8:20 am, Wednesday, 22 April 2026

ভারতের বোলিং তোপে ১৯১ রানে অলআউট পাকিস্তান

ডেস্ক রিপোর্ট :: দুর্দান্ত শুরুর পর হঠাৎ ছন্দপতন, এই লাইনটার পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে বন্ধুত্ব বেশ পুরোনো! তাইতো এই দলটার সঙ্গে জুড়ে আছে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমা। কেন তাদের অনুমান করা যায় না, সেটার একটা প্রদর্শনী আজ আহমেদাবাদে করলেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। ২ উইকেটে দেড়’শ রান পার করা দলটাই অলআউট হয়েছে দুইশ’র আগে।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ ওভার ৫ বলে ১৯১ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান এসেছে বাবরের ব্যাট থেকে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক। প্রথম ৮ ওভারে কোনো উইকেট পড়তে দেননি তারা। ৮ম ওভারের শেষ বলে আব্দুল্লাহ শফিককে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ সিরাজ। ক্রিজ ছাড়ার আগে ২৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২০ রান করেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো শফিক।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ইমাম উল হকও। এই ওপেনার গত দুই ম্যাচে রান পাননি। আজ শুরুটা দারুণ করেছিলেন। কিন্তু উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। হার্দিকের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েছেন।

গত দুই ম্যাচে রান পাননি বাবর আজম। বলা যায় ব্যর্থই ছিলেন। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে দলের সেরা ব্যাটারের এমন অফফর্ম টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তার কারণ ছিল। তবে আজ ভারতের বিপক্ষে ঠিকই স্বরূপে ফিরলেন এই ব্যাটার। দুই ওপেনার দ্রুত সাজঘরে ফেরার পর রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন বাবর। তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরিও। চলমান বিশ্বকাপে এটা তার প্রথম ফিফটি। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক। মোহাম্মদ সিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫০ রান।

অধিনায়কের বিদায়ের পরই পথ হারায় দল। ৩৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি লেগ স্টাম্পের ওপর করেছিলেন কুলদীপ। টার্ন করে ভেতররের দিকে ঢুকা বলে লাইন মিস করেছেন সউদ শাকিল। বল পায়ে আঘাত হানলে আম্পায়ার আউট দেননি। তবে রিভিউ নেনে রোহিত। তাতে দেখা যায় বল লেগ ও মিডল স্টাম্পে আঘাত হানতো। ফলে সাজঘরে ফিরতে হয় শাকিলকে।
তিন বল পর ফিরেছেন ইফতিখার আহমেদও। এই অভিজ্ঞ ব্যাটার লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে সুইপ করতে গিয়ে ইনসাইড এডজে বোল্ড হয়েছেন। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৪ রান।

পরের ওভারেই ফিরেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানও। ৪৯ রান করে জাসপ্রিত বুমরাহরা বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। এক ওভার পর আক্রমণে ফিরে শাদাব খানকেও বোল্ড করেছেন এই ডানহাতি পেসার। একই সঙ্গে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদন্ডও ভেঙে দেন বুমরাহ।

এরপর আর দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। বলার মতো স্কোর করতে পারেননি লোয়ার মিডল অর্ডারের কোনো ব্যাটার। মাত্র ৩৬ রান যোগ করতেই শেষের ৮ উইকেট হারিয়েছে বাবরের দল। তাতে দুইশ ছোয়ার আগেই অলআউট হয়েছে তারা।

বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচে ৪২.৫ ওভার আয়ু ছিল পাকিস্তান ইনিংসের।

দুই চিরবৈরি দেশ ১৬ বছর টেস্ট সিরিজ ও ১০ বছর ওয়ানডে কিংবা টি২০ সিরিজে মুখোমুখি হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট দল সর্বশেষ পাকিস্তান সফর করেছে ২০০৬ সালে। প্রায় এক দশক হয়ে গেল দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও মুখোমুখি হয়নি। এরপরও বৈশ্বিক আসরে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের আবেদন এতটুকু কমেনি, যার প্রমাণ আহমেদাবাদের লড়াই নিয়ে সাজসাজ রব। ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সমাগম ঘটেছে আজ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে এগিয়ে পাকিস্তান। তারা ৭৩ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ৫৬ ম্যাচে। যদিও ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাতবারের মোকাবেলায় পাকিস্তানের কাছে কখনই হারেনি ভারত।

বিশ্বকাপে এই দ্বৈরথের সূচনা ১৯৯২ সালে। সেবার পাকিস্তান বিশ্বকাপ জিতলেও সিডনিতে গ্রুপ ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে ৪৩ রানে। এই ধারা পরে চলতেই থাকে। বিশ্বকাপে পরের সব ম্যাচেই হেরে যায় পাকিস্তান। ১৯৯৬ সালে ৩৯ রানে, ১৯৯৯ সালে ৪৭ রানে, ২০০৩ সালে ৬ উইকেটে, ২০১১ সালে ২৯ রানে, ২০১৫ সালে ৭৬ রানে ও ২০১৯ সালে ডিএলএস মেথডে ৮৯ রানের জয় পায় ভারত।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

ভারতের বোলিং তোপে ১৯১ রানে অলআউট পাকিস্তান

Update Time : 12:40:16 pm, Saturday, 14 October 2023

ডেস্ক রিপোর্ট :: দুর্দান্ত শুরুর পর হঠাৎ ছন্দপতন, এই লাইনটার পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে বন্ধুত্ব বেশ পুরোনো! তাইতো এই দলটার সঙ্গে জুড়ে আছে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমা। কেন তাদের অনুমান করা যায় না, সেটার একটা প্রদর্শনী আজ আহমেদাবাদে করলেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। ২ উইকেটে দেড়’শ রান পার করা দলটাই অলআউট হয়েছে দুইশ’র আগে।

শনিবার (১৪ অক্টোবর) টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ ওভার ৫ বলে ১৯১ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান এসেছে বাবরের ব্যাট থেকে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করেছিলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক। প্রথম ৮ ওভারে কোনো উইকেট পড়তে দেননি তারা। ৮ম ওভারের শেষ বলে আব্দুল্লাহ শফিককে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ সিরাজ। ক্রিজ ছাড়ার আগে ২৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২০ রান করেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো শফিক।

এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ইমাম উল হকও। এই ওপেনার গত দুই ম্যাচে রান পাননি। আজ শুরুটা দারুণ করেছিলেন। কিন্তু উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। হার্দিকের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েছেন।

গত দুই ম্যাচে রান পাননি বাবর আজম। বলা যায় ব্যর্থই ছিলেন। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে দলের সেরা ব্যাটারের এমন অফফর্ম টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তার কারণ ছিল। তবে আজ ভারতের বিপক্ষে ঠিকই স্বরূপে ফিরলেন এই ব্যাটার। দুই ওপেনার দ্রুত সাজঘরে ফেরার পর রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন বাবর। তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরিও। চলমান বিশ্বকাপে এটা তার প্রথম ফিফটি। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাকিস্তান অধিনায়ক। মোহাম্মদ সিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৫০ রান।

অধিনায়কের বিদায়ের পরই পথ হারায় দল। ৩৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি লেগ স্টাম্পের ওপর করেছিলেন কুলদীপ। টার্ন করে ভেতররের দিকে ঢুকা বলে লাইন মিস করেছেন সউদ শাকিল। বল পায়ে আঘাত হানলে আম্পায়ার আউট দেননি। তবে রিভিউ নেনে রোহিত। তাতে দেখা যায় বল লেগ ও মিডল স্টাম্পে আঘাত হানতো। ফলে সাজঘরে ফিরতে হয় শাকিলকে।
তিন বল পর ফিরেছেন ইফতিখার আহমেদও। এই অভিজ্ঞ ব্যাটার লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে সুইপ করতে গিয়ে ইনসাইড এডজে বোল্ড হয়েছেন। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৪ রান।

পরের ওভারেই ফিরেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ানও। ৪৯ রান করে জাসপ্রিত বুমরাহরা বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। এক ওভার পর আক্রমণে ফিরে শাদাব খানকেও বোল্ড করেছেন এই ডানহাতি পেসার। একই সঙ্গে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদন্ডও ভেঙে দেন বুমরাহ।

এরপর আর দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তান। বলার মতো স্কোর করতে পারেননি লোয়ার মিডল অর্ডারের কোনো ব্যাটার। মাত্র ৩৬ রান যোগ করতেই শেষের ৮ উইকেট হারিয়েছে বাবরের দল। তাতে দুইশ ছোয়ার আগেই অলআউট হয়েছে তারা।

বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচে ৪২.৫ ওভার আয়ু ছিল পাকিস্তান ইনিংসের।

দুই চিরবৈরি দেশ ১৬ বছর টেস্ট সিরিজ ও ১০ বছর ওয়ানডে কিংবা টি২০ সিরিজে মুখোমুখি হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট দল সর্বশেষ পাকিস্তান সফর করেছে ২০০৬ সালে। প্রায় এক দশক হয়ে গেল দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও মুখোমুখি হয়নি। এরপরও বৈশ্বিক আসরে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের আবেদন এতটুকু কমেনি, যার প্রমাণ আহমেদাবাদের লড়াই নিয়ে সাজসাজ রব। ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সমাগম ঘটেছে আজ নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে এগিয়ে পাকিস্তান। তারা ৭৩ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ৫৬ ম্যাচে। যদিও ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাতবারের মোকাবেলায় পাকিস্তানের কাছে কখনই হারেনি ভারত।

বিশ্বকাপে এই দ্বৈরথের সূচনা ১৯৯২ সালে। সেবার পাকিস্তান বিশ্বকাপ জিতলেও সিডনিতে গ্রুপ ম্যাচে ভারতের কাছে হেরেছে ৪৩ রানে। এই ধারা পরে চলতেই থাকে। বিশ্বকাপে পরের সব ম্যাচেই হেরে যায় পাকিস্তান। ১৯৯৬ সালে ৩৯ রানে, ১৯৯৯ সালে ৪৭ রানে, ২০০৩ সালে ৬ উইকেটে, ২০১১ সালে ২৯ রানে, ২০১৫ সালে ৭৬ রানে ও ২০১৯ সালে ডিএলএস মেথডে ৮৯ রানের জয় পায় ভারত।