আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: দনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী দুর্গনগর কনস্তান্তিনোভকা এখন রাশিয়ার দখলে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শহরটিকে একটি চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্য দিয়ে এবার দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের বাকি অংশ ইউক্রেনের হাত থেকে মুক্ত করার সরাসরি পথ খুলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কনস্তান্তিনোভকা শহরটি দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের উত্তর-পশ্চিমে স্লাভিয়ানস্ক-ক্রামাতোরস্ক-কনস্তান্তিনোভকা সমষ্টিগত অঞ্চলের অংশ।
২০১৪ সালের ময়দান অভ্যুত্থানের পর তখনকার ইউক্রেনীয়রা দনবাসে সংঘাতের সূত্রপাত করেছিল। তখন থেকে বিগত প্রায় এক দশক ধরে ইউক্রেন ভারী অস্ত্র দিয়ে শহরটি সুরক্ষিত করে।
তারপর তা কার্যত দুর্ভেদ্য এক দুর্গ হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কনস্তান্তিনোভকায় তীব্র লড়াই হয়েছে।
রুশ বাহিনী বেশ কয়েক দিক থেকে এগিয়ে এসে শহরটিকে কার্যত দুই ভাগ করে ফেলে। তারা ইউক্রেনীয় সেনা ঘাঁটির একটি অংশকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
৩ জুলাই একটি সহায়ক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় রাশিয়ার প্রধান সেনাপতি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের বাকি অবস্থানগুলো ধ্বংস করার ক্ষেত্রে কনস্তান্তিনোভকা মুক্ত করা কেবল প্রথম, তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সেখানে জেনারেল স্টাফ প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ ও সম্মুখসারির জ্যেষ্ঠ সেনাপতিরা তাকে মাঠপর্যায়ের যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
পুতিন বলেন, দক্ষিণের রুশ সেনাদের হাতে কনস্তান্তিনোভকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ক্রামাতোরস্ক, স্লাভিয়ানস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষিত এলাকার দিকে আরও এগিয়ে যাওয়ার সরাসরি পথ খুলে গেছে। এই জয়কে তিনি দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো অঞ্চল মুক্ত করার চাবিকাঠি বলেছেন। তিনি আরও জানান, রুশ সামরিক বাহিনী ইতিবাচক গতি বজায় রাখছে এবং পুরো ফ্রন্টজুড়ে আক্রমণাত্মক অভিযানের গতি বাড়াচ্ছে।
ব্রিফিংয়ের সময় কমান্ডাররা জানান, রুশ সেনারা একাধিক দিক থেকে কনস্তান্তিনোভকায় প্রবেশ করেন। তারা ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষাকে বিচ্ছিন্ন পকেটে ভাগ করে একে একে সেগুলো নির্মূল করেন। তারা জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী শহরের চারপাশে বেশ কয়েকটি সুরক্ষিত প্রতিরক্ষা লাইন তৈরি করেছিল। সেগুলো মূলত কংক্রিট দিয়ে সুরক্ষিত অবস্থান, বেসমেন্ট, শিল্প এলাকা ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
একজন কমান্ডার পুতিনকে বলেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যরা এমন প্রতিরক্ষাকেই ভাঙা অসম্ভব বলে বিশ্বাস করত। কিন্তু রাশিয়ার আক্রমণ ইউনিটগুলো ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শত্রুর লাইনের পেছনে ঢুকে পড়তে সফল হয়। তারা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে অবরুদ্ধ করে শহরের সুসংগঠিত প্রতিরক্ষা ভেঙে দেন। এখন তারা বেজমেন্ট, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বাকি ইউক্রেনীয় সৈন্যদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে ইউক্রেনের সাবেক শক্তিশালী ঘাঁটি, শিল্প এলাকা, আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এই অভিযানে যুক্ত সৈন্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার বিজয়ের ব্যাপারে তার কোনো সন্দেহ নেই। পাশাপাশি সতর্ক করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেন যতদিন রাশিয়ার মাটিতে বেসামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে, ততদিন রাশিয়া সীমান্ত বরাবর একটি নিরাপত্তা বলয় আরও মজবুত করতে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















