3:51 am, Sunday, 19 July 2026

ফাইনালের আগে স্কালোনি: ‘মেসি জীবন্ত ইতিহাস, তাকে উপভোগ করুন’

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন। আগামী রোববার রাত ১টায় নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বের চোখ আটকে যেতে চলেছে এই মহারণে।

আর এই মেগা ফাইনালের আগে অবধারিতভাবেই আলোচনায় আর্জেন্টিনার ৩৯ বছর বয়সী খুদে জাদুকর লিওনেল মেসি, যিনি ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে আরও একটি বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
অধিনায়কের এমন অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি।

মেসিকে নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মেসি হলো জীবন্ত ইতিহাস। ৩৯ বছর বয়সে এসে এই স্তরে খেলে একটা দলকে ফাইনালে তোলা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
তাই আমি বলি, ও যতদিন মাঠে আছে আমাদের সবার তা উপভোগ করা উচিত। মেসি এবং এই ফুটবলাররা আমাদের যে সোনালী সময় উপহার দিয়েছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘গতকালও আমি ছেলেদের বলেছি, কোচিং স্টাফ হিসেবে আমরা তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এই পুরো যাত্রাটা সত্যিই চমৎকার ছিল, যা আমাদের পুরো দেশের জন্য একটা বড় উদাহরণ।’

এই ফাইনাল ম্যাচটি কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে এনে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী সুযোগ। তবে এই ফাইনাল স্কালোনির ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে এনেছে এক মধুর ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, কারণ তার পরিবারের একটা বড় অংশের নাড়ি পোঁতা এই স্পেনের মাটিতেই। ২০০৮ সালে ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিও থেকে ধারে রিয়াল মায়োর্কাতে খেলার সময় এলিসা মন্তেরোর প্রেমে পড়েন স্কালোনি। ২০১২ ও ২০১৬ সালে স্পেনের এই দ্বীপেই জন্ম নেন তাদের দুই ছেলে ইয়ান ও নোয়াহ।

স্পেনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও বাবার পেশা ও আবেগের কারণে দুই ছেলেই পুরোদস্তুর আর্জেন্টিনার সমর্থক। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা উদযাপনের সময়ও আকাশী সাদা জার্সি গায়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাদের মেতে উঠতে দেখা গেছে। তবে মায়োর্কাতে থাকা তার স্ত্রীর আত্মীয়দের নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী স্প্যানিশ হলেও সে খুব ভালো করেই জানে এই দিনগুলোতে আমি কী পরিমাণ চাপ আর কষ্টের মধ্য দিয়ে যাই। আর মায়োর্কাতে আমার স্ত্রীর যে আত্মীয়স্বজনরা আছেন, তারা নিশ্চিতভাবেই একটা দোলাচলের মধ্যে থাকবেন। তাদের পরিস্থিতিটা আমি বুঝি, এটা তাদের জন্য কঠিন। তবে যা-ই হোক না কেন, দিনশেষে তারা খুশিই হবেন।’ অর্থাৎ, স্পেন জিতলে তো কথাই নেই, আর আর্জেন্টিনা জিতলে জামাতার সাফল্যে অন্তত সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন তারা।

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনা তৃতীয় ট্রফি জিতেছিল। এবার তাদের সামনে স্পেনের তরুণ ও গতিময় দল। অভিজ্ঞতার নিরিখে আর্জেন্টিনা এগিয়ে কি না, এমন প্রশ্নে স্কালোনি বলেন, ‘দুই দলই যোগ্য হিসেবে ফাইনালে উঠেছে। স্পেনের খেলোয়াড়রা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা নেশনস লিগের মতো বড় বড় মঞ্চে খেলে অভ্যস্ত। রেফারির বাঁশি বাজলে কেউ আর চাপের কথা ভাববে না।’

