5:38 am, Saturday, 16 May 2026

স্কুলের তিন ক্ষুদে শিক্ষার্থী নিহত,আহত ৮

স্টাফ রিপোর্ট :: প্রাথমিকে পড়ুয়া একই স্কুলের তিন ক্ষুদে শিক্ষার্থী গ্রামের হাওরে বাদাম তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। একই সময় আহত হয়েছেন ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও নারী সহ কমপক্ষে আরো ৮ জন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাটের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে থাকা হাওরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে সোয়া ১১টার দিকে বজ্রপাতে নিহত ও হতাহতের এ ঘটনাটি ঘটেছে।
স্কুলের নিহত ক্ষুদে তিন শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার বাদাঘাটের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হালিমের ১৩ বছরের শিশুকন্যা সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী তাওহিদা বেগম,একই গ্রামের প্রতিবেশী ফজ রহমানের ১১ বছর বয়সী শিশুকন্যা পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী রিপা বেগম, আব্দুল আজিজের ১২ বছর বয়সী শিশুপুত্র ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্র আমিরুল ইসলাম। নিহত তিন শিক্ষার্থী উপজেলার ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন।

আহতরা হলেন, উপজেলার বাদাঘাটের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হালিমের অপর শিশুপুত্র নিহত স্কুল ছাত্রী তাওহিদার সহোদর ভাই নবম শ্রেণির স্কুলছাত্র মাছুম মিয়া (১৫), বোন দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ওয়াহিদা বেগম(৭),তাসলিমা আক্তার(৪),একই গ্রামের আব্দুল আউয়ালের শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী আলিজা বেগম(৭), আব্দুস সাক্তারের শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার পুস্প(৭),ফজ রহমানের অপর শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শেফা আক্তার (৭),আব্দুল আজিজের অপর শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্রী রিয়া মণি (৭), মৃত এনাম উদ্দিনের ছেলে হবি রহমান(৪৫)।

আহতদের মধ্যে আশংকাজনক থাকায় দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও অপর দুজনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেলক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বজ্রপাতে এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ গোটা উপজেলার মানুষজনের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে সরজমিনে গিয়ে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী,হাওরে বাদাম তুলতে যাওয়া উপজেলা সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মালেকের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫) ও নিহতের পরিবারের সাথে আলাপকালে জানা যায়,বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হালিমের গ্রামের সামনে থাকা হাওরের জমিতে শ্রমিক, প্রতিবেশী পরিবারের নারী পুরুষ,শিশু কিশোর-কিশোরদের সাথে তার নিজ পরিবারের শিশু সন্তান সহ ৩০ থেকে ৩৫ জন এক সাথে উৎপাতিত রবিশস্য বাদাম তুলতে যান।

বেলা ১১ থেকে সোয়া ১১টার দিকে আকস্মিক ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষরা দৌড়ে হাওরের পাশে থাকা ঘর-বাড়িতে আশ্রয় নেন। অপরদিকে জমি মালিক আব্দুল হালিমের শিশু সন্তান সহ বেশ কয়েকজন শিশু হাওরের জমিতে থাকা এক পাতার টিন ছাউনি ও প্লাষ্টিকের ত্রিপালের নিচে আশ্রয় নেন। এরপর আকস্মিক বজ্রপাত পড়লে স্কুলের তিন ক্ষুদে শিক্ষার্থী হাওরের জমিতেই তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এবং ক্ষুদে শিক্ষার্থী,নারী,পুরুষ সহ বাদাম তুলতে হাওরের জমিতে থাকা আরো ৮ জন আহত হন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রমান বিপিএমের নির্দেশে নিহতদের উদ্যার ও হতাহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, এএসআই মো. আরিফুর রহমান সহ পুলিশের একটি টিম।
একই সময় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.রায়হান কবির ঘটনাস্থলে নিহত পরিবারের সদস্য ও হতাহতদের সরকার, জেলা , উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি প্রত্যেক নিহত পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি সহায়তা হিসাবে লাশ দাফনের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন।

 

 

একই সময় উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও উওর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাসুক মিয়া নিহত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাক্তিগত তহবিল হতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.রায়হান কবির বলেন,জেলা প্রশাসক মহোদায় বজ্রপাতে নিহত শিক্ষার্থীদের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন,এছাড়াও আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ধরণের সরকারি সহায়তা করতে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে বজ্রপাতে স্কুলের নিহত তিন শিক্ষার্থীর শোকাহত পরিবার ও হতাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন,পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম।
শুক্রবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের দাফন কাজ সম্পন্ন করতে আপাতত ইউএনও’র মাধ্যমে নগদ ২০ হাজার টাকা করে আর্থীক সহায়তা দেয়া হয়েছে পরবর্তীতে নিহত প্রতিটি পরিবারকে ও হতাহতদের প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থীক সহায়তা প্রদান করা হবে।।,

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্কুলের তিন ক্ষুদে শিক্ষার্থী নিহত,আহত ৮

