4:00 am, Thursday, 14 May 2026

মৌলভীবাজারে পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্থের প্রতিমা তৈরির কারিগরদের প্রস্তুতি: নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সাকের অাহমদ : সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমা বানানো ও সাজাতে শিল্পীদের রঙ তুলির কারুকাজ। পুজাকে ঘিরে বৃহত মন্ডপগুলোতে দিন রাত মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। মৌলভীবাজারে এ বছর সার্বজনীন ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে ১হাজার ৩৬টি পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবকে ঘিরে মন্ডপে মন্ডপে বেড়েছে দিন রাত প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা। অপরদিকে পুজার কেনাকাটা করতে মার্কেট বিপনী বিতানগুলো প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। এদিকে পুজা মন্ডপ ঘিরে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুুতি নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উতসব শারদীয় দূর্গাপুজার দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে। আর কিছু দিন পর মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাক ঢোল। শঙ্ক আর উলু ধ্বনির মধ্যে হাজার হাজার সনাতন ধর্মালম্বীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠবে মন্ডপ প্রাঙ্গন। তাছাড়া ছোট বড় মিলিয়ে শতাধিক চা বাগান পরিবেষ্ঠিত মৌলভীবাজারে দূর্গাপুজার নানা আনুষ্ঠানিক ও নান্দনিকতা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে মন্দিরের সাজসজ্জা,ধোয়া-মোছা,তোরণ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে।এদিকে প্রতিমা তৈরির জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও মাঠি,খেড়,বাশ,প্রতিমার জন্য ব্যবহ্নত শাড়ী, চুড়ি,অলংকারসহ প্রয়োজনীয় বসনের দামও কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। রয়েছে একসাথে এতোগুলো প্রতিমা তৈরির কারনে অনেক জায়গায়ই দেখা দিয়েছে কারিগরি স্বল্পতা। তবুও মন্দিরের সাজসজ্জা,ধোয়া-মোছা,তোরণ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। তাছাড়া মায়ের পুজো বলে কথা তাই যত কষ্ট বা পরিশ্রম হোক সময় মতো প্রতিমার কাজ শেষ করতে বিরামহীন ভাবে কাজ করছেন প্রতিমা কারিগররা।

আগামী ২০অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে সারম্বরে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২৪অক্টোবর দশমীতে বিসর্জন ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে দূর্গোৎসব। এ বছর দেবী দুর্গার ঘটকে আগমন ও দেবীর ঘটকে গমন। এছাড়াও জেলার সবচেয়ে বড় পূজা মন্ডপগুলো হলো- মৌলভীবাজার ত্রিনয়নী,মহেশ্বরী,আবাহনী,শিববাড়ী ও পাঁচগাও লাল দূর্গা মন্দির এবং শ্রীমঙ্গলে কুমারীপুজাসহ অন্যান্য মন্দির।

প্রতিমা তৈরির কারিগররা বলেন- সময় বেশী নেই তাই দিন রাত কাজ করছি। যথাসময়ে কমিঠিকে হস্তান্তর করবো।

এ নিয়ে আয়োজক কমিটির অনেকে দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে বলেন- আমরা শেষ মুহুর্থে প্যান্ডেল ও আলোজকসজ্জাসহ সকল প্রস্তুুতি প্রায় শেষ । যথাসময়ে পুজা উদযাপন অনুষ্টিত হবে এবং শান্তিপুর্নভাবে সমাপ্ত হবে।

এবিষয়ে আশু রঞ্জন দাস, সভাপতি, জেলা পুজা উদযাপন কমিঠি, মৌলভীবাজার দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে জানান- ‘প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার চলছে শেষ মুহর্থের প্রতিমা তৈরি ও রংয়ের কাজ। জেলার প্রতিটি মন্দিরে প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের পুজা কমিটি ও নিয়ে নানা উদ্যেগ।

পুজার সর্বশেষ প্রস্তুুতি নিয়ে মনজুর রহমান, পিপিএম (বার), পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে বলেন- পুজার প্রস্তুতির শুরু থেকেই শারদীয় দুর্গাপূজা মন্ডপে কয়েকস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোষাকে গোয়েন্দা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা পুলিশের যে সক্ষমতা আছে, সেটা সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা করবো। জেলা ও উপজেলার পূজা কমিটির সাথে আমরা মিটিং করেছি। তাছাড়া আনসার ও মাঠে র‌্যাব,বিজিবি থাকবে সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

মৌলভীবাজারে সুষ্টু ও শান্তিপুর্নভাবে দুর্গাপুজা অনুষ্টিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

