6:17 am, Wednesday, 22 April 2026

হাকালুকি হাওরের ৮ মৎস্য অভয়াশ্রমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি রোধে মৎস্য বিভাগের নানা উদ্যোগ

বড়লেখা প্রতিনিধি: এশিয়ার অন্যতম ও দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকির ৮ অভয়াশ্রম বিলের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েই জীববৈচিত্র রক্ষা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি ঠেকাতে মৎস্য অধিদপ্তর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে মাছের আবাসস্থল নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য নিশ্চিত, মাছলুটেরার কবল থেকে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে রাজস্ব বাজেটে হাতে নেওয়া একটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে। এতে বদলে যাচ্ছে অভয়াশ্রম বিলের চিত্র। আবাসস্থল নিরাপদ করার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রজনন মৌসুমে অভয়াশ্রমের মা মাছ আশপাশের বিলে ছড়িয়ে আশাতীত উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ সিরাজী হাকালুকি হাওরের অভয়াশ্রম বিলগুলো পরিদর্শণ করেছেন।

হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা জুড়ে রয়েছে হাওরের বিস্তৃতি।

জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। হাকালুকি হাওর টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, ইকোটুরিজ্যম শিল্প বিকাশের এক অসাধারণ আধার। যা কেবল মৎস্য অভয়াশ্রম স্থায়ীভাবে সংরক্ষনের মাধ্যমে হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা আর দুর্বল রক্ষনাবেক্ষণের কারণে হাওরের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র দ্রæতগতিতে ধংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পরিপ্রেক্ষিত-২০০৯ এর জরিপ থেকে জানা যায়, হাকালুকি হাওরের ২৮১টি বিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ও আংশিক ভরাট হয়ে গেছে ২৩৩টি বিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কমে যাচ্ছে বিলগুলোর পানির পরিমাণ। ফলে যে বিলগুলো এখনও টিকে আছে, সেগুলোতে পানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সরকার ২০১০ এবং ২০১১ সালে ১৮টি বিলের (জলমহাল) ইজারা বাতিল করে স্থায়ী অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। পরে পাঁচটি অভয়াশ্রম বিল বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমিতির নামে ভূমি মন্ত্রণালয় ইজারা দিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ইজারা থেকে বাদ পড়া ছয়টি বিল অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সমাজভিত্তিক জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পকে (সিবিএ-ইসিএ)। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রক্ষকরা ভক্ষকের ভুমিকা পালনে বিগত ১০-১২ বছরে হাকালুকির অভয়াশ্রম ঘোষিত বিলের তেমন কোন সুফল মিলেনি।

হাকালুকি হাওরে ৪ হাজার হেক্টর আয়তন জুড়ে প্রায় ৩শ’ জলমহাল (বিল) রয়েছে। যা ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন তিন বছর মেয়াদের জন্য বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমিতির নিকট ইজারা দিয়ে থাকে। এরমধ্যে ১৮টি বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ৮টিতে ঠেকেছে। এই ৮টি অভয়াশ্রম বিলের আয়তন মাত্র ১৬০ হেক্টর। স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো হচ্ছে কৈয়ারকোণা, মইয়াজুড়ী, নিমু, তেকুনি, টোলার, আগদার, মাইছলার ডাক ও কাংলী গোবর কুড়ি বিল।

হাওরের ৪ হাজার হেক্টর বিলের মধ্যে মাত্র ১৬০ হেক্টর অভয়াশ্রম অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রত্যেকটি ফসলের জন্য যেমন বীজ সংরক্ষণ জরুরি, ঠিক তেমনি হাওরের ব্রীড যদি একবার হারিয়ে যায়, তাহলে তা ফিরিয়ে আনা খুবই দুঃসাধ্য। তখন হাওরে দেশীয় প্রজাতির মাছের বিপরীতে বৃদ্ধি পাবে তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ বা সাকার মাউথ ক্যাটফিশের মত মাছ। এতে হয়ত উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে আমাদের হাওরের দেশীয় শত শত প্রজাতির সুস্বাদু মাছ।

