3:49 am, Thursday, 24 September 2026

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ

ডেস্ক রিপোর্ট : সরকারি কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেটে এক অদ্ভুত অসংগতি দেখা দিয়েছে। পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট মাসিক বেতন উল্টো কমে যাচ্ছে।

ফলে পদোন্নতির আনন্দ ফিকে হয়ে কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে পদোন্নতি পেলেই সব ক্ষেত্রে বাড়বে না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট বেতন।

বরং গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার পরও মোট মাসিক প্রাপ্য কমে যেতে পারে বা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে কম থাকতে পারে।
গেজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাড়ি ভাড়ার শতকরা হারের তারতম্যের কারণে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের মোট বেতন অনেক সময় ওপরের গ্রেডের কর্মচারীদের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে।

১৫ ও ১৬ গ্রেডের তুলনা: ১৫ গ্রেডের মূল বেতন ২২,৮০০ টাকা হলেও এর বাড়ি ভাড়ার হার ৩৫% (৭,৯৮০ টাকা)। অন্যদিকে, ১৬ গ্রেডের মূল বেতন কিছুটা কম (২১,৯০০ টাকা) হলেও সেখানে বাড়ি ভাড়ার হার ৪৫% (৯,৮৫৫ টাকা)।

ফলে ১৫ গ্রেডের চেয়ে ১৬ গ্রেডের মোট বেতন ৯৭৫ টাকা বেশি।

১৫ ও ১৭ গ্রেডের তুলনা: ১৭ গ্রেডের মূল বেতন ১৫ গ্রেডের চেয়ে ১,৪০০ টাকা কম হলেও ৪৫% বাড়ি ভাড়ার সুবাদে ১৭ গ্রেডের মোট বেতন ১৫ গ্রেডের চেয়ে ২৫০ টাকা বেশি দাঁড়াচ্ছে।

১৪ ও ১৬ গ্রেডের ব্যবধান: ১৪ গ্রেডের মূল বেতন ২৩,৭০০ টাকা হলেও ১৬ গ্রেডের মোট বেতনের সঙ্গে এর পার্থক্য মাত্র ১৭০ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত বাড়ি ভাড়া ভাতার শতকরা হারে পার্থক্য এবং ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেলে পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ার কারণে মোট আর্থিক সুবিধায় কী পরিবর্তন হবে, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, তারা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়ি ভাড়া ভাতার ব্যবস্থার তুলনাতেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতনের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।

মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৫৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ৫০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।

এদিকে নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর– এই তিন মাসের প্রাপ্য বকেয়া আর্থিক সুবিধা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে।

নতুন কাঠামোয় বেতন পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথমে অনলাইনে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করার আগেই নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন সিস্টেমে দেখা যাবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট ডিডিও তথ্য যাচাই করবেন। গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বহিতে আগের চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন ডিডিও।

পরবর্তী ধাপে হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করবে। অনুমোদনের পর সিস্টেম থেকে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন ও জুলাই-সেপ্টেম্বরের বকেয়া সুবিধার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে পদোন্নতির ফলে মূল বেতন বৃদ্ধির সুফল যেন কোনোভাবেই বাড়ি ভাড়ার মারপ্যাঁচে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যা: কারাগারে মামা

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ

Update Time : 11:33:01 am, Tuesday, 22 September 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : সরকারি কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেটে এক অদ্ভুত অসংগতি দেখা দিয়েছে। পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট মাসিক বেতন উল্টো কমে যাচ্ছে।

ফলে পদোন্নতির আনন্দ ফিকে হয়ে কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে পদোন্নতি পেলেই সব ক্ষেত্রে বাড়বে না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট বেতন।

বরং গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার পরও মোট মাসিক প্রাপ্য কমে যেতে পারে বা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে কম থাকতে পারে।
গেজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাড়ি ভাড়ার শতকরা হারের তারতম্যের কারণে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের মোট বেতন অনেক সময় ওপরের গ্রেডের কর্মচারীদের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে।

১৫ ও ১৬ গ্রেডের তুলনা: ১৫ গ্রেডের মূল বেতন ২২,৮০০ টাকা হলেও এর বাড়ি ভাড়ার হার ৩৫% (৭,৯৮০ টাকা)। অন্যদিকে, ১৬ গ্রেডের মূল বেতন কিছুটা কম (২১,৯০০ টাকা) হলেও সেখানে বাড়ি ভাড়ার হার ৪৫% (৯,৮৫৫ টাকা)।

ফলে ১৫ গ্রেডের চেয়ে ১৬ গ্রেডের মোট বেতন ৯৭৫ টাকা বেশি।

১৫ ও ১৭ গ্রেডের তুলনা: ১৭ গ্রেডের মূল বেতন ১৫ গ্রেডের চেয়ে ১,৪০০ টাকা কম হলেও ৪৫% বাড়ি ভাড়ার সুবাদে ১৭ গ্রেডের মোট বেতন ১৫ গ্রেডের চেয়ে ২৫০ টাকা বেশি দাঁড়াচ্ছে।

১৪ ও ১৬ গ্রেডের ব্যবধান: ১৪ গ্রেডের মূল বেতন ২৩,৭০০ টাকা হলেও ১৬ গ্রেডের মোট বেতনের সঙ্গে এর পার্থক্য মাত্র ১৭০ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত বাড়ি ভাড়া ভাতার শতকরা হারে পার্থক্য এবং ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেলে পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ার কারণে মোট আর্থিক সুবিধায় কী পরিবর্তন হবে, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, তারা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়ি ভাড়া ভাতার ব্যবস্থার তুলনাতেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতনের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।

মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৫৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ৫০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।

এদিকে নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর– এই তিন মাসের প্রাপ্য বকেয়া আর্থিক সুবিধা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে।

নতুন কাঠামোয় বেতন পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথমে অনলাইনে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করার আগেই নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন সিস্টেমে দেখা যাবে।

এরপর সংশ্লিষ্ট ডিডিও তথ্য যাচাই করবেন। গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বহিতে আগের চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন ডিডিও।

পরবর্তী ধাপে হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করবে। অনুমোদনের পর সিস্টেম থেকে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন ও জুলাই-সেপ্টেম্বরের বকেয়া সুবিধার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে পদোন্নতির ফলে মূল বেতন বৃদ্ধির সুফল যেন কোনোভাবেই বাড়ি ভাড়ার মারপ্যাঁচে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা।