বড়লেখা প্রতিনিধি::
বড়লেখায় পল্লীবিদ্যুতের মেইন লাইন ঘেষে প্রবাসীর ভবন নির্মাণের খেসারত দিল নির্মাণ শ্রমিক লিলন মিয়া (২৩)। মেইন লাইনের পাশে ভবনের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎষ্পৃষ্ট তার মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাধবকুণ্ড পর্যটন কেন্দ্র সংলগ্ন রুকনপুর (বড়খলা) গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিদ্যুৎ গ্রাহক কাতার প্রবাসী রাসেদ আহমদের বাড়িতে। নিহত লিলন মিয়া উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের আব্দুল মিয়ার ছেলে। রাতেই হাসপাতাল থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। এব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। শুক্রবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ নিহতের লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
জানা গেছে, কাতার প্রবাসী রাসেদ আহমদ পল্লীবিদ্যুতের মেইন লাইন ঘেষে দোতলা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে ঠিকাদার আব্দুল করিম ৩/৪ জন রাজমিস্ত্রি ও নির্মাণ শ্রমিক নিয়ে কাজ করছিলেন। ভবনের ছাদের একপাশের উপর দিয়ে গেছে পল্লীবিদ্যুতের এস.টি লাইন। বিকেলের দিকে নির্মাণ শ্রমিক লিলন মিয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালিত ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের পাশে কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে দোতলার উপর থেকে পড়ে যান। গুরুতর আহতাবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার ও থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।
প্রবাসীর স্ত্রী ইপা বেগম জানান, ভবনের ফাউন্ডেশন কাজের সময় ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি সরানোর জন্য পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে দরখাস্ত করেন। গত ৭ ফেব্রæয়ারি১৭২৫ টাকা আবেদন ফি জমা দেন। এরপর অনেক দৌঁড়ঝাপ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলেনি। ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার আব্দুল করিমকে ঝুঁকিপূর্ণ সাইটে কাজ না করতে বলি। কিন্তু তিনি বাধা-নিষেধ না মেনেই একজন মিস্ত্রিকে দিয়ে ওইপাশে কাজ করানোকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, বড়লেখার বিভিন্ন এলাকায় পল্লীবিদ্যুতের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হাইভোল্টেজ লাইন রয়েছে। অনেকের বসতঘরের টিনের চালের উপর, ঘরের দেওয়াল এমনকি হাতে ছোঁয়া দুরত্বে বিদ্যুত লাইন রয়েছে। গত ২৫ মার্চ জুড়ীতে টিনের চালে বিদ্যুৎ লাইন ছিড়ে পড়ে বিদ্যুতায়িত ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু হলেও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি এসব মরণফাঁদ বিদ্যুৎ লাইন নিরাপদ করতে কার্যকর উদ্যোগই নেয়নি।
বড়লেখা পল্লীবিদ্যুতের এজিএম (কম) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, ওই প্রবাসীর বাড়ি তৈরীর আগেই এইস্থান দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানানো ছিল। পল্লীবিদ্যুত সমিতিকে অবহিত না করেই তিনি ভবন নির্মাণ করেন। লাইন স্থানান্তরের আবেদন করেই তিনি লাইন ঘেষা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নির্মাণ কাজ করতে থাকেন। প্রায় ঘরের মধ্যেই বিদ্যুত লাইন ঢুকিয়ে ফেলেন। লাইন স্থানান্তর করার আগে কোনো ধরণের কাজ করতে বাধা দিলেও গ্রাহক তা মানেননি। বড়লেখায় বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ লাইন সনাক্ত করে তা নিরাপদ করার কাজ চলমান রয়েছে।
থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। এব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। শুক্রবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য নিহত শ্রমিকের লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























