1:14 am, Monday, 15 June 2026

লন্ডনে নিজ গৃহে ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়ে তুলেছেন মৌলভীবাজারের মাওলানা শেখ রুম্মান আহমদ


বিকুল চক্রবর্তী, ইউকে থেকে: প্রবাসে ব্যস্ত জীবন হলেও বই পড়া বা বই সংগ্রহ করা বাদ দেননি বর্তমান লন্ডন প্রবাসী মৌলভীবাজারের সন্তান সাহিত্যানুরাগী মাওলানা শেখ রুম্মান আহমদ। তিনি নিজ গৃহে গড়ে তুলেছেন একটি ব্যক্তিগত পাঠাগার।
প্রথমবার লন্ডন সফরে গেলে আমার ফেইসবুক পোষ্ট দেখে মাওলানা শেখ রুম্মান আহমদ আমাকে ফোন করে চলে আসেন আমার কাছে লন্ডন সিটির কর্মারশিয়াল সড়কের বেট্টি স্ট্রিট এ। অনেকটা জোড় করে ধরে নিয়ে যান উনার বাসায়। যেতে যেতে অনেক কথা হয় রোম্মানের সাথে। দেশে থাকতে তিনি সাহিত্যাঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছিলেন একটি গণমাধ্যমের সাথেও। তিনি মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নিয়মিত দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক । তার গাড়িতে বসে যেতে যেতে কথা হয় অনেক বিষয়ে। তিনি জানান, লন্ডনের একটি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। লন্ডনে নতুন প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষাও দেন। জীবিকার জন্য এর বাহিরেও আরো কিছু কাজও তাকে করতে হয়। এর পর পরিবার সামাল দিতে হয়। পুরো পরিবারে তিনি একাই চালকদার।


তার বাড়িতে প্রবেশ করতেই একটা সিমসাম গোছানো পরিবেশ দেখে বেশ ভালোই লাগে। নিচে জুতা খুলে উপরে বসার রোমে প্রবেশ করতেই চোখে পড়লো ঘরের এক পাশে বিশাল একটি বুক সেল্প। বসার আগেই আমি চলে যাই বিশাল ওই বুক সেল্প এর কাছে। সেখানে দেখা মিলে বিভিন্ন লেখকের হাজারো বই। রোমটায় অনেকটা পাঠাগারের অবয়ব বিরাজ করছে। বুক সেল্প থেকে বই নিয়ে পাশে সোফায় বসে বই পড়া যায়। সময় কম তবুও দু একটা বই উল্টায়ে পাল্টায়ে দেখে নিলাম। বেশিরভাগ বই-ই ইসলামিক।
শেখ মো. রোম্মান জানান, বই পড়তে ও সংগ্রহ করতে তার ভালো লাগে। কাজের ফাঁকে তিনি যতটা সময় পান তখন চলে আসেন তার সখের এই পাঠাগারে। তিনি বলেন প্রায় সময় তার বাসায় অনেক মেহমান আসেন। আশে পাশের প্রতিবেশিরাও সময় পেলে এখানে আসেন। তার এই ব্যক্তিগত পাঠাগারের বই সবার জন্য উন্মুক্ত। কেউ তার বাড়িতে নিয়ে পড়তে চাইলে তিনি না করেন না, বরং সানন্দে তা দিয়ে থাকেন।
রোম্মানের বাসা থেকে যথন ফিরে আসলাম তখন রাত হয়েগেছে। পরদিন আমি রোম্মানের ব্যক্তিগত পাঠাগারের গল্পটি আমার আরেক শোভাকাঙ্কি ফুটবলার হামিদ মামার সাথে শেয়ার করি। তিনি জানান, তোমারও বই পছন্দ নিশ্চয়। এই জন্য তোমার খুব ভালো লেগেছে। তখন তিনি আমাকে লন্ডনে অনেক বড় বড় পাঠাগার আছে, আমি মেম্বার হতে চাই কিনা জানালে, আমি বলি সুযোগ পেলে অবশ্যই হবো। তার পর তিনি আমাকে লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস এর বৃহৎপাঠাগার আইডিয়া স্টোর (আইডিইএ) এর মেম্বার করে দেন। আমার মেম্বারশীপ নাম্বার ডি০০০৮১৭০৩৭ । সময় কম থাকায় এই পাঠাগার থেকে মাত্র দুইবার দুটি বই নিয়েছি আবার যথা নিয়মে ফেরত দিয়েছে। ভবিষতেও পড়ার আগ্রহ আছে। শেখ মো. রোম্মন এর বই প্রেমের প্রতি কৃতজ্ঞতা।


Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা

লন্ডনে নিজ গৃহে ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়ে তুলেছেন মৌলভীবাজারের মাওলানা শেখ রুম্মান আহমদ

