হাসান আল মাহমুদ রাজু : কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা আমুলী গ্রামের প্রবাসী উকিল আলী ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সুতিনা বেগমের পুত্র সালমান আহমদ শাওন ব্রয়লার খামারের কাজে সফলতায় স্বাবলম্বী।
সালমান আহমদ শাওন (২৭) তিনি পৃথিমপাশা গ্রামের আমুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চব্বিশ বছর বয়সে প্রবাস জীবনে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি এক বছর থাকাকালীন প্রবাসে তেমন কোন উপার্জন করতে পারেননি। তখন তিনি ইউটিউবে বিভিন্ন খামারীদের উদ্যোগের সফলতা দেখে নিজের মনে উদ্যোগ এবং স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন। তখন তিনি প্রবাস জীবন থেকে অর্থায়নে ব্যর্থ হয়ে একঝাক স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরলেন। পরে নিজ গ্রামে প্রায় এক বছর বেকার ছিলেন। পরবর্তীতে শাওন সাহস করে বিশ হাজার টাকা নিয়ে সালমান এগ্রো খামার নামে ২০২৪ সালে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অগ্রযাত্রা শুরু করেন।
তরুণ উদ্যোক্তা সালমান প্রথম থেকে খামার শুরু করে ধাপে ধাপে এখন পর্যন্ত সাফল্যের পথে এগিয়ে রয়েছেন। প্রথমে তিনি টিনশেডের ঘরে প্রায় ২০০ পোল্ট্রি পালন করেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শাওনের বাড়িতে ছোটবড় পাঁচটি খামারের শেডঘর রয়েছে। সেখানে রয়েছে টাইগার, ফাওমি, ব্রয়লার মোরগ, জাপানি কোয়েল পাখি, টার্কি, কিং কোয়েল পাখি, হাঁস ও দেশি গরু রয়েছে। পাঁচটি শেডে প্রায় ১০ হাজারের অধিক মোরগ ও পাখি রয়েছে।
দেখা যায়, উদ্যোক্তা শাওনের ঘরে চারটি ইনকিউবেটর মেশিন রয়েছে। যার মাধ্যমে মোরগ ও পাখির ডিম ফুটানো হয়। চার মেশিনে প্রায় ১০ হাজার ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। মুরগির ডিম ২১ দিনে, হাঁসের ডিমে ২৮ দিনে, পাখির ডিম ১৮ দিনে ফুটিয়ে মাস দুয়েক মধ্য থেকে ছোট-বড় মোরগ, পাখি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা খামারে এসে ক্রয় করেন। অনেকেই সালমান এগ্রো ফেইসবুক পেইজ দেখে অনলাইনে ছোট বাচ্চা ক্রয় করেন।
এ বিষয়ে তরুণ উদ্যোক্তা সালমান আহমদ শাওন জানান, আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে প্রবাস জীবন ফেলে দিয়ে দেশে নিজের মতো কিছু করার উদ্যোগ নেই। যে উদ্যোগে আমি সফলতা অর্জন করতে পারি। সেটা আমার স্বপ্ন ভেবে সালমান এগ্রো নামে এই পোল্ট্রি খামারের উদ্যোগ নিই। প্রথমে অনেক ভয়ভীতি নিয়ে বিশ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচটি শেডে দশ হাজার মোরগ, পাখি, হাঁস ও গরু পালনে আমি প্রতি মাসে প্রায় এক লক্ষ টাকা আয় হয়। আমি মনে করি প্রবাস জীবন থেকে আমার নিজ দেশে এই পোল্ট্রি খামারের উদ্যোগ গ্রহণ করে আমি স্বাবলম্বী হই। আমার খামারে আমিসহ প্রায় ছয় জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমার বাবা ও মা আমার এই খামারে সকল প্রকার কাজে প্রতিনিয়ত সহযোগিতা করেন। আমি আশা করছি, আমার এই খামার থেকে আমি আরো অনেক লাভবান হতে পারব। আমি চাই আমার এই উদ্যো দেখে দেশের সকল তরুণেরা আমার মতো এই রকম উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের বেকারত্ব দূর করে নিজেরা স্বাবলম্বী হোক। খামারের কাজে কুলাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সর্বাধিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।
5:24 am, Thursday, 5 November 2026
News Title :
কুলাউড়ায় তরুণ খামার উদ্যোক্তা শাওনের সাফল্য
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - Update Time : 11:45:56 am, Sunday, 8 February 2026
- 244 Time View
Tag :
Popular Post
























