মশাহিদ আহমদ : করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ-এর শ্লোগান নিয়ে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে, মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে, মৌলভীবাজার জাতীয় মহিলা সংস্থার অডিটোরিয়াম আজ ১৩ মে বুধবার সকালে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার, মৌলভীবাজার এর উপ-পরিচালক রুবেল মাহমুদ। প্রেস ব্রিফিং- বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে- ইশতেহারে ৫১টি দফা ও ৯টি প্রধান প্রতিশ্রæতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। ৫১ দফার ইশতেহার মূলত ৫টি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি ঘরে তৈরি, যার অন্যতম লক্ষ্য হলো একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফ-ভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার। বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন। ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার। অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন। ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি। নির্বাচনী ইশতেহারের ৬১টি প্রধান প্রতিশ্রæতি: ১. ফ্যামিলি কার্ড প্রান্তিক ও নি¤œআয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু। ২. কৃষক কার্ড কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীসা ও ন্যায্যম‚ল্য নিশ্চিত করা। ও দুর্নীতিমুক্ত সদ্যসেবা -দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। ৪. কমসুদ্ধ বিজয় বেদ্য ম‚ল্যবোধ ও দক্ষত্যাউত্তিক শিক্ষার্মীত সনএন। ৫. ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা খেলাধুলায় পেশাগত সুযোগ সৃষ্টি। ৬. খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মস‚চি পরিবেশ, জলবায়ু ও শালাবদ্ধতা মোকাবিলায় উদ্যোগ। ৭. ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবকদের সম্মানী বৃদ্ধি-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ধর্মীয় কল্যাণ নিশ্চিত করা। ৮. ডিজিটাল অর্থনীতি গঠন প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। ১. দুর্নীতি দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা- জবাবদিহিম‚লক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মস‚চি সম‚হ: ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ নারীর জন্য গাড়ি, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, নৈতিক অবক্ষয় প্রতিরোধ, মানবিক ও ধর্মীয় ম‚ল্যবোধ, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক অবক্ষয় রোধ, গুজব ও অপতথ্য মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য, দেশব্যাপী কর্মসংস্থান, দারিদ্র নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত উন্নয়ন, পর্যটন খাত উন্নয়ন, হাম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, ধর্মীয় স¤প্রীতি, সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার মোকাবিলা, মাদক প্রতিরোধ, ইভটিজিং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যথাযথ ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, যোগাযোগ ও পরিবহন খাত উন্নয়ন, নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধার, হাওড়-বাওড় সদ্যশের উন্নয়ন, জাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠার প্রতি সংস্কার ও তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ। গৃহিত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসম‚হ: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রæয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। সরকার ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আলোচনা করছে। ইশতেহারের আলোকে গৃহীত উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসম‚হ নিচে তুলে ধরা হলো:- ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মস‚চির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর ১৪টি উপজেলার ৩৭হাজার ৫৬৭ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়। তখন থেকেই তারা ২ হাজার ৫ শত টাকা হারে মাসিক ভাতা প্রাপ্ত হন। এই উদ্যোগটি পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৪ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের মোট ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের নারী সদস্যদের এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে কার্যক্রম চলছে। খুব শীঘ্রই মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে এই কর্মস‚চি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মস‚চি সরকার দেশজুড়ে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করা, পানি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। চলতি বছর ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১,২০৪ কিলোমিটার খাল খনন এবং ১,৫০০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। এই কর্মস‚চির আওতায় পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ৫৩টি খাল খনন করা হবে, যা কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করবে। ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মস‚চি উদ্বোধন করেন। একই দিন মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নে কাটাগাং খালের খনন কাজ কর্মস‚চির উদ্বোধন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী। প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি দীর্ঘদিন পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছিল। এই খাল খননের ফলে এলাকার কৃষি সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দ‚রীকরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মৌলভীবাজার জেলায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মোট ২৬কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবকদের সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৪,৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের (পুরোহিত, বিহার অধ্যক্ষ, সেবাইত, গির্জার যাজক) মাঝে মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মস‚চির অংশ হিসেবে প্রতিটি মসজিদ থেকে ইমাম ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা হারে মোট ১০,০০০ টাকা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। অন্যান্য উপাসনালয়ের (মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জা) সেবকরা (পুরোহিত/যাজক/উপাধ্যক্ষ) ৫,০০০ টাকা এবং তাদের সহকারী/সেবাইতরা ৩,০০০ টাকা করে মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। মসজিদের ইমাম, মুযাজ্জিনরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১,০০০ টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের (দুর্গাপ‚জা, বুদ্ধ প‚র্ণিমা, বড়দিন) জন্য ২,০০০ টাকা বিশেষ উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। কৃষক কার্ড বিতরণ ও কৃষি ঋণ মওকুফ ১৪ এপ্রিল ২০২৬ বাংলা নববর্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মস‚চির উদ্বোধন করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ভ‚মিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকরা