3:27 am, Sunday, 30 August 2026

জুড়ী-বড়লেখায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব

সাইফুল ইসলাম সুমন :: বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখায় শেষ হয়েছে দুর্গাপূজা। রোববার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে বিভিন্ন নদী ঘাটে ও পুকুর ঘাটে প্রতীমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা বিজিবি। স্থানীয় নিউ সমনবাগ চা বাগান সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ৯ অক্টোবর থেকে দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন দেশব্যাপী পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ হয়।

বিজয়া দশমীতে পূজা উদযাপনের একটি প্রধান আচার হিসেবে নারীরা সিদুঁর খেলায় অংশ নেন। মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে, যা ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলার অঙ্গ। এই আচারটি দেবী দুর্গার শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং হিন্দু নারীরা একে অপরের গায়ে সিঁদুর মাখিয়ে সমৃদ্ধির কামনা করেন।

প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গলঘটে নিয়ে তা আবার হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা বিজিবি।

এদিকে ওইদিন বিকেলে বড়লেখা উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগান সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম।

এসময় বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম এর উপস্থিতিতে নিউ সমনবাগ চা বাগান সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরের প্রতীমা পাশের বড় পুকুরঘাটে শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল ও ঢাকঢোলের বাজনার সাথে দেবী বন্দনার গানের মাধ্যমে প্রতীমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। ঘাটে হাজারো মানুষ প্রতিমা বিসর্জন দেখার জন্য জড়ো হয়েছেন। বিসর্জনের সময় অনেক ভক্ত অশ্রুসিক্ত হন, আবার অনেকেই এই মুহূর্তটি উদযাপন করতে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। বিসর্জনের আয়োজন দুর্গা পূজার স্থায়ী সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে।

এসময় বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম, দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি তপন কুমার দাশ, নিউ সমনবাগ চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কন্ধ মুন্ডা, সাধারণ সম্পাদক কালি প্রসাদ ভর, পূজা পরিচালনা কমিটির উপদেষ্ঠা গঙ্গেশ রঞ্জন দেব, সভাপতি নারায়ন কালোয়ার, সাধারণ সম্পাদক রাঙাচরণ সাওতাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অজিত রবি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম জানান, দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে গত ৭ দিন ধরে বিজিবি পূজামন্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেছে। পূজা কমিটির সমন্বয়করাসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় ও নজরদারির কারণে শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

পূজা কমিটির উপদেষ্ঠা গঙ্গেশ রঞ্জন দেব ও সভাপতি নারায়ন কালোয়ার বলেন, সবার আন্তরিকতায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। চার দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার পঞ্চম দিনে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নেন দেবী দুর্গা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গতিনাশিনী দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ বছর পূজায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতির পাশাপাশি বিজিবি’র কার্যক্রম খুবই প্রশংসিত। বিজিবি আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন।তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোসহ সাধারণ মানুষের আন্তরিকতায় ভিন্ন এক আনন্দময় পরিবেশে শেষ হলো দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন তার ভক্তকুল। মর্ত্যে ‘বাবার বাড়ি’ বেড়ানো শেষে ঘোড়ায় চড়ে ‘কৈলাসে দেবালয়ে’ ফিরেছেন আনন্দময়ী দুর্গা। এবার মায়ের কাছে অসুর শক্তির বিনাশের প্রার্থনা করেছেন তার সন্তানরা।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ভুরভুরিয়া চা-বাগানে সবুজের স্বপ্নকয়েক শতাধিক ফলজ-বনজ গাছ রোপণ

জুড়ী-বড়লেখায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হলো দুর্গোৎসব

Update Time : 08:52:32 am, Monday, 14 October 2024

সাইফুল ইসলাম সুমন :: বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখায় শেষ হয়েছে দুর্গাপূজা। রোববার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে বিভিন্ন নদী ঘাটে ও পুকুর ঘাটে প্রতীমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা বিজিবি। স্থানীয় নিউ সমনবাগ চা বাগান সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেওয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী তিথিতে ‘আনন্দময়ীর’ আগমনে গত ৯ অক্টোবর থেকে দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। পরবর্তী ৫ দিন দেশব্যাপী পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের শেষ হয়।

বিজয়া দশমীতে পূজা উদযাপনের একটি প্রধান আচার হিসেবে নারীরা সিদুঁর খেলায় অংশ নেন। মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে, যা ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলার অঙ্গ। এই আচারটি দেবী দুর্গার শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং হিন্দু নারীরা একে অপরের গায়ে সিঁদুর মাখিয়ে সমৃদ্ধির কামনা করেন।

প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গলঘটে নিয়ে তা আবার হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে গেলেন স্বর্গলোকের কৈলাসে স্বামীর ঘরে। পরের বছর শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে যা তার বাবার গৃহ। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা বিজিবি।

এদিকে ওইদিন বিকেলে বড়লেখা উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগান সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম।

এসময় বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম এর উপস্থিতিতে নিউ সমনবাগ চা বাগান সার্বজনিন দূর্গা মন্দিরের প্রতীমা পাশের বড় পুকুরঘাটে শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল ও ঢাকঢোলের বাজনার সাথে দেবী বন্দনার গানের মাধ্যমে প্রতীমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। ঘাটে হাজারো মানুষ প্রতিমা বিসর্জন দেখার জন্য জড়ো হয়েছেন। বিসর্জনের সময় অনেক ভক্ত অশ্রুসিক্ত হন, আবার অনেকেই এই মুহূর্তটি উদযাপন করতে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। বিসর্জনের আয়োজন দুর্গা পূজার স্থায়ী সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরে।

এসময় বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম, দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি তপন কুমার দাশ, নিউ সমনবাগ চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কন্ধ মুন্ডা, সাধারণ সম্পাদক কালি প্রসাদ ভর, পূজা পরিচালনা কমিটির উপদেষ্ঠা গঙ্গেশ রঞ্জন দেব, সভাপতি নারায়ন কালোয়ার, সাধারণ সম্পাদক রাঙাচরণ সাওতাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অজিত রবি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মেহেদী হাসান পিপিএম জানান, দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে গত ৭ দিন ধরে বিজিবি পূজামন্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেছে। পূজা কমিটির সমন্বয়করাসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় ও নজরদারির কারণে শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

পূজা কমিটির উপদেষ্ঠা গঙ্গেশ রঞ্জন দেব ও সভাপতি নারায়ন কালোয়ার বলেন, সবার আন্তরিকতায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। চার দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার পঞ্চম দিনে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নেন দেবী দুর্গা। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নানা আনন্দ আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গতিনাশিনী দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ বছর পূজায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতির পাশাপাশি বিজিবি’র কার্যক্রম খুবই প্রশংসিত। বিজিবি আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন।তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোসহ সাধারণ মানুষের আন্তরিকতায় ভিন্ন এক আনন্দময় পরিবেশে শেষ হলো দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন তার ভক্তকুল। মর্ত্যে ‘বাবার বাড়ি’ বেড়ানো শেষে ঘোড়ায় চড়ে ‘কৈলাসে দেবালয়ে’ ফিরেছেন আনন্দময়ী দুর্গা। এবার মায়ের কাছে অসুর শক্তির বিনাশের প্রার্থনা করেছেন তার সন্তানরা।