শুভ গোয়ালা :: শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। বর্ষার দিনে নানা রঙের ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় আমাদের চারপাশ। তারমধ্যে টগর ফুল একটি। সন্ধ্যা নামলে ঝোপঝাড়বিশিষ্ট চিরসবুজ গাছ টগর ফুল চারিদিকে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে।
টগর ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Tabernaemontana divaricata. সিলেট অঞ্চলে অনেকেই এই ফুলটিকে দুধফুল হিসেবে চিনে থাকে। এটি কলম করে চারা করা যায়, আবার বর্ষাকালে ডাল মাটিতে পুতলেও হয়েযায় । টগর সমতল ভূমির গাছ হলেও পাহাড়ে এদের বেশ উপস্থিতি রয়েছে। এর পাতা চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা থাকে। টগর ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। এক একটি ডালে প্রায় ১২-১৫ টি প্রতিদিন ফুল ফুটে থাকে।
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লোহাইনি ,হিংগাজিয়া চা-বাগান, কুলাউড়ার বেশ কিছু এলাকায় ঘুরে দেখা যায় এই ফুল রাস্তার পাশে, ছোট্ট ছোট্ট টিলায়, বাশ বাগানে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের ঝোপঝাড়ে এই ফুলগাছ অনেক দেখা যায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই ফুল দিয়ে পূজা করে থাকেন । আর গ্রামের ছোট শিশুরা গাছ থেকে ফুল ছিঁড়ে খেলা করে থাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টগর ফুল দিনের আলোতে রাস্তার পাশে যেন সেজে ওঠেছে রূপবৈচিত্র্যে। রাস্তার দুই পাশে টগর ফুল, আর সেই রাস্তা দিয়ে হেটে কিংবা গাড়িতে গেলে মনে হয় কেউকে যেন স্বাগত জানাতে এই সব প্রস্তুতি।
চিকিৎসক সঞ্জয় যাদব বলেন, আমি সিলেটে থেকে আমার গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ার উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার এলাকায় ঘুরতে গেলে দেখি, রাস্তার পাশে সারি সারি টগর ফুল। দেখে মনে হয় অন্য একটি রাজ্যে আগমন হয়েছে আমার।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের বোটানিক্যাল বিভাগের ছাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘ টগর ফুলের শিকড় ব্যবহার করা হয় দাঁতের ব্যাথা, চুলকানির উপশম হিসেবে। যদিও একক টগরের কোনো সুগন্ধ নেই, কিন্তু থোকা টগরের আছে মিষ্টি সুগন্ধি যা মৌমাছি কিংবা প্রজাপতির মত পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে সহজেই। এটি ফুলের বাগান ছাড়াও ঝোপঝাড়ে ও জঙ্গলে টগর ফুল এমনিতেই জন্মে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের বনভূমি উজাড় হওয়ার হিড়িক যে হারে শুরু হয়েছে তাতে এই গাছটি ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