প্রতি বছর ২,৫০০ টাকা সহায়তা, ন্যায্য ম‚ল্যে সার, সেচ, কৃষি ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষি বীমা, আবহাওয়ার প‚র্বাভাস, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, বাজার তথ্য ও পরামর্শ ও পণ্য বিক্রয়- এই ১০টি সুবিধা সুবিধা পাবেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর এই কর্মস‚চি বাস্তবায়ন করছে, যার লক্ষ্য কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এই ডিজিটাল কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ২২,০৬৫ জন কৃষককে নিয়ে এই কর্মস‚চির শুরু হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরপর মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বøকে এই কর্মস‚চির উদ্বোধন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী। ৮১৯ জন কৃষক ও কৃষাণীর হাতে তিনি কৃষক কার্ড তুলে দেন। মৌলভীবাজার জেলার নিবন্ধিত ২৫ হাজার ৪০ জন কৃষককে পর্যায়ক্রমে এই কর্মস‚চির আওতায় নিয়ে আসা হবে। নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। মওকুফ করা ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫শত ৫০ কোটি টাকা। এতে উপকৃত হবেন কমপক্ষে ১২ লাখ কৃষক। স্বাস্থ্যসেবা স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বড় পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫% ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে ১৫ লাখ এমআর ডোজ টিকা দেশে এসেছে এবং দ্রæততম সময়ে টিকা কার্যক্রম চলছে। ৬ মে ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, আরও ১ কোটি ৮০ লাখ টিকা দ্রæত দেশে পৌঁছাবে। সারাদেশে চলমান অভিযানে ইতিমধ্যে ১ কোটি ৭২ লাখেরও বেশি শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার স‚ত্রে অসংখ্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ক্ষমতায় আসে। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হচ্ছে ঋণ পরিশোধ, চড়া ম‚ল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আনা, বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প খাতকে চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, ঋণের সুদহার কমানো, ডলারের জোগান বাড়িয়ে টাকার মান ধরে রাখা, বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো, রাজস্ব আয় বাড়ানো, রপ্তানি বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, চলমান সংস্কার এগিয়ে নেওয়া উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি রয়েছে আইএমএফের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে দেশের মানুষের অনুক‚লে পদক্ষেপ নেওয়া। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যে এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অর্থনীতিতে গণতন্ত্রায়ণ, অন্তর্ভুক্তিম‚লক প্রবৃদ্ধি এবং কতিপয় ব্যবসায়ী বা অলিগার্ক নির্ভরতা কমিয়ে একটি সুষম অর্থনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। ম‚ল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পখাত পুনরুজ্জীবন এবং “গধশব রহ ইধহমষধফবংয” কর্মস‚চির মাধ্যমে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এবং ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন বর্তমান সরকার ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামে তৃণম‚ল পর্যায় থেকে ১২-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণে দেশব্যাপী একটি আধুনিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম পড়ে তুলেছে। এখানে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার এবং মার্শাল আর্ট- এই ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকছে। উপজেলা, জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়-এই ৪টি স্তরে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রতিভারা দক্ষ কোচের অধীনে উন্নত প্রশিক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবে। বিজয়ী ক্রীড়াবিদের জন্যে সনদ, মেডেল, ট্রফি ছাড়াও আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ২ মে ২০২৬ তারিখে এই কর্মস‚চি উদ্বোধনের পর এম. সাইফুর রহমান স্টেডিয়ামে একই দিনে মৌলভীবাজার জেলা পর্যায়ের এই কর্মস‚চি উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এম নাসের রহমান। ২ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত ৮টি ইভেন্টে জেলার ৭টি উপজেলা ও মৌলভীবাজার পৌরসভা দলের ১ হাজার ৩ শত ৬০ জন ক্রীড়াবিদ, ম্যানেজার ও কোচ নিয়ে সফলভাবে এই কর্মস‚চি সম্পন্ন হয়েছে। ৮টি ইভেন্টে প্রতিটি উপজেলা থেকে ১২-১৪ বছর বয়সী ১৪৪ জন করে ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছিল। সারা দেশে খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘স্পোর্টস অ্যালাউন্স’ চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ১২৯ জন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাথলেটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের একটি বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই কর্মস‚চির আওতায় বন, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ নামে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে উপক‚লীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা সহনশীল গাছ এবং বিভিন্ন জেলায় চারা রোপণ শুরু হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন চলতি অর্থবছরের মধ্যে ২ লক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বিনাম‚ল্যে স্কুল ইউনিফর্ম এবং ৯,০০০ কারিগরি শিক্ষা শিক্ষককে ট্যাবলেট প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া ৪১৮টি কারিগরি ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে বিনাম‚ল্যে ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার, আইসিটি ও সুশাসন ইশতেহার অনুযায়ী আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সরকারি কার্যক্রমে ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা উন্নভির পাশাপাশি বাংলাদেশে ‘চধুচধষ’ সেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পর্যালোচনা করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বিচার ও ক্ষতিপ‚রণ প্রদান করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য “জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ বোর্ড” গঠন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টিকারী আইন বাতিলে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। গণযোগাযোগ অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর দেশব্যাপী বহুমুখী প্রচার কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে, জেলার প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
12:27 am, Thursday, 14 May 2026
News Title :
মৌলভীবাজারে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে প্রেস ব্রিফিং
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - Update Time : 12:03:55 pm, Wednesday, 13 May 2026
- 19 Time View
Tag :
Popular Post


























