ডেস্ক রিপোর্ট :: ভুলে ভরা এক ম্যাচ। যার খেরাসতে ভারতের বিপক্ষে ৫০ রানের বড় হার। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এতো গুলো ভুল সিদ্ধান্ত কার বা কাদের? সংবাদ সম্মেলনে সেই ব্যাখ্যা দেন সাকিব আল হাসান। সকল সিদ্ধান্ত প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বলে জানান তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের বড় বড় ভুল গুলো তালিকা করলে, সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়। এতগুলো ভুল করে ম্যাচ জয় সম্ভব নয়। হয়েছেও তাই। প্রথম ভুল ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত।
যদিও এর ব্যাখ্যা নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, ‘ভারতকে ১৫০ থেকে ১৬০ রানের মধ্যে আটকে রাখার পরিকল্পনা ছিল।’ এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত নন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব।
তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, ক্যারিবিয়ানে একটা বা দুটি ম্যাচেই (দলগুলো টস জিতে পরে ব্যাটিং করেছে)…ইংল্যান্ড মনে হয় একটা ম্যাচে ১৮০ চেজ করেছে। নইলে প্রথমে ব্যাটিং করাটাই নিয়ম, দলগুলো এতে সফলও হচ্ছে। এটা মনে রাখলে হয়তো প্রথমে ব্যাটিং করলেই ভালো হতো। তবে অধিনায়ক ও কোচ হয়তো ভেবেছেন, ওদেরকে মোটামুটি একটা রানে আটকে রাখতে পারলে কাজটা সহজ হবে। কত রান করতে হবে, এটা জানা থাকবে।’
এরপর আসা যাক একাদশ নির্বাচন। দারুণ ছন্দে থাকা তাসকিন আহমেদকে বাদ দিয়ে একাদশে নেওয়া হয় জাকের আলী অনিককে। যদিও ভারতের বিপক্ষে অতীত পরিসংখ্যান ডানহাতি স্পিডস্টারের পক্ষেই ছিল।
বিশ্বকাপের শুরু থেকে বাঁহাতি পেসারদের বিরুদ্ধে ভুগছিলেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির। এরপরও শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে না এনে, দুইপাশ থেকে নতুন বলে স্পিনার ব্যবহার করেন শান্ত।
ম্যাচ চলাচালে যার সমালোচনা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন। সাকিবও একমত ইংলিশ কিংবদন্তির সঙ্গে। ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে দুই প্রান্তেই স্পিন দিয়ে শুরু পছন্দ হয়নি তার।
সাকিব বলেন, ‘আমার জন্য এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। এটা খুব ভালো ব্যাটিং উইকেট ছিল। আমার মনে হয়, ক্যারিবিয়ানে স্পিনারদের জন্য নতুন বলে বোলিং করার চেয়ে মাঝের ওভারে বোলিং করা সহজ। কারণ নতুন বলে সব দলই দ্রুত রান করতে চায়। বল পুরোনো হয়ে গেলে তখন রান করা একটু কঠিন হয়ে যায়।’
দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন জাতীয় জার্সিতে। তার নামের পাশে ৯টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড। কয়েকদিন আগে ছিলেন অধিনায়কও। এ ছাড়া ক্যারিবিয় দ্বীপপুঞ্জে ব্যাটি-বোলিং দুই বিভাগেই সফল সাকিব।
দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার পরামর্শ নেওয়া হয় কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব সিদ্ধান্ত অধিনায়ক ও কোচ মিলেই নেয়। ভালো হলে তাঁরা কৃতিত্ব পান, খারাপ হলে সমালোচনা। এটাই নিয়ম। প্রথম দুই ওভারে যখন উইকেট পড়েনি, তখন হয়তো সবার মনে হয়েছে, আগে ব্যাটিং করলেই ভালো হতো। আবার প্রথম দুই ওভারে উইকেট পড়লে ওই সিদ্ধান্তটাকেই ঠিক মনে হতো।’

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















