10:28 am, Wednesday, 22 April 2026

শিশু গৃহকর্মীকে বাবা-ছেলে মিলে পাশবিক নির্যাতন!

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১০ বছরের এক শিশুকে তিন বছর ধরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শহরের মুসলিমবাগ এলাকায় ‘পাখির বাসা’ নামক একটি বাসায় বাবা ও ২ ছেলে এ নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। নির্যাতনে বাধা দিলে গৃহকর্ত্রীও শিশুটির ওপর নির্যাতনে অংশ নেয়।

‘পাখির বাসা’র মালিক রনি শেখ ও তার ছেলে হাসান গত তিন বছর ধরে শিশুটির ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালাতেন- এমন অভিযোগ পেয়ে শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকায় ওই বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এর আগে শুক্রবার রাতে শিশুটি নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে পাশের বাসায় আশ্রয় নেয়। এ খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়রের ভাতিজা রাজ ও ভাই শাহীন আহমেদ ও ইসমাইল হোসেন নামে কয়েক যুবক শিশুটিকে উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সামনেই শিশুটি তার ওপর নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

এ সময় পুলিশ ওই বাসা থেকে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে রনি শেখের ছেলে হাসানকে আটক করে।

নির্যাতিত শিশুটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার চম্পারাই চা বাগানের বলে জানিয়েছে। সে তার বাবার নাম বলতে পারেনি। বাদল নামে এক ব্যক্তিকে সে বাবা বলে জানত।

শিশুটি গণমাধ্যমকর্মীকে জানায়, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায়। সেই থেকে বাদলকে সে বাবা বলে জানে। প্রায় তিন বছর আগে বাদল শ্রীমঙ্গলের ওই বাসায় কাজের জন্য রেখে যায়। এরপর তার বাবার মতো চাচা বা মা কেউ তাকে কখনো দেখতে আসেনি। ফোনেও খোঁজ নেয়নি। আর এই তিন বছর রনি শেখ ও তার ছেলে হাসান তার ওপর অমানুষিক যৌন নির্যাতন চালায়। পা টিপে দেওয়ার কথা বলে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করত।

বাধা দিলে লাথি দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিত। রনি শেখের স্ত্রী রোশনা বেগমও তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করত। এ সময় শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে তার জামার অংশ খুলে পিঠে বিভিন্ন ক্ষত দেখায় স্থানীয়দের।

অন্য দিনের মতো শুক্রবার রাতেও রনি শেখ ও তার পরিবারের লোকজন শিশুকে পাশবিক নির্যাতন করে। তার পরিধানের জামা ছিঁড়ে ফেলে। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাসার দেয়াল টপকে পালিয়ে পাশের আব্দুল বাসিত নামে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। আব্দুল বাসিত ঘটনা শুনে তাকে রাতে আশ্রয় দেন এবং শনিবার সকালে স্থানীয়দের জানান।

প্রতিবেশী আব্দুর রব জানান, প্রায়ই ওই বাসা থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। ১৫ দিন আগে মেয়েটি তার বাসায় এসে নির্যাতনের কথা জানায়। পরে রনি শেখ বুঝিয়ে মেয়েটিকে আবার তার বাসায় নিয়ে যান।

জানতে চাইলে রনি শেখ নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটির মানসিক সমস্যা রয়েছে। মেয়েটি প্রায় এরকম মিথ্যা কথা বলে।

শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক তীতংকর বলেন, হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে । তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

শিশু গৃহকর্মীকে বাবা-ছেলে মিলে পাশবিক নির্যাতন!

Update Time : 08:16:08 am, Sunday, 3 April 2022

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১০ বছরের এক শিশুকে তিন বছর ধরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শহরের মুসলিমবাগ এলাকায় ‘পাখির বাসা’ নামক একটি বাসায় বাবা ও ২ ছেলে এ নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। নির্যাতনে বাধা দিলে গৃহকর্ত্রীও শিশুটির ওপর নির্যাতনে অংশ নেয়।

‘পাখির বাসা’র মালিক রনি শেখ ও তার ছেলে হাসান গত তিন বছর ধরে শিশুটির ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালাতেন- এমন অভিযোগ পেয়ে শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকায় ওই বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এর আগে শুক্রবার রাতে শিশুটি নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে পাশের বাসায় আশ্রয় নেয়। এ খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়রের ভাতিজা রাজ ও ভাই শাহীন আহমেদ ও ইসমাইল হোসেন নামে কয়েক যুবক শিশুটিকে উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সামনেই শিশুটি তার ওপর নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

এ সময় পুলিশ ওই বাসা থেকে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে রনি শেখের ছেলে হাসানকে আটক করে।

নির্যাতিত শিশুটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার চম্পারাই চা বাগানের বলে জানিয়েছে। সে তার বাবার নাম বলতে পারেনি। বাদল নামে এক ব্যক্তিকে সে বাবা বলে জানত।

শিশুটি গণমাধ্যমকর্মীকে জানায়, ছোটবেলায় তার বাবা মারা যায়। সেই থেকে বাদলকে সে বাবা বলে জানে। প্রায় তিন বছর আগে বাদল শ্রীমঙ্গলের ওই বাসায় কাজের জন্য রেখে যায়। এরপর তার বাবার মতো চাচা বা মা কেউ তাকে কখনো দেখতে আসেনি। ফোনেও খোঁজ নেয়নি। আর এই তিন বছর রনি শেখ ও তার ছেলে হাসান তার ওপর অমানুষিক যৌন নির্যাতন চালায়। পা টিপে দেওয়ার কথা বলে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করত।

বাধা দিলে লাথি দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিত। রনি শেখের স্ত্রী রোশনা বেগমও তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করত। এ সময় শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে তার জামার অংশ খুলে পিঠে বিভিন্ন ক্ষত দেখায় স্থানীয়দের।

অন্য দিনের মতো শুক্রবার রাতেও রনি শেখ ও তার পরিবারের লোকজন শিশুকে পাশবিক নির্যাতন করে। তার পরিধানের জামা ছিঁড়ে ফেলে। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাসার দেয়াল টপকে পালিয়ে পাশের আব্দুল বাসিত নামে একজনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। আব্দুল বাসিত ঘটনা শুনে তাকে রাতে আশ্রয় দেন এবং শনিবার সকালে স্থানীয়দের জানান।

প্রতিবেশী আব্দুর রব জানান, প্রায়ই ওই বাসা থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত। ১৫ দিন আগে মেয়েটি তার বাসায় এসে নির্যাতনের কথা জানায়। পরে রনি শেখ বুঝিয়ে মেয়েটিকে আবার তার বাসায় নিয়ে যান।

জানতে চাইলে রনি শেখ নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটির মানসিক সমস্যা রয়েছে। মেয়েটি প্রায় এরকম মিথ্যা কথা বলে।

শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক তীতংকর বলেন, হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক রাখা হয়েছে । তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।