12:40 am, Wednesday, 22 April 2026

শ্রীমঙ্গলে ৫০০ বছরের প্রাচীন শ্রীশ্রী মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রমে চলছে আগাম ‘নবদূর্গা পূজা’

স্টাফ রিপোর্টার : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইছামতি চা বাগানের ভেতরে ৫০০ বছরের প্রাচীন শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী সেবা শ্রমে চলছে আগাম নবদুর্গা পূজা। হিন্দুশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী দেবী দুর্গার নয়টি রূপ। প্রতিবছর নবদূর্গা পূজার আয়োজন করে থাকে মঙ্গলচন্ডী মন্দির ও সেবাশ্রম কমিটি। পূজা দেখতে প্রতিদিনই মন্ডপে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

আগামী ২০ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা ও প্রতিমা দর্শন শুরু হলেও ইছামতি চাবাগানের ভেতরে এই প্রাচীন মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রমে গত ১৫ অক্টোবর রবিবার থেকে শৈলপুত্রি দুর্গা দেবীর পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে আগাম দুর্গাপূজা।

প্রথমদিন দেবীর শৈলপুত্রী রূপে পূজার পর একে একে আগামী দশমী তিথি পর্যন্ত দেবীর ব্রহ্মচারিণী, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রী, মহা গৌরি, চন্দ্রঘণ্টা ও সিদ্ধিধাত্রী রূপে পূজা করা হবে।

ব্যতিক্রমী এ পূজা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। নানা ধরণের দোকান পাঠ বসেছে মেলা। প্রতিদিন শত শত ভক্ত দর্শনার্থী ও সনাতন ধর্মের মানুষ মানত নিয়ে আসছেন নয়টি রূপে নবদুর্গার প্রতিমা দর্শনে। মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে ব্যতিক্রমী এই দুর্গা পূজাটি বাংলাদেশের একমাত্র আয়োজন বলে জানিয়েছেন উদযাপন কমিটি।

মৌলভীবাজার শেরপুরের রিনা রানী পাল বলেন, ‘এই প্রথম শুনেছি এখানে নবদুর্গার পূজা হয়। এখানে এসে আমার মনে তৃপ্তি পেয়েছি এবং খুবই ভালো লাগলো।’

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এই পূজা দেখতে আসা ভক্ত তুলি দত্ত ও তাঁর স্বামী অমিতাভ দাস পুরকায়স্থ জানান, এটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরাতন দেবস্থলী। আমরা এই প্রথম আসছি।’

শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী মন্ডিরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিজয় দেব ও ধুন রুদ্রপাল জানান, এই মন্দিরটি জাগ্রত একটি মন্দির। যার নাম শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী মন্দির। অনেকে মনে করেন শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী থেকেই শ্রীমঙ্গল নামের উৎপত্তি।’

মৌলভীবাজারের দিপালী দাস বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র শ্রীমঙ্গলে এই মন্দিরে দেবী-দূর্গাজার নয়টি রুপে পূজা করা হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মানত নিয়ে আসছি,প্রসাদ দিয়েছি।’ আর একই কথা জানালেন, পূর্বাশা এলাকার সঞ্চিতা ভট্রাচার্য্য, মির্জাপুর এলাকার বিনুরানী রায়, সুনির্মল ভট্রাচার্য্য।’

মঙ্গলচন্ডী পূজা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ^জিৎ দেব বলেন, তিনি ঐতিহাসিক স্থানটিকে ধরে রাখতে ১৪ বছর ধরে দেবীর নব রুপে পূজা করে আসছেন। এটা প্রায় ৫০০ বছরের পুরানো। তবে এর স্থায়ী রুপ দিতে প্রয়োজন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা।’

মঙ্গলচন্ডী পূজা কমিটির আয়োজক সুরঞ্জিত দাশ বলেন, ‘নবদুর্গা পূজায় এখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। তিনি আরও বলেন,মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে আসার যে রাস্তাটি খুবই খারাপ। বিগত ১৪ বছর ধরে পৌরানিক রীতি অনুযায়ী এখানে নবদুর্গার পূজার আয়োজন করে আসছি। তিনি আরও বলেন, ‘নবদূর্গা বলতে আভিধানিক ভাবে দেবী দুর্গার নয়টি রূপকে বোঝানো হয়। হিন্দুপুরাণ অনুসারে এগুলো দেবী পার্বতীর নয়টি ভিন্ন রূপ।এই নয়টি রূপ হল যথাক্রমে -শলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রী। প্রতি শরৎকালে দেবী পার্বতীর এই নয়টি রূপের পূজা করা হয়। শ্রীশ্রী মঙ্গলচন্ডীতে এই নয়টি নামের উল্লেখ আছে।’

শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী পুজা আয়োজক কমিটির সভাপতি পরিমল ভৌমিক বলেন, ‘প্রাচীনকালের মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রম হিসেবে পরিচিত। বিগত ১৪ বছর ধরে নবদূর্গা পূজা করে যাচ্ছি। প্রায় পাঁচশত বছর ধরে এখানে রয়েছে মঙ্গলচন্ডীদেবীর থলি।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

শ্রীমঙ্গলে ৫০০ বছরের প্রাচীন শ্রীশ্রী মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রমে চলছে আগাম ‘নবদূর্গা পূজা’

