6:07 pm, Sunday, 20 September 2026

হামের টিকা পাবে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশু

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এসব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছিল।

পরে মপআপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গতকাল পর্যন্ত আরও ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখনো প্রায় ২৪ লাখ শিশু টিকার বাইরে রয়েছে।
এর সঙ্গে গত কয়েক মাসে নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ১০ লাখ শিশুকে ধরলে মোট প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দিতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রথম টিকাদান কর্মসূচির পর যখন দেখলাম কিছু শিশু বাদ পড়ে গেছে, তখন আমরা আবার মপআপ ক্যাম্পেইন করেছি।

ইতোমধ্যে ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এখনো ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি জানান, ইউনিসেফের কাছ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ৪৩ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে আগে মজুত থাকা ১৫ লাখ ডোজ মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। টিকার সম্ভাব্য অপচয় ১০ শতাংশ ধরেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ ব্যবহারযোগ্য থাকবে। ফলে ৩৪ লাখ শিশুর প্রয়োজন মেটানোর পরও টিকা উদ্বৃত্ত থাকবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে একযোগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এ কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে।

এবার শুধু নির্দিষ্ট টিকাকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার ওপর নির্ভর না করে মাঠপর্যায়ে গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব, একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে। যারা নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করবে, তাদেরও নজরদারির মধ্যে রাখা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে

সাধারণত নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে দেশে হামের সংক্রমণের ধরন পরিবর্তন হওয়ায় এবার ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে নয় মাসের নিচের শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু দেশে তিন থেকে চার মাস বয়সী শিশুদেরও হাম হতে দেখা যাচ্ছে। এ কারণে রোগের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করে ছয় মাস বয়স থেকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত হলে মূলত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরসহ সহায়ক চিকিৎসা দিতে হয়।

তিনি বলেন, হামের নতুন কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা দেওয়া। আমরা রোগের ধরন ও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার লাখ ছাড়াল

হামের টিকা পাবে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশু

Update Time : 10:32:30 am, Sunday, 20 September 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া এবং নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এসব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু টিকা থেকে বাদ পড়েছিল।

পরে মপআপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গতকাল পর্যন্ত আরও ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখনো প্রায় ২৪ লাখ শিশু টিকার বাইরে রয়েছে।
এর সঙ্গে গত কয়েক মাসে নতুন করে টিকাদানের বয়সে আসা প্রায় ১০ লাখ শিশুকে ধরলে মোট প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দিতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রথম টিকাদান কর্মসূচির পর যখন দেখলাম কিছু শিশু বাদ পড়ে গেছে, তখন আমরা আবার মপআপ ক্যাম্পেইন করেছি।

ইতোমধ্যে ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এখনো ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি জানান, ইউনিসেফের কাছ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ৪৩ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে আগে মজুত থাকা ১৫ লাখ ডোজ মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। টিকার সম্ভাব্য অপচয় ১০ শতাংশ ধরেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ ব্যবহারযোগ্য থাকবে। ফলে ৩৪ লাখ শিশুর প্রয়োজন মেটানোর পরও টিকা উদ্বৃত্ত থাকবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে একযোগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এ কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে।

এবার শুধু নির্দিষ্ট টিকাকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার ওপর নির্ভর না করে মাঠপর্যায়ে গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব, একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে। যারা নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করবে, তাদেরও নজরদারির মধ্যে রাখা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যুক্ত থাকবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।

ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে

সাধারণত নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে দেশে হামের সংক্রমণের ধরন পরিবর্তন হওয়ায় এবার ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে নয় মাসের নিচের শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু দেশে তিন থেকে চার মাস বয়সী শিশুদেরও হাম হতে দেখা যাচ্ছে। এ কারণে রোগের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করে ছয় মাস বয়স থেকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত হলে মূলত উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি, প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন বা ভেন্টিলেটরসহ সহায়ক চিকিৎসা দিতে হয়।

তিনি বলেন, হামের নতুন কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা দেওয়া। আমরা রোগের ধরন ও সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।