9:49 pm, Thursday, 6 August 2026

ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লং মার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ একা‌ধিক দা‌বি‌তে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমা‌বেশসহ দে‌শের চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা ক‌রেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

কর্মসূ‌চির ম‌ধ্যে র‌য়ে‌ছে-আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লং মার্চ, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরে, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লং মার্চ শেষ হবে।জামায়াত আমির বলেন, “লং মার্চের পাশাপাশি রাজপথে বেশ কয়েকটি সভা হবে। খুলনার লং মার্চের পরে যশোর ও কুষ্টিয়া হয়ে ঢাকায় ফিরবে ১১ দলীয় ঐক্য। অন্য লং মার্চগুলো বাসযোগে হলেও সিলেটে হবে রেলপথে।

সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ লং মার্চে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ জানান জামায়াতের আমির। বাধা দিলে সেই লং মার্চ দ্বিগুণ শক্তি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তেল–গ্যাস–বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানান জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, “তাদের আন্দোলন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচারের দাবিতে। তারা জীবিত থাকতে গণহত্যা ও গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে আস্ফালন করতে পারবে না।”

ইতিমধ্যে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখ করে দাম কমানোর দাবি জানান শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দাম না কমালে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন।১১ দ‌লের শীর্ষ‌নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সরকার যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে।”

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ কথা বলেন।


গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করার পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানি‌য়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। গ্যাস নেই, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল দিতে হচ্ছে। এসব কারণে নারীরা রাস্তাঘাটে নেমে আসছেন, হাঁড়ি পাতিল নিয়ে মিছিল করছেন। গণভোটের গণরায় যে সরকার মানে না, তারা জনগণের কোনো দাবি দাওয়া পূরণ করবে না। নির্বাচনের শুরু থেকে সরকার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেটি তারা পদে পদে করে যাবে। সরকারকে সেটি করতে দেওয়া যাবে না।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালে বর্ষাবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। প্রয়োজনে ২০২৬ সালেও হবে। সরকার পাঁচ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। প্রতিশ্রুতি দিয়েও একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।”

ক্যাম্পাসগুলোয় ক্ষমতাসীন ছাত্রদল নির্বিচার ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ছাত্রদল এখন পুরনো কায়দায় ক্যাম্পাস দখলের পাঁয়তারা করছে। জুলাই যোদ্ধারা এখনো ক্যাম্পাসগুলোতে রয়েছে।”

তারা যেন ক্যাম্পাসের দখলদারত্ব ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনকে না দেয়, সেই আহ্বান জানান তিনি।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “আওয়ামী লীগের পতনের পরে বিএনপির ২০ লক্ষাধিক লোকের কাজের সুযোগ হয়েছে। তারা বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। দেশ পরিচালনায় যোগ্য লোক লাগে। ঋণখেলাপিদের দিয়ে দেশ চালানো যাবে না। সে জন্য সরকারের ওপর বেশি আশা করা যাবে না। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য যা করা দরকার, সেটাই করতে হবে।”

বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, ডিপিডিসি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আনম বজলুর রহমান প্রমুখ।

‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস-সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির’ প্রতিবাদে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় ঐক্য এই অবস্থান কর্মসূচি পালন ক‌রে।

কর্মসূচিতে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, গত তিন মাসে আদায় করা সব ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অবিলম্বে গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং অন্য সব অযৌক্তিক ও অবৈধ চার্জ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। গত তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য খাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ কোনো আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দিতে হবে।

বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোস্টপেইড বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে মিটার রিডিং লগ সংযুক্ত করতে হবে এবং প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও বিলিং ব্যবস্থার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট পরিচালনা করতে হবে।

‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’—এই নীতি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং সরবরাহহীন সময়ের জন্য কোনো বিল আদায় করা যাবে না। গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ পরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।


গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা করতে হবে। এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্কুলে ভর্তিতে দ্বিতীয়-নবমে পরীক্ষা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি

ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লং মার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

