11:28 pm, Sunday, 14 June 2026

তৃতীয় বিয়ের দ্বারপ্রান্তে, কেন ভেঙেছিল আমিরের দুই বিয়ে?

বিনোদন ডেস্ক :: পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর বাস্তব জীবনে ছকভাঙা সব দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত মানেই আমির খান। বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কখনও কমেনি।

আগামী ৫ জুলাই তৃতীয়বারের মতো ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন এই সুপারস্টার। পাত্রী তার বর্তমান প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাট।

২০২৫ সালেই গৌরীর সঙ্গে সবার আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমির খান। তবে আমিরের এই তৃতীয় বিয়ের সানাই বাজার প্রাক্কালে স্বাভাবিকভাবেই তার আগের দুটি বিয়ের ভাঙাগড়ার গল্প নিয়ে প্রশ্ন আসছে অনেকের মনেই।

কেন টিকল না সেই সম্পর্কগুলো? ঠিক কী কারণে দুই প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছিল অভিনেতার?
মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন আমির। তখন রীনার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।

আমির তখন তারকা হয়ে ওঠেননি, তীব্র স্ট্রাগল করছেন। সেই কঠিন দিনগুলোতে রীনা ছিলেন আমিরের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট। পরবর্তীতে আমিরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা ‘লগান’-এর প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
জুনায়েদ ও ইরা এই দুই সন্তানের জন্মের পর ২০০২ সালে দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানেন এই দম্পতি। বহু বছর পর এক সাক্ষাৎকারে আমির নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, খুব কম বয়সে মাত্র কয়েক মাসের পরিচয়ে বিয়ে করাটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাশাপাশি নিজের কাজের প্রতি অতিরিক্ত ডুবে থাকাকেও এই দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছিলেন তিনি।

তবে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও সন্তানদের যৌথ প্রতিপালন এবং পারস্পরিক সৌজন্যে আজও কোনও কমতি রাখেনি এই প্রাক্তন জুটি।

এদিকে রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আমিরের জীবনে আসেন খ্যাতনামা পরিচালক কিরণ রাও। ‘লগান’ সিনেমার সেটেই তাদের প্রথম আলাপ হয়েছিল। যেখানে কিরণ ছিলেন সহকারী পরিচালক। ২০০৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ধুমধাম করে গাঁটছড়া বাঁধেন তারা।

২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাদের জীবনে আসে পুত্র আজাদ রাও খান। বলিপাড়ার অন্যতম রুচিশীল ও পারফেক্ট দম্পতি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তারা। কিন্তু ২০২১ সালের জুলাই মাসে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করে ভক্তদের চমকে দেন।

কিরণ পরে জানিয়েছিলেন, নিজের একটা আলাদা স্পেস ও স্বাধীনভাবে বাঁচার প্রয়োজন অনুভব করছিলেন তিনি। তবে বিচ্ছেদের পরেও তাদের মধ্যে কোনও তিক্ততা তৈরি হয়নি বরং তারা আজও বন্ধু।

বলিউডে অবশ্য একাধিকবার প্রেমে পড়া এবং নতুন করে জীবন শুরু করার নজির এটাই প্রথম নয়। কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার চারবার বিয়ে করেছিলেন। একই পথে হেঁটেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা কবীর বেদিও। সঞ্জয় দত্ত, করণ সিং গ্রোভার কিংবা নীলিমা আজিমের জীবনেও বিয়ে এসেছে একাধিকবার।

আমিরও এখন জীবনের এক নতুন বসন্তের মুখোমুখি। অতীত ভুলে আমিরের এই নতুন সিদ্ধান্তকে হাসিমুখে স্বাগত জানিয়েছে তার পুরো পরিবার। এখন দেখার, জুলাইয়ের তার বিয়েতে নতুন করে কী কী চমক অপেক্ষা করছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

তৃতীয় বিয়ের দ্বারপ্রান্তে, কেন ভেঙেছিল আমিরের দুই বিয়ে?

