12:59 am, Wednesday, 22 April 2026

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সাড়া ইতিবাচক, সমস্যা মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতকে আমরা বলেছি তারা যেন মিয়ানমার ইস্যুতে সহযোগিতা করে। তাদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে মিয়ানমারের সরকারকে নিয়ে। যে যতই চাপ দিক—এরা কোনও ব্যাপারই নেয় না। এরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত আছে। এখানেই বড় সমস্যা। কিন্তু ভারত মনে করে—এটার সমাধান হওয়া উচিত।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণভবনে ভারত সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের মনোভাব কী জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারত এটা উপলব্ধি করে যে আমাদের এখানে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান একটা সংকট সৃষ্টি করছে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। এটা আরও পরিবেশটাকে নষ্ট করছে। তবু আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মানবিক কারণে তাদের স্থান দিয়েছি, কিন্তু এখন যে পর্যায়ে যাচ্ছে—তারা আমাদের জন্য বড় একটা বোঝা হয়ে যাচ্ছে। তারাও তো মানুষ, আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। আজকে শরণার্থী তো সব জায়গাতেই হচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে কত মানুষ শরণার্থী হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদের সবসময়ের আহ্বান—আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।

ভারত সফর থেকে আমরা কী পেলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রশ্নটি আপেক্ষিত, এই প্রশ্নের জবাব নির্ভর করছে আপনি কীভাবে দেখছেন। ভাগ্যিস প্রশ্ন করেননি কী দিলাম। ’

ভারত সফরে নানা চুক্তি, আলোচনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ রকম যদি হিসাব করেন, মনে হয় না একবারে শূন্য হাতে এসেছি বলতে পাবেন না। তাছাড়া কী পেলাম কী পেলাম না এটা তো মনের ব্যাপার।
‘কী পেলাম না পেলাম এটা মনের ব্যাপার। বাংলাদেশে এত কাজ করার পর বিএনপি বলে কিছুই করিনি। এখানে বলার কিছু নেই। এটা মানুষের বিশ্বাসের ব্যাপার, আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার।’

ভারত থেকে কম দামে তেল আনতে দেশটির কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বাঘাবাড়ি হয়ে উত্তরবঙ্গে তেল পাঠাতে হবে না। সরাসরি ভারত থেকে সেখানে তেল গেলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি আরও বেগবান হবে। এই তেল আনতে পাইপলাইন করে দিচ্ছে ভারত। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ডিপোতে তেল থাকবে।’

ভারত থেকে এলএনজি আমদানির ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এই তরল গ্যাস খুলনায় আনতে চায় বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্ট, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নেই। আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গেছেন, কিন্তু এরপরও বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোনো চিড় ধরেনি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশটিতে সফর করেন সরকারপ্রধান। দেশটির সঙ্গে সাতটি সমঝোতা সই হয় এই সফরে।

শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করলে বরাবর সে সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। এতে সফরের বিষয়ে একটি লিখিত বিবৃতি দেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেন। সেই প্রশ্নোত্তর পর্বে সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়গুলোই প্রাধান্য পায়।

তবে ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনগুলো একটু ব্যতিক্রম হয় এই কারণে যে, প্রশ্নগুলো সাধারণত সফর নিয়েই থাকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত সব সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আওয়ামী লীগবিরোধীরা বরাবর অভিযোগ করে আসছে যে, ক্ষমতাসীনরা ভারতের প্রতি দুর্বল এবং তারা জোরালভাবে দাবি তুলে ধরতে পারে না।
বিপরীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের কাছ থেকে যা কিছু আদায় করতে পেরেছে তার সবই করেছে আওয়ামী লীগ। বিরোধীরা কথার মালা ছাড়া কিছুই করতে পারে না।
এর আগে শেখ হাসিনা যতবার ভারত সফর করেছেন, ততবার দেশটির সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে খুঁটিনাটি সংবাদ সম্মেলন থেকেই জানা গেছে।