Update Time : 03:27:54 pm, Thursday, 18 September 2025


বিকুল চক্রবর্তী, ইউকে থেকে: প্রবাসে ব্যস্ত জীবন হলেও বই পড়া বা বই সংগ্রহ করা বাদ দেননি বর্তমান লন্ডন প্রবাসী মৌলভীবাজারের সন্তান সাহিত্যানুরাগী মাওলানা শেখ রুম্মান আহমদ। তিনি নিজ গৃহে গড়ে তুলেছেন একটি ব্যক্তিগত পাঠাগার।
প্রথমবার লন্ডন সফরে গেলে আমার ফেইসবুক পোষ্ট দেখে মাওলানা শেখ রুম্মান আহমদ আমাকে ফোন করে চলে আসেন আমার কাছে লন্ডন সিটির কর্মারশিয়াল সড়কের বেট্টি স্ট্রিট এ। অনেকটা জোড় করে ধরে নিয়ে যান উনার বাসায়। যেতে যেতে অনেক কথা হয় রোম্মানের সাথে। দেশে থাকতে তিনি সাহিত্যাঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছিলেন একটি গণমাধ্যমের সাথেও। তিনি মৌলভীবাজার জেলার একমাত্র নিয়মিত দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক । তার গাড়িতে বসে যেতে যেতে কথা হয় অনেক বিষয়ে। তিনি জানান, লন্ডনের একটি মসজিদের মোয়াজ্জেম হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। লন্ডনে নতুন প্রজন্মকে ইসলামী শিক্ষাও দেন। জীবিকার জন্য এর বাহিরেও আরো কিছু কাজও তাকে করতে হয়। এর পর পরিবার সামাল দিতে হয়। পুরো পরিবারে তিনি একাই চালকদার।


তার বাড়িতে প্রবেশ করতেই একটা সিমসাম গোছানো পরিবেশ দেখে বেশ ভালোই লাগে। নিচে জুতা খুলে উপরে বসার রোমে প্রবেশ করতেই চোখে পড়লো ঘরের এক পাশে বিশাল একটি বুক সেল্প। বসার আগেই আমি চলে যাই বিশাল ওই বুক সেল্প এর কাছে। সেখানে দেখা মিলে বিভিন্ন লেখকের হাজারো বই। রোমটায় অনেকটা পাঠাগারের অবয়ব বিরাজ করছে। বুক সেল্প থেকে বই নিয়ে পাশে সোফায় বসে বই পড়া যায়। সময় কম তবুও দু একটা বই উল্টায়ে পাল্টায়ে দেখে নিলাম। বেশিরভাগ বই-ই ইসলামিক।
শেখ মো. রোম্মান জানান, বই পড়তে ও সংগ্রহ করতে তার ভালো লাগে। কাজের ফাঁকে তিনি যতটা সময় পান তখন চলে আসেন তার সখের এই পাঠাগারে। তিনি বলেন প্রায় সময় তার বাসায় অনেক মেহমান আসেন। আশে পাশের প্রতিবেশিরাও সময় পেলে এখানে আসেন। তার এই ব্যক্তিগত পাঠাগারের বই সবার জন্য উন্মুক্ত। কেউ তার বাড়িতে নিয়ে পড়তে চাইলে তিনি না করেন না, বরং সানন্দে তা দিয়ে থাকেন।
রোম্মানের বাসা থেকে যথন ফিরে আসলাম তখন রাত হয়েগেছে। পরদিন আমি রোম্মানের ব্যক্তিগত পাঠাগারের গল্পটি আমার আরেক শোভাকাঙ্কি ফুটবলার হামিদ মামার সাথে শেয়ার করি। তিনি জানান, তোমারও বই পছন্দ নিশ্চয়। এই জন্য তোমার খুব ভালো লেগেছে। তখন তিনি আমাকে লন্ডনে অনেক বড় বড় পাঠাগার আছে, আমি মেম্বার হতে চাই কিনা জানালে, আমি বলি সুযোগ পেলে অবশ্যই হবো। তার পর তিনি আমাকে লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস এর বৃহৎপাঠাগার আইডিয়া স্টোর (আইডিইএ) এর মেম্বার করে দেন। আমার মেম্বারশীপ নাম্বার ডি০০০৮১৭০৩৭ । সময় কম থাকায় এই পাঠাগার থেকে মাত্র দুইবার দুটি বই নিয়েছি আবার যথা নিয়মে ফেরত দিয়েছে। ভবিষতেও পড়ার আগ্রহ আছে। শেখ মো. রোম্মন এর বই প্রেমের প্রতি কৃতজ্ঞতা।