3:49 pm, Wednesday, 22 April 2026

রাতের ঘুম নষ্ট করতে হচ্ছে কেন : সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট :: নির্বাচনী পদ্ধতির পরিবর্তন আনার পক্ষে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলগুলোর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, আমাকে আজকে এত বড় চ্যালেঞ্জ, এতো চিন্তা করতে হচ্ছে কেন? রাতের ঘুম নষ্ট করতে হচ্ছে কেন?

আজ রোববার (৩১ জুলাই) নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে সংলাপে বসে সিইসি এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

বৈঠকে জাপা মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। দলের পক্ষ থেকে সাত দিনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তোলেন চুন্নু। এ ছাড়া প্রাপ্ত ভোটের হারের ভিত্তিতে সংসদের আসন বন্টন (প্রোপরশনাল ইলেকশন) ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার প্রস্তাবও তোলা হয়।

জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু। তিনি বর্তমান পদ্ধতির বদলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ভোটের প্রস্তাব তোলেন।

চুন্নু বলেন, ‘তিনটা সিস্টেমের নির্বাচন হয়েছে, কোনোটাই বিতর্কের বাইরে না। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সিস্টেমটা চেঞ্জ করতে হবে। বর্তমান সিস্টেমে ফেরেশতা দিয়েও ফেয়ার নির্বাচন করতে পারবেন না বলে আমাদের অনুমান।’

বর্তমান পদ্ধতিতে ভোটারদের সরাসরি ভোটে প্রতিটি আসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদ গঠিত হয়। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির প্রবর্তন হলে সংসদে আসন বণ্টন হবে প্রতিটি দলের প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হারে।

জাতীয় পার্টির আগে থেকেই দেশের বামপন্থি দল সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।

জাপা মহাসচিবের প্রস্তাবের বিপরীতে সিইসি বলেন, ‘১০ বছর আগেই আপনারা প্রস্তাবটা উপস্থাপন করেছিলেন। এটা নিয়ে তো আপনাদের সরব হতে হবে; কাউকে না কাউকে একটা নেতৃত্বসুলভ ভূমিকা নিতে হবে।’

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সংলাপে বলা হয়, ইসি যতই দক্ষতা দেখাক, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে তা গ্রহণযোগ্য ‘হবে না’।

সিইসি তখন বলেন, ‘আপনি বলেছেন, সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমান যে সিস্টেম, আপনি যথার্থই স্বীকার করেছেন, এ সিস্টেমে আমি যত্ দক্ষতা, যোগ্যতা দেখাই না কেন, সকলের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উঠে আসা কঠিন।’

তবে সব রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কমিশনকে সহায়তা করবে, তেমন ভাবাও ‘দুরশা’ বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমরা একটা সিস্টেমের ওপর ডিপেন্ড করতে চাই। আজ আমাকে এতবড় চ্যালেঞ্জ চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে কেন? রাতের ঘুম নষ্ট করতে হচ্ছে কেন? একটা সিস্টেম প্রবর্তন করতে পারেন। প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন যে সিস্টেমটাৃ আমি কিন্তু পুরোপুরি জানি না- এটা কি আমাদের দেশের জন্য উপযোগী হবে? বা আমাদের পলিটিক্যাল সেন্টিমেন্টের সঙ্গে খাপ খাবে? এটা নিয়ে আপনারা গবেষণা করতে পারেন, ওয়ার্কশপ করতে পারেন।’

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে ইসির করণীয় নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শকের ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চলমান এ সংলাপ। নির্বাচনকে সফল, গ্রহণযোগ্য করতে আপনাদের পরামর্শ আমাদের প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ নির্বাচন বিষয়ে আমাদের করণীয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।’

অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়ে সিইসি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা আছে, থাকবে। আপনাদের ও সব অংশীজনের সহায়তা, সমর্থন একান্ত প্রয়োজন।’

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

রাতের ঘুম নষ্ট করতে হচ্ছে কেন : সিইসি

Update Time : 12:37:02 pm, Sunday, 31 July 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: নির্বাচনী পদ্ধতির পরিবর্তন আনার পক্ষে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলগুলোর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, আমাকে আজকে এত বড় চ্যালেঞ্জ, এতো চিন্তা করতে হচ্ছে কেন? রাতের ঘুম নষ্ট করতে হচ্ছে কেন?