মজার ব্যাপার হলো, স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একসময় স্কালোনির কোচিং কোর্সের শিক্ষক ছিলেন। পুরোনো দিনের স্মৃতি চারণ করে আলবিসেলেস্তে কোচ বলেন, ‘তার সম্পর্কে আমার দারুণ সব স্মৃতি আছে। কোর্স করার সময় আমি যে শিক্ষকদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কথা বলতাম, তিনি তাদের একজন। আমি খুব কৌতূহলী ছিলাম, সারাক্ষণ প্রশ্ন করতাম, আর তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না। আমার কাছে তিনি সবসময় একজন অসাধারণ মানুষ।’

উল্লেখ্য, গত মার্চে কাতার ভেন্যুতে দুই দলের ‘ফিনালিসিমা’ খেলার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং দুই দেশের ফেডারেশনের মধ্যে ভেন্যু পরিবর্তনের সমঝোতা না হওয়ায় ম্যাচটি বাতিল হয়েছিল। তবে স্কালোনির দল গত ডিসেম্বর থেকেই স্পেনকে নিয়ে কাটাছেঁড়া করছে বলে জানান তিনি।

ফাইনালের আগে দেশের মানুষের ফুটবল আবেগ গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে স্কালোনিকে। বোকা জুনিয়র্স কিংবা রিভার প্লেট, নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ কিংবা সেন্ট্রাল; সব ক্লাবের বৈরিতা ভুলে দেশের মানুষ যেভাবে এক সুতোয় গেঁথেছে, তা নিয়ে আবেগাপ্লুত কোচ বলেন, ‘মানুষের এই উদযাপন হৃদয়ে না লেগে পারেই না। আর্জেন্টিনা দল দেশের মানুষের জন্যই খেলে। এই বিশ্বকাপ দেশের মানুষকে এক করেছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই সংযোগটা আমাদের আরও বেশি মানবিক করে তোলে।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

রেলসেতুতে উঠতে না পেরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তিতাস কমিউটার ট্রেনটি প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে ছিল

ফাইনালের আগে স্কালোনি: ‘মেসি জীবন্ত ইতিহাস, তাকে উপভোগ করুন’

Update Time : 10:02:19 am, Saturday, 18 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি স্পেন। আগামী রোববার রাত ১টায় নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বের চোখ আটকে যেতে চলেছে এই মহারণে।

আর এই মেগা ফাইনালের আগে অবধারিতভাবেই আলোচনায় আর্জেন্টিনার ৩৯ বছর বয়সী খুদে জাদুকর লিওনেল মেসি, যিনি ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে আরও একটি বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।
অধিনায়কের এমন অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি।

মেসিকে নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মেসি হলো জীবন্ত ইতিহাস। ৩৯ বছর বয়সে এসে এই স্তরে খেলে একটা দলকে ফাইনালে তোলা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
তাই আমি বলি, ও যতদিন মাঠে আছে আমাদের সবার তা উপভোগ করা উচিত। মেসি এবং এই ফুটবলাররা আমাদের যে সোনালী সময় উপহার দিয়েছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘গতকালও আমি ছেলেদের বলেছি, কোচিং স্টাফ হিসেবে আমরা তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এই পুরো যাত্রাটা সত্যিই চমৎকার ছিল, যা আমাদের পুরো দেশের জন্য একটা বড় উদাহরণ।’

এই ফাইনাল ম্যাচটি কোচ লিওনেল স্কালোনির সামনে এনে দিয়েছে ইতিহাসের পাতায় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী সুযোগ। তবে এই ফাইনাল স্কালোনির ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে এনেছে এক মধুর ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, কারণ তার পরিবারের একটা বড় অংশের নাড়ি পোঁতা এই স্পেনের মাটিতেই। ২০০৮ সালে ইতালিয়ান ক্লাব লাৎসিও থেকে ধারে রিয়াল মায়োর্কাতে খেলার সময় এলিসা মন্তেরোর প্রেমে পড়েন স্কালোনি। ২০১২ ও ২০১৬ সালে স্পেনের এই দ্বীপেই জন্ম নেন তাদের দুই ছেলে ইয়ান ও নোয়াহ।

