9:49 pm, Thursday, 6 August 2026

স্কুলে ভর্তিতে দ্বিতীয়-নবমে পরীক্ষা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি

অভিভাবকদের আপত্তির কারণে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। যদিও পরীক্ষার ধরন কেমন হবে, তা এখনো জানায়নি মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

স্কুলে ভর্তিতে প্রথম শ্রেণিতে পরীক্ষা নয়, লটারি বহাল

গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিভিত্তিক ভর্তি বাতিল করে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। একই দিনে মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছিল, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালু এবং লটারির প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করা হবে।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে এটি খুব জটিল কোনো পরীক্ষা হবে না। খুব সাধারণ একটি পরীক্ষার মাধ্যমেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

লটারি চালু হয়েছিল যে কারণে

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে একসময় ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম প্রচলিত ছিল। কিন্তু শিশুদের ওপর অল্প বয়সে প্রতিযোগিতার চাপ, কোচিংনির্ভরতা বৃদ্ধি, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ এবং ভর্তিকে ঘিরে স্বজনপ্রীতির নানান অভিযোগের কারণে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে একই পদ্ধতি বেসরকারি বিদ্যালয়েও চালু করা হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের

 করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয়। এরপর থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল।

স্কুলে ভর্তিতে পরীক্ষায় আপত্তি শিক্ষাবিদদের

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এত অল্প বয়সে পরীক্ষার মুখোমুখি করা শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি সামাজিক বৈষম্যও বাড়াবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। যে ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়, তাতে যারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়ে তারাই এগিয়ে থাকে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরা এতে বঞ্চিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে কোচিং বাণিজ্য ফিরে আসবে। পরীক্ষার মাধ্যমে একটি ছোট্ট শিশুর মেধা যাচাই করা উচিত নয়। কারণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা ব্যর্থ হলে তার মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এভাবে শিশুদের ট্রমার মধ্যে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্কুলে ভর্তিতে দ্বিতীয়-নবমে পরীক্ষা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি

স্কুলে ভর্তিতে দ্বিতীয়-নবমে পরীক্ষা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি

Update Time : 01:03:35 pm, Thursday, 6 August 2026

অভিভাবকদের আপত্তির কারণে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা মূল্যায়ন করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। যদিও পরীক্ষার ধরন কেমন হবে, তা এখনো জানায়নি মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আগামী ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

স্কুলে ভর্তিতে প্রথম শ্রেণিতে পরীক্ষা নয়, লটারি বহাল

গত ১৬ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিভিত্তিক ভর্তি বাতিল করে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। একই দিনে মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছিল, সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নতুন ভর্তি পদ্ধতি চালু এবং লটারির প্রচলিত ব্যবস্থা বাতিল করা হবে।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে এটি খুব জটিল কোনো পরীক্ষা হবে না। খুব সাধারণ একটি পরীক্ষার মাধ্যমেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

লটারি চালু হয়েছিল যে কারণে

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে একসময় ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম প্রচলিত ছিল। কিন্তু শিশুদের ওপর অল্প বয়সে প্রতিযোগিতার চাপ, কোচিংনির্ভরতা বৃদ্ধি, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ এবং ভর্তিকে ঘিরে স্বজনপ্রীতির নানান অভিযোগের কারণে ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরে একই পদ্ধতি বেসরকারি বিদ্যালয়েও চালু করা হয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের

 করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয়। এরপর থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছিল।

স্কুলে ভর্তিতে পরীক্ষায় আপত্তি শিক্ষাবিদদের

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এত অল্প বয়সে পরীক্ষার মুখোমুখি করা শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি সামাজিক বৈষম্যও বাড়াবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। যে ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়, তাতে যারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়ে তারাই এগিয়ে থাকে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরা এতে বঞ্চিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। ভর্তি পরীক্ষা চালু হলে কোচিং বাণিজ্য ফিরে আসবে। পরীক্ষার মাধ্যমে একটি ছোট্ট শিশুর মেধা যাচাই করা উচিত নয়। কারণ পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা ব্যর্থ হলে তার মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এভাবে শিশুদের ট্রমার মধ্যে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।