7:17 am, Wednesday, 29 April 2026

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কমলগঞ্জ লণ্ডভণ্ড: ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ, ভেঙেছে ১৭ খুঁটি

আকরামুল রাজ্জাক চৌধুরী : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের আঘাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববার সন্ধ্যার পর থেকে টানা প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো উপজেলা। এতে পৌরসভাসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। প্রবল বাতাস, বজ্রপাত ও টানা বৃষ্টির কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার, আলীনগর, পতনউষার, আদমপুর, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ির টিন উড়ে যায় এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্র। পৌরসভার কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত অফিসটির সামনে থাকা বিশাল আকৃতির একটি চামগাছ উপড়ে পড়ে সরাসরি ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর। এতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

গাছটি অফিসের সামনে রাখা ৩টি মোটরসাইকেল এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ওপর পড়ে সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোমবার দুপুর ২টার দিকে গাছটি কেটে সরানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং প্রায় ১৫০টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৬০টি বিদ্যুৎ মিটার নষ্ট হয়েছে। ঝড়ে শমসেরনগর, পতনউষার, মুন্সীবাজার ও আলীনগরসহ আশপাশের বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

শুধু বিদ্যুৎ নয়, ঝড়ে শতাধিক বসতঘরও আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে, গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। আদমপুর, ইসলামপুর, আলীনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওমর ফারুক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ৫৫টি ঘর আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, “ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুধু অভিযোগ কেন্দ্রেই বিশাল গাছ পড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য তার ছিঁড়ে গেছে। আমাদের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

টানা বিদ্যুৎহীনতা, গরম আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মোবাইল চার্জ, খাবার সংরক্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কমলগঞ্জ লণ্ডভণ্ড: ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ, ভেঙেছে ১৭ খুঁটি

Update Time : 08:57:41 am, Tuesday, 28 April 2026

আকরামুল রাজ্জাক চৌধুরী : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের আঘাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোববার সন্ধ্যার পর থেকে টানা প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল পুরো উপজেলা। এতে পৌরসভাসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। প্রবল বাতাস, বজ্রপাত ও টানা বৃষ্টির কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা, শমসেরনগর, মুন্সীবাজার, আলীনগর, পতনউষার, আদমপুর, ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ির টিন উড়ে যায় এবং বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় কমলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের অভিযোগ কেন্দ্র। পৌরসভার কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত অফিসটির সামনে থাকা বিশাল আকৃতির একটি চামগাছ উপড়ে পড়ে সরাসরি ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর। এতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

গাছটি অফিসের সামনে রাখা ৩টি মোটরসাইকেল এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ওপর পড়ে সেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোমবার দুপুর ২টার দিকে গাছটি কেটে সরানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং প্রায় ১৫০টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ৬০টি বিদ্যুৎ মিটার নষ্ট হয়েছে। ঝড়ে শমসেরনগর, পতনউষার, মুন্সীবাজার ও আলীনগরসহ আশপাশের বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

শুধু বিদ্যুৎ নয়, ঝড়ে শতাধিক বসতঘরও আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে, গাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি। আদমপুর, ইসলামপুর, আলীনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওমর ফারুক জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে ৫৫টি ঘর আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, “ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুধু অভিযোগ কেন্দ্রেই বিশাল গাছ পড়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং অসংখ্য তার ছিঁড়ে গেছে। আমাদের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

টানা বিদ্যুৎহীনতা, গরম আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মোবাইল চার্জ, খাবার সংরক্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।