কুলাউড়া প্রতিনিধি: কুলাউড়ায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কোমল পানীয়র বোতল চুরির অভিযোগ এনে হাত-পা বেঁধে রুবেল মিয়া (১৫) ও জিবান আহমদ (১৬) নামের দুই কিশোরের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে রুবেল মিয়া নামের ওই কিশোর একজন মানসিক প্রতিবন্ধি। নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের বাড়ি উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের বাড়–য়াকান্দি গ্রামে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী রুবেলের ভাই রাসেল মিয়া বাদী হয়ে দোকান মালিক খালিদ হাসান রুমেলকে প্রধান আসামী করে আরো ৩-৪জনকে অজ্ঞাতনামা করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে কুলাউড়া থানার এসআই হারুনুর রশীদ ওই দোকান মালিক খালিদ হাসান ও কর্মচারী পাপ্পু পালকে গ্রেফতার করেন। শুক্রবার বিকেলে খালিদ ও পাপ্পুকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৯ জুলাই) বিকেলে বেঙ্গল ফুডের পরিবেশক খালিদ হাসান রুমেলের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় খালিদ প্রতিবন্ধী কিশোর রুবেল মিয়াকে দিয়ে মালবাহী গাড়ি থেকে পণ্য নামানোর কাজ করান। এসময় প্রতিবন্ধি ওই কিশোর কোমল পানীয় একটি “টাইগার’ নিয়ে যায়। বিষয়টি দেখে দোকান মালিক খালিদ হাসান তার দোকানের কয়েকজন কর্মচারীসহ রুবেল মিয়াকে আটক করে। এই সময় রুবেলের চাচাতো ভাই জিবান আহমদ এগিয়ে আসলে তাদের দুজনকে আটক করে বেঙ্গল ফুডের উপরে একটি জিমনেশিয়াম সেন্টারে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নির্যাতন চালিয়ে মারপিট করে জখম করে। নির্যাতনের পর চুরির অভিযোগে রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির অফিসে উল্লেখিত দুই কিশোরকে নেওয়া হলে সমিতির নেতৃবৃন্দরা সাদা কাগজে নির্যাতিত দুই কিশোরের অভিভাবকদের স্বাক্ষর নিয়ে দুইশত টাকা জরিমানা করে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বদরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হাই, কোষাধ্যক্ষ খলিল মিয়াসহ সমিতির অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে আহত দুই কিশোরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চিকিৎসা করানো হয়।
নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের বরাত দিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরের বড় ভাই রাসেল জানান, প্রচন্ড গরমের মধ্যে কাজ শেষের দিকে তাঁর ভাই রুবেল তৃষ্ণা মেটাতে গাড়ি থেকে কোমল পানীয়র একটি বোতল নিয়ে যায়। এ সময় খালিদ ও তাঁর দোকানের কর্মচারীরা চুরির অভিযোগ এনে রুবেলকে আটক করেন। পরে আমার ভাই ও চাচাতো ভাই জিবানকে ব্যবসায়ী খালিদ তার জিমনেশিয়ামের ভেতরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রড এবং ইলেকট্রিক ক্যাবল দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে নির্যাতন চালান।
অভিযুক্ত খালিদ হাসান রুমেল আটক হওয়ার আগে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশীদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দুই কিশোরের ওপর নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে এভাবে মারধর না করে বিষয়টি আগেই প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ নাজমুস সিয়াম রাফি বলেন, দুই কিশোরের মধ্যে মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোর রুবেলের পিঠ ও বুকে বেশি আঘাতের চিহ্ন ছিল। দুই কিশোরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুছ ছালেক বলেন, প্রতিবন্ধী কিশোর রুবেল মিয়ার ভাই রাসেল বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে শিশু আইনে মামলা রুজু করা হয়। গ্রেপ্তার খালিদ ও পাপ্পুকে মৌলভীবাজারের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























