11:03 pm, Tuesday, 7 July 2026

চোখ যতদূর যায় শুধু মানুষ: কোমে শহীদ খামেনির অশ্রুসিক্ত বিদায়

ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের ধর্মনগরী কোম আজ মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের শেষ বিদায় জানাতে পবিত্র জামকারান মসজিদ ও হযরত ফাতিমা মাসুমা (সালামুল্লাহে আলাইহার)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছেন লাখ লাখ শোকাহত মানুষ।

ইরানের শীর্ষ স্থানীয় আলেম গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে পবিত্র জামকারান মসজিদ প্রাঙ্গণে শহীদ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজার নামাজ পড়ান। ধর্মীয় আলেম, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই জানাজায় অংশ নেন।

জানাজার নামাজ শেষে শহীদ নেতার মরদেহ ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের মরদেহ জামকারান মসজিদ থেকে হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা. আ.)-এর পবিত্র মাজারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। শহীদদের কফিন শোকযাত্রার পুরো পথজুড়ে মানুষের ঢল নামে।

জানাজা পড়ান আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি
জানাজা নামাজ পড়ান আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামকারান মসজিদ থেকে শুরু হওয়া এই শোকযাত্রা সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পয়গাম্বর আজম বুলেভার্ড অতিক্রম করে হজরত মাসুমা (সা. আ.)-এর পবিত্র মাজার পর্যন্ত যায়।

শোকযাত্রার পুরো পথে মানুষ ধর্মীয় ও আবেগঘন স্লোগান দেন।

গভীর শোক ও বেদনার পরিবেশে তারা শহীদ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ শেষ বিদায় জানান।
আহলে বাইতের (আ.) শোকগাথা পরিবেশনকারী শিল্পীরা মাতম ও শোকগাথার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিক পরিবেশ আরও গভীর করে তোলেন এবং শোকাহত মানুষকে বিদায়যাত্রায় সঙ্গ দেন।

অনেক শোকাহত মানুষের হাতে শহীদ নেতা এবং আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেয়ীর ছবি দেখা গেছে। পুরো শোকযাত্রার পথে কালো শোকের পতাকা ও লাল পতাকা ওড়ে।

সোমবার বিকেল থেকেই ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে মানুষ কোমে আসতে শুরু করেন। রাত পেরোনোর আগেই জামকারান মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ, আশপাশের সড়ক ও অপেক্ষার স্থানগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার মানুষ দোয়া, কান্না ও শোকের আবহে তাদের প্রিয় নেতার শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় পতাকা এবং লাল পতাকা, যাতে লেখা ছিল ‘ইয়া লিসারাতিল হুসাইন’ (হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ নাও)। পায়ে হেঁটে ও যানবাহনে করে আসা মানুষের মিছিল একসময় কোমের সড়কগুলোকে মানুষের এক অবিচ্ছিন্ন স্রোতে পরিণত করে।


কোমের এই বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি জানাজা ছিল না, এটি ছিল শোক, ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক বিরল প্রকাশ। শহরের যেদিকেই চোখ যায়, দেখা যায় মানুষের সারি। মনে হচ্ছিল, পুরো কোম শহর যেন একসঙ্গে শোক পালন করছে এবং একই দোয়ার কাতারে দাঁড়িয়ে আছে।

আকাশ থেকে ধারণ করা দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া মানুষের সারি হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা. আ.)-এর মাজার থেকে শুরু করে পবিত্র জামকারান মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি কোমের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দৃশ্য হয়ে থাকবে।

শোকাহত মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল দোয়া ও প্রিয় নেতার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। অনেকের হাতে ছিল শহীদ নেতার ছবি, আবার অনেকে ধর্মীয় স্লোগান ও শোকগাথার মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

বিদায় শেষ নয়, স্মৃতির নতুন অধ্যায়

জানাজার নামাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় প্রমাণ করেছে, তাদের কাছে এই মুহূর্ত শুধু একজন নেতার বিদায় নয়, বরং একটি আদর্শ, একটি সংগ্রাম এবং একটি ঐতিহাসিক সময়ের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

এর আগের দিন সোমবার রাজধানী তেহরানেও শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল। রাজধানীর রাস্তাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ার পর এবার পবিত্র নগরী কোমও প্রত্যক্ষ করল এক অভূতপূর্ব শোকযাত্রা।

শহীদ নেতার চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার পবিত্র মাশহাদ শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে অষ্টম শিয়া ইমাম হজরত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে সমাহিত করা হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

