1:23 am, Wednesday, 29 July 2026

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, জিনিসপত্র ভাঙচুর, আহত-১, নিখোজ-১

সংবাদ প্রতিনিধি: কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে যে কুলাউড়া উপজেলার জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা আবুল খায়ের তালুকদারের নেতৃত্বে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে গত বুধবার (০১ অক্টোবর) তারিখে ব্যবসায়ী ও সাবেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী মোহন চন্দের বাড়িতে ভাংচুর ও পরিবারের লোকদের মারপিট এবং মেয়েকে অপহরণের মতো ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী নিবাস চন্দকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন বিকাল বেলা ধরনী মোহন চন্দের বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে তৌহিদি জনতা যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আবুল খায়ের তালুকদার। সে জানায় এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে ধরণীর ছেলে সৈকত চন্দ ইমন মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি/অবমাননাকর মন্তব্য করেছে, অতএব তাকে শাস্তি দিয়ে সবাই শান্ত হবে। এলাকার মতিউর রহমান, মৌলভী সোহেল মিয়া, সিরাজ মিয়া, নবাব উদ্দিন, আলী আকবর সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে সৈকতের মা ও বোনকে মারধর শুরু করে। সৈকতের মা অভিযোগ করেন যে সন্ত্রাসীদের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তার বোন নীলা চন্দ বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণকারীরা তাকে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে। আমি দৌড়ে গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করতে গেলে আক্রমণকারীরা আমাকে আটকে রাখে এবং শ্লীলতাহানি করে। আমার প্রতিবেশী নিবাস চন্দ রক্ষা করতে গেল উত্তেজিত সন্ত্রাসীরা তাকে কিল ঘুষি মারিয়া আহত করেছে। উত্তেজিত জনতা সৈকতের নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করে এবং তাকে খুন করার জন্য খোঁজতে থাকে। সন্ত্রাসীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাদের সৈকতের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া নেওয়া হবে মর্মে জানালে উত্তেজিত মুসলিম জনতা শান্ত হয়। তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় সৈকতকে পাওয়ামাত্রই তাদের হাতে তুলে দিতে। অপরদিকে সৈকতের মা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল, মৌলভীবাজারে চিকিৎসা নেন। তার মেয়ে নীলা চন্দকে খুজে পাওয়ার জন্য কুলাউড়া থানায় জিডি করেছেন, কিন্তু এখনও মেয়েকে খুজে পান নাই। এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাদের শান্ত করা হয়েছে। তবে উপরোক্ত ঘটনায় সৈকতের পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় দেওয়া হয় নাই।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কমলগঞ্জে যৌথ অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, জিনিসপত্র ভাঙচুর, আহত-১, নিখোজ-১

Update Time : 07:19:00 pm, Thursday, 2 October 2025

সংবাদ প্রতিনিধি: কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে যে কুলাউড়া উপজেলার জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা আবুল খায়ের তালুকদারের নেতৃত্বে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে গত বুধবার (০১ অক্টোবর) তারিখে ব্যবসায়ী ও সাবেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী মোহন চন্দের বাড়িতে ভাংচুর ও পরিবারের লোকদের মারপিট এবং মেয়েকে অপহরণের মতো ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী নিবাস চন্দকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন বিকাল বেলা ধরনী মোহন চন্দের বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে তৌহিদি জনতা যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আবুল খায়ের তালুকদার। সে জানায় এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে ধরণীর ছেলে সৈকত চন্দ ইমন মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি/অবমাননাকর মন্তব্য করেছে, অতএব তাকে শাস্তি দিয়ে সবাই শান্ত হবে। এলাকার মতিউর রহমান, মৌলভী সোহেল মিয়া, সিরাজ মিয়া, নবাব উদ্দিন, আলী আকবর সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে সৈকতের মা ও বোনকে মারধর শুরু করে। সৈকতের মা অভিযোগ করেন যে সন্ত্রাসীদের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তার বোন নীলা চন্দ বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণকারীরা তাকে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে। আমি দৌড়ে গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করতে গেলে আক্রমণকারীরা আমাকে আটকে রাখে এবং শ্লীলতাহানি করে। আমার প্রতিবেশী নিবাস চন্দ রক্ষা করতে গেল উত্তেজিত সন্ত্রাসীরা তাকে কিল ঘুষি মারিয়া আহত করেছে। উত্তেজিত জনতা সৈকতের নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করে এবং তাকে খুন করার জন্য খোঁজতে থাকে। সন্ত্রাসীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাদের সৈকতের বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া নেওয়া হবে মর্মে জানালে উত্তেজিত মুসলিম জনতা শান্ত হয়। তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় সৈকতকে পাওয়ামাত্রই তাদের হাতে তুলে দিতে। অপরদিকে সৈকতের মা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল, মৌলভীবাজারে চিকিৎসা নেন। তার মেয়ে নীলা চন্দকে খুজে পাওয়ার জন্য কুলাউড়া থানায় জিডি করেছেন, কিন্তু এখনও মেয়েকে খুজে পান নাই। এ বিষয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতাদের শান্ত করা হয়েছে। তবে উপরোক্ত ঘটনায় সৈকতের পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় দেওয়া হয় নাই।