12:49 am, Monday, 8 June 2026

ঈদে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার : রাজনগরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে ৪৯ পরিবার

রাজনগর প্রতিনিধি :: লাঠিতে ভর দিয়ে ১৫ বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব আনখার মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে উত্তরভাগ ইউনিয়নের নয়াটিলা গ্রাম থেকে সোমবার সকালে এসেছেন রাজনগর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। চোখে-মুখে তার আনন্দের ছাপ। ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে থাকতেন শ্বশুরের এক চিলতে জমিতে। নিজের যখন সক্ষমতা ছিল তখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। ফলে নিজে জমি কেনা দূরে থাক সামান্য সঞ্চয় করতে পারেননি। জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের একটি আধাপাকা ঘর। সাথে বিনামূল্যে নিজের নামে সরকারের দেয়া ২ শতাংশ জমিও।

আনখার মিয়ার মতো অসহায়, অস্বচ্ছল ও ভূমিহীন সুনামপুর গ্রামের আব্দুল মনাফ, কেশরপাড়া এলাকার মসজিদের মোয়াজ্জিন জাকির হোসেন, ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তেহরি এলাকার রীতা দাস, নীরঙ্গ রানী দাস, প্রতীভা রানি দাস সহ ৪৯ জন। অনেকে সরকারি খাসজমি দখল করে ১৫-১৬ বছর ধরে ছিলেন ভাসমানের মতো। সবাই সরকারের দেয়া আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন ২ শতাংশ জমিসহ আধাপাকা ঘর।

এই ঘর পেয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে আনখার মিয়া বলেন, ‘কোনোদিন নিজর ঘরো থাকতাম পারমু ভাবছি না। শেখ’র পুরিয়ে (মেয়ে) ঘর দিয়া আমরার মতো অসহায়রে স্থায়ী আশ্রয় দিছইন। তানরে আল্লায় হায়াতে বাঁচাইয়া রাখউকা (রাখেন) দোয়া কররাম (করি)।’

অন্তেহরি গ্রামের বিধবা প্রতীভা রানি দাস (৬০) বলেন, ২৫-২৬ বছর আগে স্বামী মারা যান। ভাঙ্গাচূড়া ঘরে জোরাতালি দিয়ে খাসজমিতে ১৫ বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলাম। পাকাঘর দূরে থাক জমি কেনার মতো সামর্থ্য ছিল না। মরার আগে শেখ হাসিনার দেয়া জমিসহ ঘরে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারব।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে রাজনগরে ৫৯টির মধ্যে ৪৯টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ঘর দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে উত্তরভাগ ইউনিয়নের কেশরপাড়া মৌজায় চড়ারবাজারে ৩৩টি, ফতেপুর ইউনিয়নের মুজেফফরপুর মৌজায় অন্তেহরি এলাকায় ১৫টি ও টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামে ১টি পরিবারকে মঙ্গলবার ঘর হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটি ঘর তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা।

আনুষ্ঠানিকভাবে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রত্যেকের নামে বিনামূল্যে ২শতাংশ জমি সরকারি খরচে রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি করে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।

এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্র্র্র্র্দেশে রাজনগরে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃতীয় ধাপে ৫৯টির মধ্যে ৪৯টি ঘর ঈদের আগে দেয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। নীতিমালা মেনে ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবার বাছাই করে ঘরগুলো বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ডেঙ্গু পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঈদে প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার : রাজনগরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে ৪৯ পরিবার

Update Time : 09:29:55 am, Monday, 25 April 2022

রাজনগর প্রতিনিধি :: লাঠিতে ভর দিয়ে ১৫ বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব আনখার মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে উত্তরভাগ ইউনিয়নের নয়াটিলা গ্রাম থেকে সোমবার সকালে এসেছেন রাজনগর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। চোখে-মুখে তার আনন্দের ছাপ। ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে থাকতেন শ্বশুরের এক চিলতে জমিতে। নিজের যখন সক্ষমতা ছিল তখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। ফলে নিজে জমি কেনা দূরে থাক সামান্য সঞ্চয় করতে পারেননি। জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের একটি আধাপাকা ঘর। সাথে বিনামূল্যে নিজের নামে সরকারের দেয়া ২ শতাংশ জমিও।

আনখার মিয়ার মতো অসহায়, অস্বচ্ছল ও ভূমিহীন সুনামপুর গ্রামের আব্দুল মনাফ, কেশরপাড়া এলাকার মসজিদের মোয়াজ্জিন জাকির হোসেন, ফতেপুর ইউনিয়নের অন্তেহরি এলাকার রীতা দাস, নীরঙ্গ রানী দাস, প্রতীভা রানি দাস সহ ৪৯ জন। অনেকে সরকারি খাসজমি দখল করে ১৫-১৬ বছর ধরে ছিলেন ভাসমানের মতো। সবাই সরকারের দেয়া আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন ২ শতাংশ জমিসহ আধাপাকা ঘর।

এই ঘর পেয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে আনখার মিয়া বলেন, ‘কোনোদিন নিজর ঘরো থাকতাম পারমু ভাবছি না। শেখ’র পুরিয়ে (মেয়ে) ঘর দিয়া আমরার মতো অসহায়রে স্থায়ী আশ্রয় দিছইন। তানরে আল্লায় হায়াতে বাঁচাইয়া রাখউকা (রাখেন) দোয়া কররাম (করি)।’

অন্তেহরি গ্রামের বিধবা প্রতীভা রানি দাস (৬০) বলেন, ২৫-২৬ বছর আগে স্বামী মারা যান। ভাঙ্গাচূড়া ঘরে জোরাতালি দিয়ে খাসজমিতে ১৫ বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলাম। পাকাঘর দূরে থাক জমি কেনার মতো সামর্থ্য ছিল না। মরার আগে শেখ হাসিনার দেয়া জমিসহ ঘরে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারব।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে রাজনগরে ৫৯টির মধ্যে ৪৯টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ঘর দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে উত্তরভাগ ইউনিয়নের কেশরপাড়া মৌজায় চড়ারবাজারে ৩৩টি, ফতেপুর ইউনিয়নের মুজেফফরপুর মৌজায় অন্তেহরি এলাকায় ১৫টি ও টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামে ১টি পরিবারকে মঙ্গলবার ঘর হস্তান্তর করা হবে। প্রতিটি ঘর তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা।

আনুষ্ঠানিকভাবে গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রত্যেকের নামে বিনামূল্যে ২শতাংশ জমি সরকারি খরচে রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি করে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।

এ ব্যপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্র্র্র্র্দেশে রাজনগরে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃতীয় ধাপে ৫৯টির মধ্যে ৪৯টি ঘর ঈদের আগে দেয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। নীতিমালা মেনে ভূমিহীন, গৃহহীন ও ছিন্নমূল পরিবার বাছাই করে ঘরগুলো বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।