‘হাইল হাওরে’ মাহমুদ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

মৌলভীবাজারে পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহুর্থের প্রতিমা তৈরির কারিগরদের প্রস্তুতি: নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

Update Time : 10:23:13 am, Tuesday, 10 October 2023

সাকের অাহমদ : সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমা বানানো ও সাজাতে শিল্পীদের রঙ তুলির কারুকাজ। পুজাকে ঘিরে বৃহত মন্ডপগুলোতে দিন রাত মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। মৌলভীবাজারে এ বছর সার্বজনীন ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে ১হাজার ৩৬টি পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই উৎসবকে ঘিরে মন্ডপে মন্ডপে বেড়েছে দিন রাত প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা। অপরদিকে পুজার কেনাকাটা করতে মার্কেট বিপনী বিতানগুলো প্রতিদিনই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। এদিকে পুজা মন্ডপ ঘিরে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুুতি নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উতসব শারদীয় দূর্গাপুজার দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে। আর কিছু দিন পর মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাক ঢোল। শঙ্ক আর উলু ধ্বনির মধ্যে হাজার হাজার সনাতন ধর্মালম্বীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠবে মন্ডপ প্রাঙ্গন। তাছাড়া ছোট বড় মিলিয়ে শতাধিক চা বাগান পরিবেষ্ঠিত মৌলভীবাজারে দূর্গাপুজার নানা আনুষ্ঠানিক ও নান্দনিকতা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে মন্দিরের সাজসজ্জা,ধোয়া-মোছা,তোরণ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে।এদিকে প্রতিমা তৈরির জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও মাঠি,খেড়,বাশ,প্রতিমার জন্য ব্যবহ্নত শাড়ী, চুড়ি,অলংকারসহ প্রয়োজনীয় বসনের দামও কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। রয়েছে একসাথে এতোগুলো প্রতিমা তৈরির কারনে অনেক জায়গায়ই দেখা দিয়েছে কারিগরি স্বল্পতা। তবুও মন্দিরের সাজসজ্জা,ধোয়া-মোছা,তোরণ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। তাছাড়া মায়ের পুজো বলে কথা তাই যত কষ্ট বা পরিশ্রম হোক সময় মতো প্রতিমার কাজ শেষ করতে বিরামহীন ভাবে কাজ করছেন প্রতিমা কারিগররা।

আগামী ২০অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্যদিয়ে সারম্বরে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২৪অক্টোবর দশমীতে বিসর্জন ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে দূর্গোৎসব। এ বছর দেবী দুর্গার ঘটকে আগমন ও দেবীর ঘটকে গমন। এছাড়াও জেলার সবচেয়ে বড় পূজা মন্ডপগুলো হলো- মৌলভীবাজার ত্রিনয়নী,মহেশ্বরী,আবাহনী,শিববাড়ী ও পাঁচগাও লাল দূর্গা মন্দির এবং শ্রীমঙ্গলে কুমারীপুজাসহ অন্যান্য মন্দির।

প্রতিমা তৈরির কারিগররা বলেন- সময় বেশী নেই তাই দিন রাত কাজ করছি। যথাসময়ে কমিঠিকে হস্তান্তর করবো।

এ নিয়ে আয়োজক কমিটির অনেকে দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে বলেন- আমরা শেষ মুহুর্থে প্যান্ডেল ও আলোজকসজ্জাসহ সকল প্রস্তুুতি প্রায় শেষ । যথাসময়ে পুজা উদযাপন অনুষ্টিত হবে এবং শান্তিপুর্নভাবে সমাপ্ত হবে।

এবিষয়ে আশু রঞ্জন দাস, সভাপতি, জেলা পুজা উদযাপন কমিঠি, মৌলভীবাজার দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে জানান- ‘প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার চলছে শেষ মুহর্থের প্রতিমা তৈরি ও রংয়ের কাজ। জেলার প্রতিটি মন্দিরে প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের পুজা কমিটি ও নিয়ে নানা উদ্যেগ।

পুজার সর্বশেষ প্রস্তুুতি নিয়ে মনজুর রহমান, পিপিএম (বার), পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে বলেন- পুজার প্রস্তুতির শুরু থেকেই শারদীয় দুর্গাপূজা মন্ডপে কয়েকস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোষাকে গোয়েন্দা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা পুলিশের যে সক্ষমতা আছে, সেটা সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা করবো। জেলা ও উপজেলার পূজা কমিটির সাথে আমরা মিটিং করেছি। তাছাড়া আনসার ও মাঠে র‌্যাব,বিজিবি থাকবে সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

মৌলভীবাজারে সুষ্টু ও শান্তিপুর্নভাবে দুর্গাপুজা অনুষ্টিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।