Update Time : 08:54:24 am, Friday, 20 May 2022

স্টাফ রিপোর্ট :: প্রাথমিকে পড়ুয়া একই স্কুলের তিন ক্ষুদে শিক্ষার্থী গ্রামের হাওরে বাদাম তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। একই সময় আহত হয়েছেন ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও নারী সহ কমপক্ষে আরো ৮ জন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাটের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের সামনে থাকা হাওরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে সোয়া ১১টার দিকে বজ্রপাতে নিহত ও হতাহতের এ ঘটনাটি ঘটেছে।
স্কুলের নিহত ক্ষুদে তিন শিক্ষার্থীরা হলেন, উপজেলার বাদাঘাটের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হালিমের ১৩ বছরের শিশুকন্যা সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী তাওহিদা বেগম,একই গ্রামের প্রতিবেশী ফজ রহমানের ১১ বছর বয়সী শিশুকন্যা পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রী রিপা বেগম, আব্দুল আজিজের ১২ বছর বয়সী শিশুপুত্র ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্র আমিরুল ইসলাম। নিহত তিন শিক্ষার্থী উপজেলার ঘাগটিয়া সরকারি প্রাথমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন।

আহতরা হলেন, উপজেলার বাদাঘাটের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হালিমের অপর শিশুপুত্র নিহত স্কুল ছাত্রী তাওহিদার সহোদর ভাই নবম শ্রেণির স্কুলছাত্র মাছুম মিয়া (১৫), বোন দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ওয়াহিদা বেগম(৭),তাসলিমা আক্তার(৪),একই গ্রামের আব্দুল আউয়ালের শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী আলিজা বেগম(৭), আব্দুস সাক্তারের শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার পুস্প(৭),ফজ রহমানের অপর শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শেফা আক্তার (৭),আব্দুল আজিজের অপর শিশুকন্যা দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্রী রিয়া মণি (৭), মৃত এনাম উদ্দিনের ছেলে হবি রহমান(৪৫)।

আহতদের মধ্যে আশংকাজনক থাকায় দুই ক্ষুদে শিক্ষার্থীকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও অপর দুজনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেলক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বজ্রপাতে এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ গোটা উপজেলার মানুষজনের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে সরজমিনে গিয়ে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী,হাওরে বাদাম তুলতে যাওয়া উপজেলা সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের প্রয়াত আব্দুল মালেকের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫) ও নিহতের পরিবারের সাথে আলাপকালে জানা যায়,বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হালিমের গ্রামের সামনে থাকা হাওরের জমিতে শ্রমিক, প্রতিবেশী পরিবারের নারী পুরুষ,শিশু কিশোর-কিশোরদের সাথে তার নিজ পরিবারের শিশু সন্তান সহ ৩০ থেকে ৩৫ জন এক সাথে উৎপাতিত রবিশস্য বাদাম তুলতে যান।

বেলা ১১ থেকে সোয়া ১১টার দিকে আকস্মিক ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষরা দৌড়ে হাওরের পাশে থাকা ঘর-বাড়িতে আশ্রয় নেন। অপরদিকে জমি মালিক আব্দুল হালিমের শিশু সন্তান সহ বেশ কয়েকজন শিশু হাওরের জমিতে থাকা এক পাতার টিন ছাউনি ও প্লাষ্টিকের ত্রিপালের নিচে আশ্রয় নেন। এরপর আকস্মিক বজ্রপাত পড়লে স্কুলের তিন ক্ষুদে শিক্ষার্থী হাওরের জমিতেই তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এবং ক্ষুদে শিক্ষার্থী,নারী,পুরুষ সহ বাদাম তুলতে হাওরের জমিতে থাকা আরো ৮ জন আহত হন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রমান বিপিএমের নির্দেশে নিহতদের উদ্যার ও হতাহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, এএসআই মো. আরিফুর রহমান সহ পুলিশের একটি টিম।
একই সময় তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.রায়হান কবির ঘটনাস্থলে নিহত পরিবারের সদস্য ও হতাহতদের সরকার, জেলা , উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি প্রত্যেক নিহত পরিবারের সদস্যদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি সহায়তা হিসাবে লাশ দাফনের জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন।

 

 

একই সময় উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও উওর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাসুক মিয়া নিহত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাক্তিগত তহবিল হতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো.রায়হান কবির বলেন,জেলা প্রশাসক মহোদায় বজ্রপাতে নিহত শিক্ষার্থীদের ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন,এছাড়াও আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ধরণের সরকারি সহায়তা করতে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে খবর পেয়ে বজ্রপাতে স্কুলের নিহত তিন শিক্ষার্থীর শোকাহত পরিবার ও হতাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন,পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম।
শুক্রবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের দাফন কাজ সম্পন্ন করতে আপাতত ইউএনও’র মাধ্যমে নগদ ২০ হাজার টাকা করে আর্থীক সহায়তা দেয়া হয়েছে পরবর্তীতে নিহত প্রতিটি পরিবারকে ও হতাহতদের প্রত্যেককে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থীক সহায়তা প্রদান করা হবে।।,