স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূ অঞ্জনা রানী দাসকে (২৫) অপহরণের দুইদিন পর পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর অঞ্জনা রানী দাস স্বামী: বিমান চন্দ্র দাস, শাশুড়ি গীতা রানী দাস ও দেবর ইন্দ্রজিৎ দাসকে সঙ্গে নিয়ে জুড়ীর আব্দুল আজিজ মেডিকেল হাসপাতালে গাইনী বিভাগে রুটিন চেকআপ করতে যান। ফেরার পথে ইন্দ্রজিৎ দাস ওষুধ কেনার জন্য ফার্মেসিতে গেলে অঞ্জনা ও তার শাশুড়ি সিএনজিতে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এসময় রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি লতিফ মিয়া ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গীতা রানী দাস গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান এবং সেখান থেকে দুর্বৃত্তরা অঞ্জনা রানী দাসকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই জুড়ী থানায় নির্যাতন ও অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
অপহরণের পর অঞ্জনার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনার রাতে এক অচেনা নাম্বার থেকে অঞ্জনার দেবর ইন্দ্রজিৎ দাসের ফোনে মুক্তিপণের দাবিও জানানো হয়। পরে দুইদিন পর পার্শ্ববর্তী গ্রামের নদীর তীরে অঞ্জনা রানী দাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাই। দুইদিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অপহরণের পর অঞ্জনা রানী দাসকে অমানবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকারহতে হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছেশোকের ছায়া। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















