11:59 pm, Tuesday, 21 April 2026

এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড় মেসি

ডেস্ক রিপোর্ট : বয়স ৩৭ পেরিয়েছে, ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে। এখনো পুরস্কার জিতেই চলেছেন লিওনেল মেসি। সর্বশেষ সংযোজন আমেরিকান মেজর সকার লিগের (এমএলএস) ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ অ্যাওয়ার্ড। ক্যারিয়ারের ৭৯তম ব্যক্তিগত অ্যাওয়ার্ড জিতলেন আর্জেন্টাইন খুদেরাজ। গত কোপা আমেরিকার ফাইনালে পাওয়া চোটের কারণে মেজর লিগ সকারের শুরুতে ছিলেন না মেসি। তবে ফেরার পর দুর্দান্ত খেলেছেন। রেগুলার সিজনে ইন্টার মায়ামির রেকর্ড গড়ার কারিগর ছিলেন তিনি।

এই বছরের রেগুলার সিজনে মায়ামি পেয়েছে রেকর্ড ৭৪ পয়েন্ট। মেসি অবদান রেখেছেন ৩৬ গোলে। ইনজুরি থেকে ফিরে মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলে ২০ গোলের পাশাপাশি ১৬টি অ্যাসিস্ট, লিগ ইতিহাসের এক মৌসুমে পঞ্চম সর্বোচ্চ। প্রথমবারের মতো দল জিতেছে সাপোর্টার্স শিল্ড। মায়ামি ও মেসির মৌসুম শেষ হয় এমএলএস কাপ প্লে অফের প্রথম রাউন্ড থেকে হতাশার বিদায়ে।

প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে ২০২৩ সালের জুনে মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। তাই এবারই দলটির হয়ে পূর্ণ মৌসুম খেলার সুযোগ পান তিনি। তবে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকায় খেলার কারণে এবং চোটের ধাক্কায় ৬২ দিন মায়ামির সঙ্গে ছিলেন না ৩৭ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড। তারপরও অসাধারণ পারফরম্যান্সে সবাইকে ছাড়িয়ে যান মেসি। ১৯ ম্যাচ খেলে ২০টি গোল করার পাশাপাশি ১৬টি অ্যাসিস্টও করেন তিনি।

২০১৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সির রেকর্ড স্কোরার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তারকা ফুটবলার ল্যান্ডন ডোনোভ্যানের নামানুসারে পুরস্কারটির নামকরণ করা হয় ‘ল্যান্ডন ডোনাভ্যান এমএলএস মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার।’ খেলোয়াড়, গণমাধ্যমকর্মী ও ক্লাবগুলোর ভোটে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়। এমএলএসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৩৪.৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩.৭০ ভোট পেয়েছেন কলাম্বাস ক্রুর ফরোয়ার্ড কুচো এর্নান্দেস। লড়াইয়ে ছিলেন আরও তিন জন, তবে তারা কেউ ১০ শতাংশও ভোট পাননি। ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এমএলএসের আসরের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়লেন মেসি। মেসির হাত ধরেই এবার সবচেয়ে বড় প্রথমের জন্ম দেয় ক্লাবটি। মৌসুমজুড়ে দারুণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে প্রথমবারের মতো তারা জয় করে সাপোর্টার্স শিল্ড। কেবল তাই নয়, মেজর লিগ সকারে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ডও গড়ে দলটি, ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২২ জয় ও আট ড্রয়ে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে আসরের প্রথম ভাগ শেষ করে তারা।

তবে এমএলএস একেবারেই ভালো যায়নি মেসিদের। এমএলএস কাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করলেও, প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডেই হেরে ছিটকে পড়ে তারা। সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সেই আক্ষেপই ঝরল মেসির কণ্ঠে, ‘আমি অন্য এক পরিস্থিতিতে পুরস্কারটি পেতে চাই, রোববার ফাইনালে খেলে। এই বছর এমএলএস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল আমাদের। এবার সেটা পূর্ণ হয়নি, তবে আগামী বছর আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে আবার চেষ্টা করব।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড় মেসি