Update Time : 08:41:22 am, Wednesday, 10 June 2026

বিনোদন ডেস্ক :: পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর বাস্তব জীবনে ছকভাঙা সব দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত মানেই আমির খান। বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দর্শকের আগ্রহ কখনও কমেনি।

আগামী ৫ জুলাই তৃতীয়বারের মতো ফের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন এই সুপারস্টার। পাত্রী তার বর্তমান প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাট।

২০২৫ সালেই গৌরীর সঙ্গে সবার আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আমির খান। তবে আমিরের এই তৃতীয় বিয়ের সানাই বাজার প্রাক্কালে স্বাভাবিকভাবেই তার আগের দুটি বিয়ের ভাঙাগড়ার গল্প নিয়ে প্রশ্ন আসছে অনেকের মনেই।

কেন টিকল না সেই সম্পর্কগুলো? ঠিক কী কারণে দুই প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছিল অভিনেতার?
মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৮৬ সালের ১৮ এপ্রিল রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন আমির। তখন রীনার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।

আমির তখন তারকা হয়ে ওঠেননি, তীব্র স্ট্রাগল করছেন। সেই কঠিন দিনগুলোতে রীনা ছিলেন আমিরের সবচেয়ে বড় সাপোর্ট। পরবর্তীতে আমিরের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা ‘লগান’-এর প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
জুনায়েদ ও ইরা এই দুই সন্তানের জন্মের পর ২০০২ সালে দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানেন এই দম্পতি। বহু বছর পর এক সাক্ষাৎকারে আমির নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, খুব কম বয়সে মাত্র কয়েক মাসের পরিচয়ে বিয়ে করাটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাশাপাশি নিজের কাজের প্রতি অতিরিক্ত ডুবে থাকাকেও এই দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছিলেন তিনি।

তবে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও সন্তানদের যৌথ প্রতিপালন এবং পারস্পরিক সৌজন্যে আজও কোনও কমতি রাখেনি এই প্রাক্তন জুটি।

এদিকে রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আমিরের জীবনে আসেন খ্যাতনামা পরিচালক কিরণ রাও। ‘লগান’ সিনেমার সেটেই তাদের প্রথম আলাপ হয়েছিল। যেখানে কিরণ ছিলেন সহকারী পরিচালক। ২০০৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর ধুমধাম করে গাঁটছড়া বাঁধেন তারা।

২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে তাদের জীবনে আসে পুত্র আজাদ রাও খান। বলিপাড়ার অন্যতম রুচিশীল ও পারফেক্ট দম্পতি হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তারা। কিন্তু ২০২১ সালের জুলাই মাসে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করে ভক্তদের চমকে দেন।

কিরণ পরে জানিয়েছিলেন, নিজের একটা আলাদা স্পেস ও স্বাধীনভাবে বাঁচার প্রয়োজন অনুভব করছিলেন তিনি। তবে বিচ্ছেদের পরেও তাদের মধ্যে কোনও তিক্ততা তৈরি হয়নি বরং তারা আজও বন্ধু।

বলিউডে অবশ্য একাধিকবার প্রেমে পড়া এবং নতুন করে জীবন শুরু করার নজির এটাই প্রথম নয়। কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার চারবার বিয়ে করেছিলেন। একই পথে হেঁটেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা কবীর বেদিও। সঞ্জয় দত্ত, করণ সিং গ্রোভার কিংবা নীলিমা আজিমের জীবনেও বিয়ে এসেছে একাধিকবার।

আমিরও এখন জীবনের এক নতুন বসন্তের মুখোমুখি। অতীত ভুলে আমিরের এই নতুন সিদ্ধান্তকে হাসিমুখে স্বাগত জানিয়েছে তার পুরো পরিবার। এখন দেখার, জুলাইয়ের তার বিয়েতে নতুন করে কী কী চমক অপেক্ষা করছে।