আজ রোববার (৩১ জুলাই) নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে সংলাপে বসে সিইসি এ প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

বৈঠকে জাপা মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। দলের পক্ষ থেকে সাত দিনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তোলেন চুন্নু। এ ছাড়া প্রাপ্ত ভোটের হারের ভিত্তিতে সংসদের আসন বন্টন (প্রোপরশনাল ইলেকশন) ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার প্রস্তাবও তোলা হয়।

জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু। তিনি বর্তমান পদ্ধতির বদলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ভোটের প্রস্তাব তোলেন।

চুন্নু বলেন, ‘তিনটা সিস্টেমের নির্বাচন হয়েছে, কোনোটাই বিতর্কের বাইরে না। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সিস্টেমটা চেঞ্জ করতে হবে। বর্তমান সিস্টেমে ফেরেশতা দিয়েও ফেয়ার নির্বাচন করতে পারবেন না বলে আমাদের অনুমান।’

বর্তমান পদ্ধতিতে ভোটারদের সরাসরি ভোটে প্রতিটি আসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদ গঠিত হয়। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির প্রবর্তন হলে সংসদে আসন বণ্টন হবে প্রতিটি দলের প্রাপ্ত মোট ভোটের আনুপাতিক হারে।

জাতীয় পার্টির আগে থেকেই দেশের বামপন্থি দল সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।

জাপা মহাসচিবের প্রস্তাবের বিপরীতে সিইসি বলেন, ‘১০ বছর আগেই আপনারা প্রস্তাবটা উপস্থাপন করেছিলেন। এটা নিয়ে তো আপনাদের সরব হতে হবে; কাউকে না কাউকে একটা নেতৃত্বসুলভ ভূমিকা নিতে হবে।’

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে সংলাপে বলা হয়, ইসি যতই দক্ষতা দেখাক, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে তা গ্রহণযোগ্য ‘হবে না’।

সিইসি তখন বলেন, ‘আপনি বলেছেন, সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। বর্তমান যে সিস্টেম, আপনি যথার্থই স্বীকার করেছেন, এ সিস্টেমে আমি যত্ দক্ষতা, যোগ্যতা দেখাই না কেন, সকলের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উঠে আসা কঠিন।’

তবে সব রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কমিশনকে সহায়তা করবে, তেমন ভাবাও ‘দুরশা’ বলে মন্তব্য করেন সিইসি।

তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমরা একটা সিস্টেমের ওপর ডিপেন্ড করতে চাই। আজ আমাকে এতবড় চ্যালেঞ্জ চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে কেন? রাতের ঘুম নষ্ট করতে হচ্ছে কেন? একটা সিস্টেম প্রবর্তন করতে পারেন। প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন যে সিস্টেমটাৃ আমি কিন্তু পুরোপুরি জানি না- এটা কি আমাদের দেশের জন্য উপযোগী হবে? বা আমাদের পলিটিক্যাল সেন্টিমেন্টের সঙ্গে খাপ খাবে? এটা নিয়ে আপনারা গবেষণা করতে পারেন, ওয়ার্কশপ করতে পারেন।’

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে ইসির করণীয় নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শকের ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চলমান এ সংলাপ। নির্বাচনকে সফল, গ্রহণযোগ্য করতে আপনাদের পরামর্শ আমাদের প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ নির্বাচন বিষয়ে আমাদের করণীয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।’

অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়ে সিইসি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা আছে, থাকবে। আপনাদের ও সব অংশীজনের সহায়তা, সমর্থন একান্ত প্রয়োজন।’