অবশেষে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় হাকালুকি হাওরের এই আটটি অভয়াশ্রম রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করে মৎস্য অধিদপ্তরকে। এরপরই মৎস্য অধিদপ্তর রাজস্ব খাতের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অভয়াশ্রমের মাৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এতে পাল্টে যাচ্ছে অভয়াশ্রমগুলোর দীর্ঘদিনের রুগ্ন চিত্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অভয়াশ্রম গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাঁশ, গাছের ডালপালা, কনক্রিটের পিলার ও লাল ফ্ল্যাগ দিয়ে অভয়াশ্রম গুলোতে মাছের সুরক্ষা করা হয়েছে। তবে মৎস্য অভয়াশ্রম গুলোর গভীরতা কম থাকায় পানির পরিমাণ কম পরিলক্ষিত হয়। হাওর পাড়ের জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উক্ত মৎস্য অভয়াশ্রম গুলো খননের উদ্যোগ, অভয়াশ্রমের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভয়াশ্রম রক্ষার সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করা হলে এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে যদি জেলেদের প্রণোদনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাওরে মাছ আহরণ সম্পুর্ণ বন্ধ করা যায়, তবেই হাকালুকিতে বৃদ্ধি পাবে মাৎস্য উৎপাদন ও জলজ জীব বৈচিত্র। ইলিশ রক্ষায় যেমন সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর একসাথে কাজ করছে, ঠিক তেমনি হাওর রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর একসাথে কাজ করলেই রক্ষা হবে হাকালুকি হাওর ও ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে হাওর পাড়ের হাজার হাজার মানুষের।

বড়লেখা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অভয়াশ্রমগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়ার পর আটটি অভয়াশ্রমের উন্নয়নে কিছু কাজ করা হয়েছে। তবে হাওরে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পে উক্ত অভয়াশ্রম গুলো সংযুক্ত করা হয়েছে। আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি প্রকল্পটি পাওয়া যাবে। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর রাজস্ব বাজেটে অভয়াশ্রমগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাঁশ, গাছের ডালপালা, কনক্রিটের পিলার ও লাল ফ্ল্যাগ দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিলের পাড়ের দর্শনীয় স্থানে একাধিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

হাকালুকি হাওরের ৮ মৎস্য অভয়াশ্রমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি রোধে মৎস্য বিভাগের নানা উদ্যোগ

Update Time : 11:19:48 am, Tuesday, 13 February 2024

বড়লেখা প্রতিনিধি: এশিয়ার অন্যতম ও দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকির ৮ অভয়াশ্রম বিলের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েই জীববৈচিত্র রক্ষা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিলুপ্তি ঠেকাতে মৎস্য অধিদপ্তর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে মাছের আবাসস্থল নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য নিশ্চিত, মাছলুটেরার কবল থেকে মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণে রাজস্ব বাজেটে হাতে নেওয়া একটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে। এতে বদলে যাচ্ছে অভয়াশ্রম বিলের চিত্র। আবাসস্থল নিরাপদ করার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রজনন মৌসুমে অভয়াশ্রমের মা মাছ আশপাশের বিলে ছড়িয়ে আশাতীত উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহনেওয়াজ সিরাজী হাকালুকি হাওরের অভয়াশ্রম বিলগুলো পরিদর্শণ করেছেন।

হাকালুকি হাওরের আয়তন ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা জুড়ে রয়েছে হাওরের বিস্তৃতি।

জানা গেছে, হাকালুকি হাওরের ১৫০ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ, ১২০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর শীতকালে প্রায় ২০০ বিরল প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। হাকালুকি হাওর টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, ইকোটুরিজ্যম শিল্প বিকাশের এক অসাধারণ আধার। যা কেবল মৎস্য অভয়াশ্রম স্থায়ীভাবে সংরক্ষনের মাধ্যমে হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা আর দুর্বল রক্ষনাবেক্ষণের কারণে হাওরের মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র দ্রæতগতিতে ধংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পরিপ্রেক্ষিত-২০০৯ এর জরিপ থেকে জানা যায়, হাকালুকি হাওরের ২৮১টি বিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ও আংশিক ভরাট হয়ে গেছে ২৩৩টি বিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় কমে যাচ্ছে বিলগুলোর পানির পরিমাণ। ফলে যে বিলগুলো এখনও টিকে আছে, সেগুলোতে পানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন হাকালুকি হাওরের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সরকার ২০১০ এবং ২০১১ সালে ১৮টি বিলের (জলমহাল) ইজারা বাতিল করে স্থায়ী অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। পরে পাঁচটি অভয়াশ্রম বিল বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমিতির নামে ভূমি মন্ত্রণালয় ইজারা দিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ইজারা থেকে বাদ পড়া ছয়টি বিল অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সমাজভিত্তিক জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্পকে (সিবিএ-ইসিএ)। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রক্ষকরা ভক্ষকের ভুমিকা পালনে বিগত ১০-১২ বছরে হাকালুকির অভয়াশ্রম ঘোষিত বিলের তেমন কোন সুফল মিলেনি।