Update Time : 12:26:03 pm, Sunday, 8 December 2024

ডেস্ক রিপোর্ট : বয়স ৩৭ পেরিয়েছে, ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে। এখনো পুরস্কার জিতেই চলেছেন লিওনেল মেসি। সর্বশেষ সংযোজন আমেরিকান মেজর সকার লিগের (এমএলএস) ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ অ্যাওয়ার্ড। ক্যারিয়ারের ৭৯তম ব্যক্তিগত অ্যাওয়ার্ড জিতলেন আর্জেন্টাইন খুদেরাজ। গত কোপা আমেরিকার ফাইনালে পাওয়া চোটের কারণে মেজর লিগ সকারের শুরুতে ছিলেন না মেসি। তবে ফেরার পর দুর্দান্ত খেলেছেন। রেগুলার সিজনে ইন্টার মায়ামির রেকর্ড গড়ার কারিগর ছিলেন তিনি।

এই বছরের রেগুলার সিজনে মায়ামি পেয়েছে রেকর্ড ৭৪ পয়েন্ট। মেসি অবদান রেখেছেন ৩৬ গোলে। ইনজুরি থেকে ফিরে মাত্র ১৯ ম্যাচ খেলে ২০ গোলের পাশাপাশি ১৬টি অ্যাসিস্ট, লিগ ইতিহাসের এক মৌসুমে পঞ্চম সর্বোচ্চ। প্রথমবারের মতো দল জিতেছে সাপোর্টার্স শিল্ড। মায়ামি ও মেসির মৌসুম শেষ হয় এমএলএস কাপ প্লে অফের প্রথম রাউন্ড থেকে হতাশার বিদায়ে।

প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে ২০২৩ সালের জুনে মায়ামিতে যোগ দেন মেসি। তাই এবারই দলটির হয়ে পূর্ণ মৌসুম খেলার সুযোগ পান তিনি। তবে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকায় খেলার কারণে এবং চোটের ধাক্কায় ৬২ দিন মায়ামির সঙ্গে ছিলেন না ৩৭ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড। তারপরও অসাধারণ পারফরম্যান্সে সবাইকে ছাড়িয়ে যান মেসি। ১৯ ম্যাচ খেলে ২০টি গোল করার পাশাপাশি ১৬টি অ্যাসিস্টও করেন তিনি।

২০১৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সির রেকর্ড স্কোরার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক তারকা ফুটবলার ল্যান্ডন ডোনোভ্যানের নামানুসারে পুরস্কারটির নামকরণ করা হয় ‘ল্যান্ডন ডোনাভ্যান এমএলএস মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার।’ খেলোয়াড়, গণমাধ্যমকর্মী ও ক্লাবগুলোর ভোটে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়। এমএলএসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৩৪.৪৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩.৭০ ভোট পেয়েছেন কলাম্বাস ক্রুর ফরোয়ার্ড কুচো এর্নান্দেস। লড়াইয়ে ছিলেন আরও তিন জন, তবে তারা কেউ ১০ শতাংশও ভোট পাননি। ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এমএলএসের আসরের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়লেন মেসি। মেসির হাত ধরেই এবার সবচেয়ে বড় প্রথমের জন্ম দেয় ক্লাবটি। মৌসুমজুড়ে দারুণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে প্রথমবারের মতো তারা জয় করে সাপোর্টার্স শিল্ড। কেবল তাই নয়, মেজর লিগ সকারে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ডও গড়ে দলটি, ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২২ জয় ও আট ড্রয়ে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে আসরের প্রথম ভাগ শেষ করে তারা।

তবে এমএলএস একেবারেই ভালো যায়নি মেসিদের। এমএলএস কাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করলেও, প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডেই হেরে ছিটকে পড়ে তারা। সেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে সেই আক্ষেপই ঝরল মেসির কণ্ঠে, ‘আমি অন্য এক পরিস্থিতিতে পুরস্কারটি পেতে চাই, রোববার ফাইনালে খেলে। এই বছর এমএলএস চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল আমাদের। এবার সেটা পূর্ণ হয়নি, তবে আগামী বছর আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে আবার চেষ্টা করব।’