Update Time : 09:05:12 am, Wednesday, 18 October 2023

স্টাফ রিপোর্টার : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইছামতি চা বাগানের ভেতরে ৫০০ বছরের প্রাচীন শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী সেবা শ্রমে চলছে আগাম নবদুর্গা পূজা। হিন্দুশাস্ত্রের বিধান অনুযায়ী দেবী দুর্গার নয়টি রূপ। প্রতিবছর নবদূর্গা পূজার আয়োজন করে থাকে মঙ্গলচন্ডী মন্দির ও সেবাশ্রম কমিটি। পূজা দেখতে প্রতিদিনই মন্ডপে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

আগামী ২০ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠি পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা ও প্রতিমা দর্শন শুরু হলেও ইছামতি চাবাগানের ভেতরে এই প্রাচীন মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রমে গত ১৫ অক্টোবর রবিবার থেকে শৈলপুত্রি দুর্গা দেবীর পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে আগাম দুর্গাপূজা।

প্রথমদিন দেবীর শৈলপুত্রী রূপে পূজার পর একে একে আগামী দশমী তিথি পর্যন্ত দেবীর ব্রহ্মচারিণী, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রী, মহা গৌরি, চন্দ্রঘণ্টা ও সিদ্ধিধাত্রী রূপে পূজা করা হবে।

ব্যতিক্রমী এ পূজা দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। নানা ধরণের দোকান পাঠ বসেছে মেলা। প্রতিদিন শত শত ভক্ত দর্শনার্থী ও সনাতন ধর্মের মানুষ মানত নিয়ে আসছেন নয়টি রূপে নবদুর্গার প্রতিমা দর্শনে। মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে ব্যতিক্রমী এই দুর্গা পূজাটি বাংলাদেশের একমাত্র আয়োজন বলে জানিয়েছেন উদযাপন কমিটি।

মৌলভীবাজার শেরপুরের রিনা রানী পাল বলেন, ‘এই প্রথম শুনেছি এখানে নবদুর্গার পূজা হয়। এখানে এসে আমার মনে তৃপ্তি পেয়েছি এবং খুবই ভালো লাগলো।’

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এই পূজা দেখতে আসা ভক্ত তুলি দত্ত ও তাঁর স্বামী অমিতাভ দাস পুরকায়স্থ জানান, এটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরাতন দেবস্থলী। আমরা এই প্রথম আসছি।’

শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী মন্ডিরে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিজয় দেব ও ধুন রুদ্রপাল জানান, এই মন্দিরটি জাগ্রত একটি মন্দির। যার নাম শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী মন্দির। অনেকে মনে করেন শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী থেকেই শ্রীমঙ্গল নামের উৎপত্তি।’

মৌলভীবাজারের দিপালী দাস বলেন, বাংলাদেশের একমাত্র শ্রীমঙ্গলে এই মন্দিরে দেবী-দূর্গাজার নয়টি রুপে পূজা করা হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মানত নিয়ে আসছি,প্রসাদ দিয়েছি।’ আর একই কথা জানালেন, পূর্বাশা এলাকার সঞ্চিতা ভট্রাচার্য্য, মির্জাপুর এলাকার বিনুরানী রায়, সুনির্মল ভট্রাচার্য্য।’

মঙ্গলচন্ডী পূজা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ^জিৎ দেব বলেন, তিনি ঐতিহাসিক স্থানটিকে ধরে রাখতে ১৪ বছর ধরে দেবীর নব রুপে পূজা করে আসছেন। এটা প্রায় ৫০০ বছরের পুরানো। তবে এর স্থায়ী রুপ দিতে প্রয়োজন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা।’

মঙ্গলচন্ডী পূজা কমিটির আয়োজক সুরঞ্জিত দাশ বলেন, ‘নবদুর্গা পূজায় এখানে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। তিনি আরও বলেন,মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে আসার যে রাস্তাটি খুবই খারাপ। বিগত ১৪ বছর ধরে পৌরানিক রীতি অনুযায়ী এখানে নবদুর্গার পূজার আয়োজন করে আসছি। তিনি আরও বলেন, ‘নবদূর্গা বলতে আভিধানিক ভাবে দেবী দুর্গার নয়টি রূপকে বোঝানো হয়। হিন্দুপুরাণ অনুসারে এগুলো দেবী পার্বতীর নয়টি ভিন্ন রূপ।এই নয়টি রূপ হল যথাক্রমে -শলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রী। প্রতি শরৎকালে দেবী পার্বতীর এই নয়টি রূপের পূজা করা হয়। শ্রীশ্রী মঙ্গলচন্ডীতে এই নয়টি নামের উল্লেখ আছে।’

শ্রী শ্রী মঙ্গলচন্ডী পুজা আয়োজক কমিটির সভাপতি পরিমল ভৌমিক বলেন, ‘প্রাচীনকালের মঙ্গলচন্ডী সেবাশ্রম হিসেবে পরিচিত। বিগত ১৪ বছর ধরে নবদূর্গা পূজা করে যাচ্ছি। প্রায় পাঁচশত বছর ধরে এখানে রয়েছে মঙ্গলচন্ডীদেবীর থলি।’