হাকালুকি হাওরে ৪ হাজার হেক্টর আয়তন জুড়ে প্রায় ৩শ’ জলমহাল (বিল) রয়েছে। যা ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন তিন বছর মেয়াদের জন্য বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমিতির নিকট ইজারা দিয়ে থাকে। এরমধ্যে ১৮টি বিলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে এর সংখ্যা ৮টিতে ঠেকেছে। এই ৮টি অভয়াশ্রম বিলের আয়তন মাত্র ১৬০ হেক্টর। স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো হচ্ছে কৈয়ারকোণা, মইয়াজুড়ী, নিমু, তেকুনি, টোলার, আগদার, মাইছলার ডাক ও কাংলী গোবর কুড়ি বিল।

হাওরের ৪ হাজার হেক্টর বিলের মধ্যে মাত্র ১৬০ হেক্টর অভয়াশ্রম অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রত্যেকটি ফসলের জন্য যেমন বীজ সংরক্ষণ জরুরি, ঠিক তেমনি হাওরের ব্রীড যদি একবার হারিয়ে যায়, তাহলে তা ফিরিয়ে আনা খুবই দুঃসাধ্য। তখন হাওরে দেশীয় প্রজাতির মাছের বিপরীতে বৃদ্ধি পাবে তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ বা সাকার মাউথ ক্যাটফিশের মত মাছ। এতে হয়ত উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু হারিয়ে যাবে আমাদের হাওরের দেশীয় শত শত প্রজাতির সুস্বাদু মাছ।

অবশেষে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় হাকালুকি হাওরের এই আটটি অভয়াশ্রম রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করে মৎস্য অধিদপ্তরকে। এরপরই মৎস্য অধিদপ্তর রাজস্ব খাতের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে অভয়াশ্রমের মাৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এতে পাল্টে যাচ্ছে অভয়াশ্রমগুলোর দীর্ঘদিনের রুগ্ন চিত্র।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অভয়াশ্রম গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাঁশ, গাছের ডালপালা, কনক্রিটের পিলার ও লাল ফ্ল্যাগ দিয়ে অভয়াশ্রম গুলোতে মাছের সুরক্ষা করা হয়েছে। তবে মৎস্য অভয়াশ্রম গুলোর গভীরতা কম থাকায় পানির পরিমাণ কম পরিলক্ষিত হয়। হাওর পাড়ের জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উক্ত মৎস্য অভয়াশ্রম গুলো খননের উদ্যোগ, অভয়াশ্রমের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভয়াশ্রম রক্ষার সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করা হলে এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে যদি জেলেদের প্রণোদনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাওরে মাছ আহরণ সম্পুর্ণ বন্ধ করা যায়, তবেই হাকালুকিতে বৃদ্ধি পাবে মাৎস্য উৎপাদন ও জলজ জীব বৈচিত্র। ইলিশ রক্ষায় যেমন সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর একসাথে কাজ করছে, ঠিক তেমনি হাওর রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর একসাথে কাজ করলেই রক্ষা হবে হাকালুকি হাওর ও ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে হাওর পাড়ের হাজার হাজার মানুষের।

বড়লেখা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অভয়াশ্রমগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়ার পর আটটি অভয়াশ্রমের উন্নয়নে কিছু কাজ করা হয়েছে। তবে হাওরে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পে উক্ত অভয়াশ্রম গুলো সংযুক্ত করা হয়েছে। আশা করছেন খুব তাড়াতাড়ি প্রকল্পটি পাওয়া যাবে। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর রাজস্ব বাজেটে অভয়াশ্রমগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাঁশ, গাছের ডালপালা, কনক্রিটের পিলার ও লাল ফ্ল্যাগ দিয়ে সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিলের পাড়ের দর্শনীয় স্থানে একাধিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।