3:41 am, Sunday, 7 June 2026

বড়লেখায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা!

বড়লেখা প্রতিনিধি:: বড়লেখায় হতদরিদ্র বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক যুবককে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর ছেড়ে দিয়ে ৪ দিনের মাথায় ওই প্রতিবন্ধীর বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুরের ছোটভাই রাজু আহমদ। মঙ্গলবার রাতে (১৮ অক্টোবর) রাজু থানায় এই মামলা করেন। এর দুদিন আগে রোববার (১৬ অক্টোবর) বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর ও তার ছোটভাই রাজু আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক কলিম উদ্দিনের বড়ভাই ছইদুর রহমান।

থানার নবাগত ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে কিছু বাধ্যবাদকতা রয়েছে। তিনি যোগদানের আগেই মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। একজন প্রতিবন্ধী যুবকের বিরুদ্ধে কিভাবে চুরির মামলা রেকর্ড হলো তিনি তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

জানা গেছে, ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর ও তার ভাই রাজু আহমদ পূর্ব-মাইজগ্রাম গ্রামের তছির আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রচারণা চালায়। গত ১৪ অক্টোবর ইউপি সদস্য ও তার ভাই ফোন করে তাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মোবাইল চুরির জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করতে হাত-পা বেধে বেধড়ক মারপিট করে। প্রচন্ড নির্যাতন চালিয়ে তারা বিভিন্ন সাদা কাগজ ও ষ্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর আদায় করে। এরপর থানায় নিয়ে পুলিশের সামনে মারপিট করে কলিম উদ্দিনের (প্রতিবন্ধী যুবক) স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। এইদিন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে আধমরা অবস্থায় কলিমকে তার বাড়ির সামনে ফেলে যান ইউপি সদস্যের ভাই রাজু। এসময় কলিম উদ্দিনের আর্তচিৎকারে স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর বড়লেখা আদালতে ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর ও তার ভাই রাজু আহমদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কলিম উদ্দিনের বড়ভাই ছইদুর রহমান মামলা করেন। ১৮ অক্টোবর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। মানবন্ধনের পর পুলিশ এলাকায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী যুবকের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

থানায় নিয়ে নির্যাতনের বিষয়ে এসআই জাহেদ আহমদ বলেন, ‘আমি ঐ যুবককে ধরে থানায় আনি নাই। মেম্বার ও তার ভাই রাজু ওই তাকে থানায় নিয়ে আসেন। ঐ যুবককে থানায় কোন মারধর করা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনে হয়েছে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। একেক সময় একেক কথা বলেছে। পরে মেম্বারের ভাই রাজু তাকে নিয়ে চলে যায়। এরপর ১৬ অক্টোবর ঐ যুবকের পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে শুনেছি। পরে ১৮ অক্টোবর রাজু আহমদ বাদী হয়ে থানায় ঐ যুবকের নামে চুরির মামলা করেন। মামলাটি আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর আমি চুরি যাওয়া মোবাইলটি উদ্ধার ও মামলার তদন্ত শুরু করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর বলেন, ‘আমার মোবাইল চুরি হওয়ায় তাকে ফোন দিয়ে বাড়িতে নেই। তখন মোবাইল নেওয়ার বিষয়টি সে স্বীকার করেছে। তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। আমি তাকে টাচই (স্পর্শ) করিনি, আমার ভাইয়েও টাচ (স্পর্শ) করার প্রশ্নই আসে না। এরপর আমি থানায় জিডি করি। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে কি করেছে আমরা জানি না।’

নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার দুইদিন পর থানায় উল্টো বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের বিরুদ্ধে চুরির মামলা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত চলছে, এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না।’

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেপ্তার

বড়লেখায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা!

Update Time : 12:23:14 pm, Thursday, 20 October 2022

বড়লেখা প্রতিনিধি:: বড়লেখায় হতদরিদ্র বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক যুবককে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর ছেড়ে দিয়ে ৪ দিনের মাথায় ওই প্রতিবন্ধীর বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুরের ছোটভাই রাজু আহমদ। মঙ্গলবার রাতে (১৮ অক্টোবর) রাজু থানায় এই মামলা করেন। এর দুদিন আগে রোববার (১৬ অক্টোবর) বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর ও তার ছোটভাই রাজু আহমদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নির্যাতনের শিকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক কলিম উদ্দিনের বড়ভাই ছইদুর রহমান।

থানার নবাগত ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে কিছু বাধ্যবাদকতা রয়েছে। তিনি যোগদানের আগেই মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। একজন প্রতিবন্ধী যুবকের বিরুদ্ধে কিভাবে চুরির মামলা রেকর্ড হলো তিনি তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

জানা গেছে, ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর ও তার ভাই রাজু আহমদ পূর্ব-মাইজগ্রাম গ্রামের তছির আলীর ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী কলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রচারণা চালায়। গত ১৪ অক্টোবর ইউপি সদস্য ও তার ভাই ফোন করে তাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মোবাইল চুরির জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করতে হাত-পা বেধে বেধড়ক মারপিট করে। প্রচন্ড নির্যাতন চালিয়ে তারা বিভিন্ন সাদা কাগজ ও ষ্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর আদায় করে। এরপর থানায় নিয়ে পুলিশের সামনে মারপিট করে কলিম উদ্দিনের (প্রতিবন্ধী যুবক) স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। এইদিন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে আধমরা অবস্থায় কলিমকে তার বাড়ির সামনে ফেলে যান ইউপি সদস্যের ভাই রাজু। এসময় কলিম উদ্দিনের আর্তচিৎকারে স্বজনরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর বড়লেখা আদালতে ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর ও তার ভাই রাজু আহমদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী কলিম উদ্দিনের বড়ভাই ছইদুর রহমান মামলা করেন। ১৮ অক্টোবর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। মানবন্ধনের পর পুলিশ এলাকায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী যুবকের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

থানায় নিয়ে নির্যাতনের বিষয়ে এসআই জাহেদ আহমদ বলেন, ‘আমি ঐ যুবককে ধরে থানায় আনি নাই। মেম্বার ও তার ভাই রাজু ওই তাকে থানায় নিয়ে আসেন। ঐ যুবককে থানায় কোন মারধর করা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনে হয়েছে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। একেক সময় একেক কথা বলেছে। পরে মেম্বারের ভাই রাজু তাকে নিয়ে চলে যায়। এরপর ১৬ অক্টোবর ঐ যুবকের পরিবার আদালতে মামলা করেছে বলে শুনেছি। পরে ১৮ অক্টোবর রাজু আহমদ বাদী হয়ে থানায় ঐ যুবকের নামে চুরির মামলা করেন। মামলাটি আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর আমি চুরি যাওয়া মোবাইলটি উদ্ধার ও মামলার তদন্ত শুরু করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন হিফজুর বলেন, ‘আমার মোবাইল চুরি হওয়ায় তাকে ফোন দিয়ে বাড়িতে নেই। তখন মোবাইল নেওয়ার বিষয়টি সে স্বীকার করেছে। তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। আমি তাকে টাচই (স্পর্শ) করিনি, আমার ভাইয়েও টাচ (স্পর্শ) করার প্রশ্নই আসে না। এরপর আমি থানায় জিডি করি। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে কি করেছে আমরা জানি না।’

নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার দুইদিন পর থানায় উল্টো বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবকের বিরুদ্ধে চুরির মামলা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটির তদন্ত চলছে, এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না।’