12:04 am, Thursday, 9 July 2026

এইচএসসির প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিতর্ক : অভিযুক্তদের চিহ্নিত

অনলাইন ডেস্ক::চলমান এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্র প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অধিকাংশেরই দাবি সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার। এ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের চিহ্নিত করা গেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

আজ মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, যেহেতু ঘটনাটি যশোর বোর্ডের, সেহেতু ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবেন। তারপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জানা যায়, প্রশ্ন প্রণয়নকারী ঝিনাইদহের মহেশপুরের একটি কলেজের একজন শিক্ষক। আর চার মডারেটরের মধ্যে দুজন নড়াইলের দুটি কলেজের এবং বাকি দুজনের একজন সাতক্ষীরার একটি কলেজের এবং আরেকজন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি কলেজের শিক্ষক।

গত রোববার সারা দেশে এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

এর আগে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, বাংলা প্রথম পত্রের একটি প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিষয়কে উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন কারা সেটি করেছিল, তা বের করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যমান নিয়মে পাণ্ডুলিপি ছাড়া তা চিহ্নিত করা যায় না। পাণ্ডুলিপি আছে ট্রেজারি অফিসে। মঙ্গলবার সেখান থেকে পাণ্ডুলিপি এনে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারীকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় আসাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে সোমবার এক উনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া থাকে প্রশ্ন তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই যেন কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক কিছু না থাকে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, কোনো একজন প্রশ্নকর্তা হয়তো এই প্রশ্নটি করেছেন। যিনি মডারেট করেছেন তার দৃষ্টিও হয়তো কোনো কারণে এড়িয়ে গেছে। তিনিও হয়ত স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি নিয়েছে। আমরা চিহ্নিত করছি এই প্রশ্নটি কে করেছেন এবং কে মডারেটর করেছেন। আমরা তাদের খুঁজে বের করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কাউয়াদিঘি হাওরের পানি দ্রুত নিষ্কাষণ করে ধান রুপনের সুযোগ তৈরী করে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন

এইচএসসির প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিতর্ক : অভিযুক্তদের চিহ্নিত

Update Time : 10:17:41 am, Tuesday, 8 November 2022

অনলাইন ডেস্ক::চলমান এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্র প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অধিকাংশেরই দাবি সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার। এ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের চিহ্নিত করা গেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

আজ মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, যেহেতু ঘটনাটি যশোর বোর্ডের, সেহেতু ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবেন। তারপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে জানা যায়, প্রশ্ন প্রণয়নকারী ঝিনাইদহের মহেশপুরের একটি কলেজের একজন শিক্ষক। আর চার মডারেটরের মধ্যে দুজন নড়াইলের দুটি কলেজের এবং বাকি দুজনের একজন সাতক্ষীরার একটি কলেজের এবং আরেকজন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি কলেজের শিক্ষক।

গত রোববার সারা দেশে এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

এর আগে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছিলেন, বাংলা প্রথম পত্রের একটি প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিষয়কে উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন কারা সেটি করেছিল, তা বের করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যমান নিয়মে পাণ্ডুলিপি ছাড়া তা চিহ্নিত করা যায় না। পাণ্ডুলিপি আছে ট্রেজারি অফিসে। মঙ্গলবার সেখান থেকে পাণ্ডুলিপি এনে প্রশ্নপত্র প্রণয়নকারী ও পরিশোধনকারীকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রে ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয় আসাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে সোমবার এক উনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া থাকে প্রশ্ন তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই যেন কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক কিছু না থাকে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, কোনো একজন প্রশ্নকর্তা হয়তো এই প্রশ্নটি করেছেন। যিনি মডারেট করেছেন তার দৃষ্টিও হয়তো কোনো কারণে এড়িয়ে গেছে। তিনিও হয়ত স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি নিয়েছে। আমরা চিহ্নিত করছি এই প্রশ্নটি কে করেছেন এবং কে মডারেটর করেছেন। আমরা তাদের খুঁজে বের করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।