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সাড়া ইতিবাচক, সমস্যা মিয়ানমার: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 01:03:31 pm, Wednesday, 14 September 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতকে আমরা বলেছি তারা যেন মিয়ানমার ইস্যুতে সহযোগিতা করে। তাদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে মিয়ানমারের সরকারকে নিয়ে। যে যতই চাপ দিক—এরা কোনও ব্যাপারই নেয় না। এরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত আছে। এখানেই বড় সমস্যা। কিন্তু ভারত মনে করে—এটার সমাধান হওয়া উচিত।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণভবনে ভারত সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের মনোভাব কী জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারত এটা উপলব্ধি করে যে আমাদের এখানে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন অবস্থান একটা সংকট সৃষ্টি করছে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। এটা আরও পরিবেশটাকে নষ্ট করছে। তবু আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মানবিক কারণে তাদের স্থান দিয়েছি, কিন্তু এখন যে পর্যায়ে যাচ্ছে—তারা আমাদের জন্য বড় একটা বোঝা হয়ে যাচ্ছে। তারাও তো মানুষ, আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। আজকে শরণার্থী তো সব জায়গাতেই হচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে কত মানুষ শরণার্থী হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদের সবসময়ের আহ্বান—আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই।

ভারত সফর থেকে আমরা কী পেলাম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফরিদ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রশ্নটি আপেক্ষিত, এই প্রশ্নের জবাব নির্ভর করছে আপনি কীভাবে দেখছেন। ভাগ্যিস প্রশ্ন করেননি কী দিলাম। ’

ভারত সফরে নানা চুক্তি, আলোচনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ রকম যদি হিসাব করেন, মনে হয় না একবারে শূন্য হাতে এসেছি বলতে পাবেন না। তাছাড়া কী পেলাম কী পেলাম না এটা তো মনের ব্যাপার।
‘কী পেলাম না পেলাম এটা মনের ব্যাপার। বাংলাদেশে এত কাজ করার পর বিএনপি বলে কিছুই করিনি। এখানে বলার কিছু নেই। এটা মানুষের বিশ্বাসের ব্যাপার, আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার।’

ভারত থেকে কম দামে তেল আনতে দেশটির কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বাঘাবাড়ি হয়ে উত্তরবঙ্গে তেল পাঠাতে হবে না। সরাসরি ভারত থেকে সেখানে তেল গেলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি আরও বেগবান হবে। এই তেল আনতে পাইপলাইন করে দিচ্ছে ভারত। দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ডিপোতে তেল থাকবে।’

ভারত থেকে এলএনজি আমদানির ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এই তরল গ্যাস খুলনায় আনতে চায় বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্ট, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নেই। আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চলেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গেছেন, কিন্তু এরপরও বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোনো চিড় ধরেনি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশটিতে সফর করেন সরকারপ্রধান। দেশটির সঙ্গে সাতটি সমঝোতা সই হয় এই সফরে।

শেখ হাসিনা বিদেশ সফর করলে বরাবর সে সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। এতে সফরের বিষয়ে একটি লিখিত বিবৃতি দেন। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাব দেন। সেই প্রশ্নোত্তর পর্বে সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়গুলোই প্রাধান্য পায়।

তবে ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনগুলো একটু ব্যতিক্রম হয় এই কারণে যে, প্রশ্নগুলো সাধারণত সফর নিয়েই থাকে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত সব সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আওয়ামী লীগবিরোধীরা বরাবর অভিযোগ করে আসছে যে, ক্ষমতাসীনরা ভারতের প্রতি দুর্বল এবং তারা জোরালভাবে দাবি তুলে ধরতে পারে না।
বিপরীতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের কাছ থেকে যা কিছু আদায় করতে পেরেছে তার সবই করেছে আওয়ামী লীগ। বিরোধীরা কথার মালা ছাড়া কিছুই করতে পারে না।
এর আগে শেখ হাসিনা যতবার ভারত সফর করেছেন, ততবার দেশটির সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়ে খুঁটিনাটি সংবাদ সম্মেলন থেকেই জানা গেছে।