স্পেনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও বাবার পেশা ও আবেগের কারণে দুই ছেলেই পুরোদস্তুর আর্জেন্টিনার সমর্থক। এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা উদযাপনের সময়ও আকাশী সাদা জার্সি গায়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাদের মেতে উঠতে দেখা গেছে। তবে মায়োর্কাতে থাকা তার স্ত্রীর আত্মীয়দের নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী স্প্যানিশ হলেও সে খুব ভালো করেই জানে এই দিনগুলোতে আমি কী পরিমাণ চাপ আর কষ্টের মধ্য দিয়ে যাই। আর মায়োর্কাতে আমার স্ত্রীর যে আত্মীয়স্বজনরা আছেন, তারা নিশ্চিতভাবেই একটা দোলাচলের মধ্যে থাকবেন। তাদের পরিস্থিতিটা আমি বুঝি, এটা তাদের জন্য কঠিন। তবে যা-ই হোক না কেন, দিনশেষে তারা খুশিই হবেন।’ অর্থাৎ, স্পেন জিতলে তো কথাই নেই, আর আর্জেন্টিনা জিতলে জামাতার সাফল্যে অন্তত সান্ত্বনা খুঁজে পাবেন তারা।

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনা তৃতীয় ট্রফি জিতেছিল। এবার তাদের সামনে স্পেনের তরুণ ও গতিময় দল। অভিজ্ঞতার নিরিখে আর্জেন্টিনা এগিয়ে কি না, এমন প্রশ্নে স্কালোনি বলেন, ‘দুই দলই যোগ্য হিসেবে ফাইনালে উঠেছে। স্পেনের খেলোয়াড়রা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা নেশনস লিগের মতো বড় বড় মঞ্চে খেলে অভ্যস্ত। রেফারির বাঁশি বাজলে কেউ আর চাপের কথা ভাববে না।’

মজার ব্যাপার হলো, স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একসময় স্কালোনির কোচিং কোর্সের শিক্ষক ছিলেন। পুরোনো দিনের স্মৃতি চারণ করে আলবিসেলেস্তে কোচ বলেন, ‘তার সম্পর্কে আমার দারুণ সব স্মৃতি আছে। কোর্স করার সময় আমি যে শিক্ষকদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি কথা বলতাম, তিনি তাদের একজন। আমি খুব কৌতূহলী ছিলাম, সারাক্ষণ প্রশ্ন করতাম, আর তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না। আমার কাছে তিনি সবসময় একজন অসাধারণ মানুষ।’

উল্লেখ্য, গত মার্চে কাতার ভেন্যুতে দুই দলের ‘ফিনালিসিমা’ খেলার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং দুই দেশের ফেডারেশনের মধ্যে ভেন্যু পরিবর্তনের সমঝোতা না হওয়ায় ম্যাচটি বাতিল হয়েছিল। তবে স্কালোনির দল গত ডিসেম্বর থেকেই স্পেনকে নিয়ে কাটাছেঁড়া করছে বলে জানান তিনি।

ফাইনালের আগে দেশের মানুষের ফুটবল আবেগ গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে স্কালোনিকে। বোকা জুনিয়র্স কিংবা রিভার প্লেট, নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ কিংবা সেন্ট্রাল; সব ক্লাবের বৈরিতা ভুলে দেশের মানুষ যেভাবে এক সুতোয় গেঁথেছে, তা নিয়ে আবেগাপ্লুত কোচ বলেন, ‘মানুষের এই উদযাপন হৃদয়ে না লেগে পারেই না। আর্জেন্টিনা দল দেশের মানুষের জন্যই খেলে। এই বিশ্বকাপ দেশের মানুষকে এক করেছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই সংযোগটা আমাদের আরও বেশি মানবিক করে তোলে।’