12:00 am, Wednesday, 4 November 2026

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ, আরব সালিম, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও কাফর রেমান এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।

আরব সালিমে একটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর সেখানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

এতে দুই নারী নিহত এবং ছয়জন আহত হন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

নাবাতিয়েহ শহরেও হামলা চালানো হয়। এতে লেবাননের এক সংসদ সদস্যের ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।

পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাফর রেমানে হামলায় শহরটির প্রয়াত সাবেক মেয়রের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আহত পাঁচজনকে নাবাতিয়েহের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নাবাতিয়েহ শহরের সাইয়্যিদা মাসুমা গার্ডেনেও হামলা চালানো হয়েছে। আগের দিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌর পার্কটির অবশিষ্ট অংশও এ হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ দুটি ড্রোন পাঠানোর জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের হিসাবে, এসব হামলায় চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি স্বঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ অবস্থান করছে।

গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে বৃহত্তর সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর হামলার সংখ্যা কিছুটা কমে। একই মাসে তেল আবিব ও বৈরুত একটি কাঠামোগত চুক্তিও সই করে। তবে এরপরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪

Update Time : 09:34:46 am, Monday, 7 September 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ, আরব সালিম, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও কাফর রেমান এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।

আরব সালিমে একটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর সেখানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

এতে দুই নারী নিহত এবং ছয়জন আহত হন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

নাবাতিয়েহ শহরেও হামলা চালানো হয়। এতে লেবাননের এক সংসদ সদস্যের ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।

পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাফর রেমানে হামলায় শহরটির প্রয়াত সাবেক মেয়রের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আহত পাঁচজনকে নাবাতিয়েহের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া নাবাতিয়েহ শহরের সাইয়্যিদা মাসুমা গার্ডেনেও হামলা চালানো হয়েছে। আগের দিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌর পার্কটির অবশিষ্ট অংশও এ হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ দুটি ড্রোন পাঠানোর জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের হিসাবে, এসব হামলায় চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি স্বঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ অবস্থান করছে।

গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে বৃহত্তর সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার পর হামলার সংখ্যা কিছুটা কমে। একই মাসে তেল আবিব ও বৈরুত একটি কাঠামোগত চুক্তিও সই করে। তবে এরপরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা