2:22 am, Tuesday, 4 August 2026

বাহুবলে বাঁশঝাড় থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : বাহুবলে নাজমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর লাশ বাঁশঝাড়ে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি উদ্ধারের পর আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নামজা বেগম হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ৫নং লামাতাসী ইউনিয়নের কাজীহাটা গ্রামের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাজিহাটা গ্রামের হান্নান মেম্বারের বাড়ির পশ্চিম পাশের বাঁশঝাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এক নারীর লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের সতীতের ভাই আব্দুল গনি জানান, “তার ভগ্নিপতি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের পরিবারের সাথে তারই ভাই তোরাব আলীর জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জের ধরে তোরাব আলী ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জসিম উদ্দিনের স্ত্রী ছিতারা বেগম (আব্দুল গনি’র বোন) ও নিহত নাজমা বেগমকে নানা ভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। গত ১৮ অক্টোবর তোরাব আলী ও তার লোকজন ছিতারা বেগম ও নাজমা বেগমকে মারধোর করে। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ বাহুবল মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। যা আগামী রোববার সালিশ বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।”
তিনি আরো জানান, “সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ১০টার পর থেকে আমার বোনের সতিন নাজমা বেগমকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় আমরা আশপাশে খোজাখুজি শুরু করি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের গ্রামের হান্নান মেম্বারের বাড়ির পাশের বাশঝাড়ে তার লাশ ঝুলতে দেখে লোকজন আমাদের খবর দেয়। আমরা গিয়ে দেখতে পাই যে, লাশটি ঝুলানো থাকলেও মাটিতে হাটু মুড়ানো রয়েছে। তার মুখে স্কচটেপ লাগানো এবং মুখের ভেতর টিস্যু গুজে রাখা হয়েছে। এছাড়াও লাশের গলায় এটি আঘাতের চিহ্ন আছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তোরাব আলী ও তার সহযোগিরা আমার বোনের সতীন নাজমা বেগমকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে পালিয়ে গেছে। যে কারণে ঘটনার পর থেকে তাদের ঘরে তালা ঝুলছে।”
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “পারিবারিক ঝগড়ার সূত্র ধরে এ ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে কে বা কারা হত্যা করেছে তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

৬ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, পেটে ভাত নেই, কারখানার গেটে চা-শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি

বাহুবলে বাঁশঝাড় থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

Update Time : 03:31:30 pm, Thursday, 23 October 2025

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : বাহুবলে নাজমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর লাশ বাঁশঝাড়ে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি উদ্ধারের পর আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত নামজা বেগম হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ৫নং লামাতাসী ইউনিয়নের কাজীহাটা গ্রামের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাজিহাটা গ্রামের হান্নান মেম্বারের বাড়ির পশ্চিম পাশের বাঁশঝাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এক নারীর লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের সতীতের ভাই আব্দুল গনি জানান, “তার ভগ্নিপতি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের পরিবারের সাথে তারই ভাই তোরাব আলীর জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জের ধরে তোরাব আলী ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে জসিম উদ্দিনের স্ত্রী ছিতারা বেগম (আব্দুল গনি’র বোন) ও নিহত নাজমা বেগমকে নানা ভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছে। গত ১৮ অক্টোবর তোরাব আলী ও তার লোকজন ছিতারা বেগম ও নাজমা বেগমকে মারধোর করে। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ বাহুবল মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। যা আগামী রোববার সালিশ বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।”
তিনি আরো জানান, “সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ১০টার পর থেকে আমার বোনের সতিন নাজমা বেগমকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় আমরা আশপাশে খোজাখুজি শুরু করি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমাদের গ্রামের হান্নান মেম্বারের বাড়ির পাশের বাশঝাড়ে তার লাশ ঝুলতে দেখে লোকজন আমাদের খবর দেয়। আমরা গিয়ে দেখতে পাই যে, লাশটি ঝুলানো থাকলেও মাটিতে হাটু মুড়ানো রয়েছে। তার মুখে স্কচটেপ লাগানো এবং মুখের ভেতর টিস্যু গুজে রাখা হয়েছে। এছাড়াও লাশের গলায় এটি আঘাতের চিহ্ন আছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তোরাব আলী ও তার সহযোগিরা আমার বোনের সতীন নাজমা বেগমকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে পালিয়ে গেছে। যে কারণে ঘটনার পর থেকে তাদের ঘরে তালা ঝুলছে।”
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “পারিবারিক ঝগড়ার সূত্র ধরে এ ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে কে বা কারা হত্যা করেছে তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”