1:11 am, Monday, 31 August 2026

জিম্মি থাকা কার্গো মুক্ত করলো তুরস্ক ও সোমালি বাহিনী, ১৪ জলদস্যু নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সোমালিয়ার আংশিক স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড রাজ্যের উপকূলের কাছে জলদস্যুদের হাতে বন্দি থাকা একটি কার্গো জাহাজকে মুক্ত করেছে তুর্কি ও সোমালি বাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যামেরুন পতাকাবাহী ‘এমভি লাতুফ’ জাহাজটিকে মুক্ত করার এ অভিযানে ‘১৪ জন জলদস্যু’ নিহত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, তাদের চারটি নৌকাও ধ্বংস করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাহিনীর অব্যাহত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাকি জলদস্যুরা জাহাজটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, যার ফলে বাহিনীগুলো জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, সোমালিয়ার উপকূল রক্ষা করা এবং জলদস্যুতা রোধের লক্ষ্যে সোমালিয়া ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো হতাহতের ঘটনা বা জাহাজের নাবিকদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি।

পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের গোদোব জিরায়ন জেলার জিফ্লে সম্প্রদায়ের একজন স্থানীয় মুরব্বি আবদুল্লাহি ওয়ারসামে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, জাহাজটি ও এর সংশ্লিষ্টরা মুক্ত হয়েছেন।

‘এমভি লাতুফ’ জাহাজটি গত জুলাই মাসের শেষের দিকে তুরস্কের টেকিরদাগ বন্দর ছাড়ে।

এরপর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আংশিক স্বায়ত্তশাসিত ফেডারেল রাজ্য পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় গত ১৭ আগস্ট এটি অপহরণের শিকার হয়।
মেরিন ট্রাফিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো জাহাজটি তানজানিয়ার দারুস সালামে এর নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

২০০০-এর দশকে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা মারাত্মক রূপ নিয়েছিল ও ২০১১ সালে তা চরমে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা দমন করা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (আইএমও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাস থেকে এ ধরনের হামলা আবার বেড়ে গেছে। চলতি বছর সোমালিয়া উপকূলে অন্তত ১৫টি হামলা হয়েছে, যা ২০১৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। এছাড়া অন্তত পাঁচটি কার্গো জাহাজকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে, সর্বশেষ জাহাজটি গত ২০ আগস্ট ইয়েমেন উপকূল থেকে ছিনতাই করা হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিদেশ গমন উপলক্ষে নাইম আহমদ কে বিদায় সংবর্ধনা দেন।বন্দু মহল।

জিম্মি থাকা কার্গো মুক্ত করলো তুরস্ক ও সোমালি বাহিনী, ১৪ জলদস্যু নিহত

Update Time : 07:48:49 am, Sunday, 30 August 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সোমালিয়ার আংশিক স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড রাজ্যের উপকূলের কাছে জলদস্যুদের হাতে বন্দি থাকা একটি কার্গো জাহাজকে মুক্ত করেছে তুর্কি ও সোমালি বাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যামেরুন পতাকাবাহী ‘এমভি লাতুফ’ জাহাজটিকে মুক্ত করার এ অভিযানে ‘১৪ জন জলদস্যু’ নিহত হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, তাদের চারটি নৌকাও ধ্বংস করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাহিনীর অব্যাহত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাকি জলদস্যুরা জাহাজটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, যার ফলে বাহিনীগুলো জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা, সোমালিয়ার উপকূল রক্ষা করা এবং জলদস্যুতা রোধের লক্ষ্যে সোমালিয়া ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

সোমালি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো হতাহতের ঘটনা বা জাহাজের নাবিকদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি।

পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের গোদোব জিরায়ন জেলার জিফ্লে সম্প্রদায়ের একজন স্থানীয় মুরব্বি আবদুল্লাহি ওয়ারসামে দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, জাহাজটি ও এর সংশ্লিষ্টরা মুক্ত হয়েছেন।

‘এমভি লাতুফ’ জাহাজটি গত জুলাই মাসের শেষের দিকে তুরস্কের টেকিরদাগ বন্দর ছাড়ে।

এরপর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আংশিক স্বায়ত্তশাসিত ফেডারেল রাজ্য পুন্টল্যান্ডের নুগাল অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় গত ১৭ আগস্ট এটি অপহরণের শিকার হয়।
মেরিন ট্রাফিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো জাহাজটি তানজানিয়ার দারুস সালামে এর নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

২০০০-এর দশকে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুতা মারাত্মক রূপ নিয়েছিল ও ২০১১ সালে তা চরমে পৌঁছেছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা দমন করা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (আইএমও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাস থেকে এ ধরনের হামলা আবার বেড়ে গেছে। চলতি বছর সোমালিয়া উপকূলে অন্তত ১৫টি হামলা হয়েছে, যা ২০১৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। এছাড়া অন্তত পাঁচটি কার্গো জাহাজকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে, সর্বশেষ জাহাজটি গত ২০ আগস্ট ইয়েমেন উপকূল থেকে ছিনতাই করা হয়।

সূত্র: আল জাজিরা