস্থা, যার কার্যক্রম ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলছে এবং এটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কাজ করছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণ এই বিতরণ কেন্দ্রগুলোকে ‘মানব কসাইখানা’ বলে অভিহিত করেছেন। জিএইচএফ কার্যত একটি ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।
গাজা সরকারের তথ্য অফিস এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জিএইচএফ এখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক ভয়ঙ্কর হাতিয়ার। যারা ত্রাণ দেওয়ার নামে নিরস্ত্র ও ক্ষুধার্ত মানুষদের টেনে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে সেখানে।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজ্জুম গাজার দেইর আল-বালাহ থেকে জানিয়েছেন, জিএইচএফ-এর এসব ত্রাণকেন্দ্র এখন ‘রক্তপাতের মঞ্চ’ হয়ে উঠেছে, যেখানে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের টানা বোমাবর্ষণ ও অবরোধের মুখে গাজার হাসপাতালগুলো মারাত্মক চাপে পড়েছে। বিশেষ করে সহায়তা বিতরণকেন্দ্রগুলোর আশপাশে ইসরায়েলি হামলায় বাড়তে থাকা হতাহতের চাপ বহন করতে পারছে না চিকিৎসা ব্যবস্থা।

বিবৃতিতে সংস্থাটি আরও জানায়, সম্প্রতি আহত হয়ে আসা অধিকাংশ রোগীই বলেছেন, তারা সাহায্য বিতরণকেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এসব হামলা চালানো হয়েছে বিভিন্ন দিক থেকে। ড্রোন, ট্যাংক ও স্নাইপার ব্যবহার করে এসব বিচ্ছিন্ন রাণকেন্দ্রে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা।
এসব হামলাকে মূলত মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার এক প্রক্রিয়া বলে অভিমত সাংবাদিক আজ্জুমের।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জিএইচএফের সহায়তা কেন্দ্র ঘিরে হামলায় ১২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৩৬ জন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৯ জন।