চোখ যতদূর যায় শুধু মানুষ: কোমে শহীদ খামেনির অশ্রুসিক্ত বিদায়

Update Time : 09:34:29 am, Tuesday, 7 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের ধর্মনগরী কোম আজ মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের শেষ বিদায় জানাতে পবিত্র জামকারান মসজিদ ও হযরত ফাতিমা মাসুমা (সালামুল্লাহে আলাইহার)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছেন লাখ লাখ শোকাহত মানুষ।

ইরানের শীর্ষ স্থানীয় আলেম গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে পবিত্র জামকারান মসজিদ প্রাঙ্গণে শহীদ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজার নামাজ পড়ান। ধর্মীয় আলেম, সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই জানাজায় অংশ নেন।

জানাজার নামাজ শেষে শহীদ নেতার মরদেহ ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের মরদেহ জামকারান মসজিদ থেকে হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা. আ.)-এর পবিত্র মাজারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। শহীদদের কফিন শোকযাত্রার পুরো পথজুড়ে মানুষের ঢল নামে।

জানাজা পড়ান আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি
জানাজা নামাজ পড়ান আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামকারান মসজিদ থেকে শুরু হওয়া এই শোকযাত্রা সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পয়গাম্বর আজম বুলেভার্ড অতিক্রম করে হজরত মাসুমা (সা. আ.)-এর পবিত্র মাজার পর্যন্ত যায়।

শোকযাত্রার পুরো পথে মানুষ ধর্মীয় ও আবেগঘন স্লোগান দেন।

গভীর শোক ও বেদনার পরিবেশে তারা শহীদ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ শেষ বিদায় জানান।
আহলে বাইতের (আ.) শোকগাথা পরিবেশনকারী শিল্পীরা মাতম ও শোকগাথার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিক পরিবেশ আরও গভীর করে তোলেন এবং শোকাহত মানুষকে বিদায়যাত্রায় সঙ্গ দেন।

অনেক শোকাহত মানুষের হাতে শহীদ নেতা এবং আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেয়ীর ছবি দেখা গেছে। পুরো শোকযাত্রার পথে কালো শোকের পতাকা ও লাল পতাকা ওড়ে।

সোমবার বিকেল থেকেই ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে মানুষ কোমে আসতে শুরু করেন। রাত পেরোনোর আগেই জামকারান মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ, আশপাশের সড়ক ও অপেক্ষার স্থানগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভোর হওয়ার আগেই হাজার হাজার মানুষ দোয়া, কান্না ও শোকের আবহে তাদের প্রিয় নেতার শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় পতাকা এবং লাল পতাকা, যাতে লেখা ছিল ‘ইয়া লিসারাতিল হুসাইন’ (হুসাইনের রক্তের প্রতিশোধ নাও)। পায়ে হেঁটে ও যানবাহনে করে আসা মানুষের মিছিল একসময় কোমের সড়কগুলোকে মানুষের এক অবিচ্ছিন্ন স্রোতে পরিণত করে।


কোমের এই বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি জানাজা ছিল না, এটি ছিল শোক, ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক বিরল প্রকাশ। শহরের যেদিকেই চোখ যায়, দেখা যায় মানুষের সারি। মনে হচ্ছিল, পুরো কোম শহর যেন একসঙ্গে শোক পালন করছে এবং একই দোয়ার কাতারে দাঁড়িয়ে আছে।

আকাশ থেকে ধারণ করা দৃশ্যগুলোতে দেখা যায়, জানাজার নামাজে অংশ নেওয়া মানুষের সারি হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা. আ.)-এর মাজার থেকে শুরু করে পবিত্র জামকারান মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মানুষের এই বিপুল উপস্থিতি কোমের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দৃশ্য হয়ে থাকবে।

শোকাহত মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, কণ্ঠে ছিল দোয়া ও প্রিয় নেতার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। অনেকের হাতে ছিল শহীদ নেতার ছবি, আবার অনেকে ধর্মীয় স্লোগান ও শোকগাথার মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

বিদায় শেষ নয়, স্মৃতির নতুন অধ্যায়

জানাজার নামাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ। লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় প্রমাণ করেছে, তাদের কাছে এই মুহূর্ত শুধু একজন নেতার বিদায় নয়, বরং একটি আদর্শ, একটি সংগ্রাম এবং একটি ঐতিহাসিক সময়ের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

এর আগের দিন সোমবার রাজধানী তেহরানেও শহীদ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছিল। রাজধানীর রাস্তাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ার পর এবার পবিত্র নগরী কোমও প্রত্যক্ষ করল এক অভূতপূর্ব শোকযাত্রা।

শহীদ নেতার চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার পবিত্র মাশহাদ শহরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে অষ্টম শিয়া ইমাম হজরত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে সমাহিত করা হবে।