ডেস্ক রিপোর্ট : জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ বছর শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে।
গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। মোট শতবর্ষীর মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন এবং পুরুষ ১৩ হাজার ৩৭৯ জন।
অর্থাৎ প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। টানা ৫৬ বছর ধরে জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।
জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনইচিরো উয়েনো বলেছেন, মানুষের দীর্ঘ ও সক্রিয় জীবনযাপন আনন্দের বিষয়। উন্নত চিকিৎসা, জীবনযাত্রার মান, খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির উন্নতিকে দীর্ঘায়ুর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সরকার।
তবে দীর্ঘায়ুর এই রেকর্ডের পেছনে জাপানের বড় এক জনমিতিক সংকটও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়লেও জন্মহার দীর্ঘদিন ধরে কমছে। ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা সংকুচিত হচ্ছে এবং পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের পরিচর্যার ব্যয় বহনের চাপ বাড়ছে।
জাপানের জনসংখ্যার প্রায় ২৯ দশমিক ৪ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি। সরকারি হিসাবে বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬২ লাখ।
জনসংখ্যা গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইপিএসএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে জাপানের মোট জনসংখ্যা কমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে যেতে পারে। তখন ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৯ শতাংশ হবে।
কম জন্মহার ও কর্মক্ষম মানুষের সংকট মোকাবিলায় শিশু ভাতা, ভর্তুকিযুক্ত শিশু পরিচর্যা ও পিতামাতার ছুটিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে জাপান। তবে এখনো দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা হ্রাসের ধারা থামানো যায়নি।
শ্রমিক সংকট ইতোমধ্যে নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যাসহ বিভিন্ন খাতে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে তরুণদের শহরমুখী হওয়ার কারণে এই সংকট আরও তীব্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




