Update Time : 01:00:30 pm, Thursday, 6 August 2026

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ একা‌ধিক দা‌বি‌তে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমা‌বেশসহ দে‌শের চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা ক‌রেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

কর্মসূ‌চির ম‌ধ্যে র‌য়ে‌ছে-আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লং মার্চ, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরে, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লং মার্চ শেষ হবে।জামায়াত আমির বলেন, “লং মার্চের পাশাপাশি রাজপথে বেশ কয়েকটি সভা হবে। খুলনার লং মার্চের পরে যশোর ও কুষ্টিয়া হয়ে ঢাকায় ফিরবে ১১ দলীয় ঐক্য। অন্য লং মার্চগুলো বাসযোগে হলেও সিলেটে হবে রেলপথে।

সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ লং মার্চে বাধা না দেওয়ার অনুরোধ জানান জামায়াতের আমির। বাধা দিলে সেই লং মার্চ দ্বিগুণ শক্তি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তেল–গ্যাস–বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানান জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, “তাদের আন্দোলন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের গণহত্যার বিচারের দাবিতে। তারা জীবিত থাকতে গণহত্যা ও গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে আস্ফালন করতে পারবে না।”

ইতিমধ্যে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখ করে দাম কমানোর দাবি জানান শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দাম না কমালে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন।১১ দ‌লের শীর্ষ‌নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সরকার যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে।”

এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ কথা বলেন।


গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করার পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানি‌য়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। গ্যাস নেই, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল দিতে হচ্ছে। এসব কারণে নারীরা রাস্তাঘাটে নেমে আসছেন, হাঁড়ি পাতিল নিয়ে মিছিল করছেন। গণভোটের গণরায় যে সরকার মানে না, তারা জনগণের কোনো দাবি দাওয়া পূরণ করবে না। নির্বাচনের শুরু থেকে সরকার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেটি তারা পদে পদে করে যাবে। সরকারকে সেটি করতে দেওয়া যাবে না।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালে বর্ষাবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। প্রয়োজনে ২০২৬ সালেও হবে। সরকার পাঁচ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। প্রতিশ্রুতি দিয়েও একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।”

ক্যাম্পাসগুলোয় ক্ষমতাসীন ছাত্রদল নির্বিচার ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ছাত্রদল এখন পুরনো কায়দায় ক্যাম্পাস দখলের পাঁয়তারা করছে। জুলাই যোদ্ধারা এখনো ক্যাম্পাসগুলোতে রয়েছে।”

তারা যেন ক্যাম্পাসের দখলদারত্ব ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনকে না দেয়, সেই আহ্বান জানান তিনি।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, “আওয়ামী লীগের পতনের পরে বিএনপির ২০ লক্ষাধিক লোকের কাজের সুযোগ হয়েছে। তারা বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। দেশ পরিচালনায় যোগ্য লোক লাগে। ঋণখেলাপিদের দিয়ে দেশ চালানো যাবে না। সে জন্য সরকারের ওপর বেশি আশা করা যাবে না। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য যা করা দরকার, সেটাই করতে হবে।”

বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, ডিপিডিসি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আনম বজলুর রহমান প্রমুখ।

‘জ্বালানি তেল ও গ্যাস-সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির’ প্রতিবাদে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় ঐক্য এই অবস্থান কর্মসূচি পালন ক‌রে।

কর্মসূচিতে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, গত তিন মাসে আদায় করা সব ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অবিলম্বে গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং অন্য সব অযৌক্তিক ও অবৈধ চার্জ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। গত তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য খাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ কোনো আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দিতে হবে।

বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোস্টপেইড বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে মিটার রিডিং লগ সংযুক্ত করতে হবে এবং প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও বিলিং ব্যবস্থার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট পরিচালনা করতে হবে।

‘গ্যাস না থাকলে বিল নয়’—এই নীতি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং সরবরাহহীন সময়ের জন্য কোনো বিল আদায় করা যাবে না। গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ নিতে হবে। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ পরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।


গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা করতে হবে। এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।