ডেস্ক রিপোর্ট :: নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ এবং খলিল গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন-বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।
নড়াইলে সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়
সংঘর্ষের পর সেনাসদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান
এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন। দুপুরে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন এ ঘটনার জেরে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে দুই গ্রুপের মাঝে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষ নানা দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের প্রতি ঝাপিয়ে পড়েন। এসময় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ নিহত হন।
এসময় গুরুতর আহত অপর পক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে তাদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে ঘ্টনার পর থেকেই পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পাশাপাশি আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রামটির সাধারণ মানুষ।
নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















