12:31 am, Saturday, 29 August 2026

কাফুর পর এবার ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিলেন কার্লোস-ক্যানাভারো

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার বিতর্কিত পরিকল্পনা (যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছে) ঘিরে ফিফায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

এমন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন একদল সাবেক তারকা ফুটবলার, যাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের কাফু ও ইতালির ফাবিও ক্যানাভারো।

২০১৬ সাল থেকে ফিফার দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোর পক্ষে এই সমর্থন বার্তাগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন সাবেক ফরাসি ফুটবলার মিকায়েল সিলভেস্তের নেতৃত্বে অপর একটি দল ফিফায় ‘পরিবর্তন’ চেয়ে বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতার মোহে ‘অন্ধ’ বলে অভিযোগ করেছে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের অধিনায়ক ফাবিও ক্যানাভারো লেখেন, ‘গত দশ বছরে বিশ্ব ফুটবলের উন্নতি হয়েছে এবং খেলোয়াড়রা আবারও মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছে।

’ বর্তমানে উজবেকিস্তান জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে থাকা সাবেক এই ডিফেন্ডার আরও যোগ করেন, ‘ইনফান্তিনো দুর্দান্ত কাজ করছেন। এটা স্বীকার না করাটা হবে বুদ্ধিগত অসততা।

মঙ্গলবার রাতে প্রায় একই ধরনের বার্তা দেন লাতিন আমেরিকার একাধিক কিংবদন্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের রবার্তো কার্লোস, আর্জেন্টিনার হাভিয়ের জানেত্তি ও এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো, কলম্বিয়ার ইভান রামিরো কর্দোবা এবং মেক্সিকোর জারেদ বরগেত্তি।

১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক কাফু লেখেন, ‘খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব ও মর্যাদা বাড়াতে আমরা ফিফা ও সভাপতি ইনফান্তিনোর উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করছি, যা অতীতে ছিল না। এখন আমাদের মতামত শোনা হয়।’ একই ধাঁচে বিবৃতি দিয়েছেন এই গ্রুপের বাকি সাবেক ফুটবলাররাও।

এর আগে সোমবার ‘অনেক হয়েছে!’ স্লোগান তুলে ফিফায় আমূল পরিবর্তনের দাবি জানায় সাবেক ফুটবলারদের আরেকটি পক্ষ। তবে তারা সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করেননি। বর্ণবাদবিরোধী একটি সাবেক ফুটবলারদের প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে সিলভেস্তের উদ্যোগে তিন ভাষায় প্রকাশিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের দৃষ্টি এমনভাবে ঢেকে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের স্বার্থ এবং ফুটবলের প্রকৃত মঙ্গলের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারছে না।’

এই চিঠির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল পেতিত ও রবার্ত পিরেস, আর্জেন্টিনার হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, আইভরি কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবা এবং ইংল্যান্ড নারী দলের তারকা লুসি ব্রোঞ্জ। চিঠিতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখছি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

চতুর্দিক থেকে পদত্যাগের দাবি ও সমালোচনা উঠলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ইনফান্তিনো। ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা নির্বাচনে আবারও লড়তে চান তিনি। তবে ইউরোপের উয়েফা, উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফ এবং এশিয়ার এএফসি-সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী কনফেডারেশন ও জাতীয় ফেডারেশন ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কাফুর পর এবার ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিলেন কার্লোস-ক্যানাভারো

Update Time : 10:48:53 am, Thursday, 27 August 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার বিতর্কিত পরিকল্পনা (যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছে) ঘিরে ফিফায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

এমন টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন একদল সাবেক তারকা ফুটবলার, যাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের কাফু ও ইতালির ফাবিও ক্যানাভারো।

২০১৬ সাল থেকে ফিফার দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোর পক্ষে এই সমর্থন বার্তাগুলো এমন এক সময়ে এলো, যখন সাবেক ফরাসি ফুটবলার মিকায়েল সিলভেস্তের নেতৃত্বে অপর একটি দল ফিফায় ‘পরিবর্তন’ চেয়ে বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতার মোহে ‘অন্ধ’ বলে অভিযোগ করেছে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের অধিনায়ক ফাবিও ক্যানাভারো লেখেন, ‘গত দশ বছরে বিশ্ব ফুটবলের উন্নতি হয়েছে এবং খেলোয়াড়রা আবারও মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছে।

’ বর্তমানে উজবেকিস্তান জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে থাকা সাবেক এই ডিফেন্ডার আরও যোগ করেন, ‘ইনফান্তিনো দুর্দান্ত কাজ করছেন। এটা স্বীকার না করাটা হবে বুদ্ধিগত অসততা।

মঙ্গলবার রাতে প্রায় একই ধরনের বার্তা দেন লাতিন আমেরিকার একাধিক কিংবদন্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাজিলের রবার্তো কার্লোস, আর্জেন্টিনার হাভিয়ের জানেত্তি ও এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো, কলম্বিয়ার ইভান রামিরো কর্দোবা এবং মেক্সিকোর জারেদ বরগেত্তি।

১৯৯৪ ও ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক কাফু লেখেন, ‘খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব ও মর্যাদা বাড়াতে আমরা ফিফা ও সভাপতি ইনফান্তিনোর উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করছি, যা অতীতে ছিল না। এখন আমাদের মতামত শোনা হয়।’ একই ধাঁচে বিবৃতি দিয়েছেন এই গ্রুপের বাকি সাবেক ফুটবলাররাও।

এর আগে সোমবার ‘অনেক হয়েছে!’ স্লোগান তুলে ফিফায় আমূল পরিবর্তনের দাবি জানায় সাবেক ফুটবলারদের আরেকটি পক্ষ। তবে তারা সরাসরি ইনফান্তিনোর নাম উল্লেখ করেননি। বর্ণবাদবিরোধী একটি সাবেক ফুটবলারদের প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে সিলভেস্তের উদ্যোগে তিন ভাষায় প্রকাশিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের দৃষ্টি এমনভাবে ঢেকে দিয়েছে যে, তারা নিজেদের স্বার্থ এবং ফুটবলের প্রকৃত মঙ্গলের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারছে না।’

এই চিঠির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল পেতিত ও রবার্ত পিরেস, আর্জেন্টিনার হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, আইভরি কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবা এবং ইংল্যান্ড নারী দলের তারকা লুসি ব্রোঞ্জ। চিঠিতে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখছি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

চতুর্দিক থেকে পদত্যাগের দাবি ও সমালোচনা উঠলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ইনফান্তিনো। ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা নির্বাচনে আবারও লড়তে চান তিনি। তবে ইউরোপের উয়েফা, উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনকাকাফ এবং এশিয়ার এএফসি-সহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী কনফেডারেশন ও জাতীয় ফেডারেশন ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।