5:28 pm, Saturday, 7 November 2026

হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরিতে লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : এক প্রান্তে উইকেটের পতন, অন্য প্রান্তে অটল তাওহীদ হৃদয়। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝেও একাই বুক চিতিয়ে লড়লেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরিতে। তার ব্যাটে ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।

প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এই লিড এনে দেওয়ার মূল কারিগর হৃদয়।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ।

আগের দিন অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়ের ওপরই ছিল দলের বড় ভরসা। তবে দিনের শুরুতেই ব্যক্তিগত ৩৪ রানে (৭৬ বল) মুশফিকের বিদায়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে যান হৃদয়।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৮ রান। লিটন দাস ৮ রান করে ফিরে যান। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ১৬ রান। হাসান মাহমুদ ১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম ২২ এবং তাসকিন আহমেদ ১২ রান যোগ করেন। সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।

একদিকে যখন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস, অন্যদিকে তখন নিজের ইনিংসকে আরও বড় করেছেন হৃদয়। নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এবং শেষ উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে লিডের পথে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের হারানোর পরও অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার।

৩৫৯ বলের মোকাবিলায় ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। তার ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা আর আক্রমণাত্মক শটের দারুণ সমন্বয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেও নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে লিখিয়েছেন তিনি। মুশফিক, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন হৃদয়ের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ৪১ ওভার বল করে ১০৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। জয়ডেন সিলসের শিকার দুটি উইকেট। এ ছাড়া শামার জোসেফ, জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজ একটি করে উইকেট পান।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ার আলী আমজদ স্কুল ও কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদ্‌যাপন

হৃদয়ের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরিতে লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ

Update Time : 10:23:41 am, Saturday, 7 November 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : এক প্রান্তে উইকেটের পতন, অন্য প্রান্তে অটল তাওহীদ হৃদয়। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝেও একাই বুক চিতিয়ে লড়লেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরিতে। তার ব্যাটে ভর করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।

প্রথম ইনিংসে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এই লিড এনে দেওয়ার মূল কারিগর হৃদয়।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ।

আগের দিন অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়ের ওপরই ছিল দলের বড় ভরসা। তবে দিনের শুরুতেই ব্যক্তিগত ৩৪ রানে (৭৬ বল) মুশফিকের বিদায়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে যান হৃদয়।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৮ রান। লিটন দাস ৮ রান করে ফিরে যান। মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ১৬ রান। হাসান মাহমুদ ১ রান করে আউট হন। অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম ২২ এবং তাসকিন আহমেদ ১২ রান যোগ করেন। সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি।

একদিকে যখন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস, অন্যদিকে তখন নিজের ইনিংসকে আরও বড় করেছেন হৃদয়। নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এবং শেষ উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে লিডের পথে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের হারানোর পরও অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার।

৩৫৯ বলের মোকাবিলায় ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। তার ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা আর আক্রমণাত্মক শটের দারুণ সমন্বয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেও নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে লিখিয়েছেন তিনি। মুশফিক, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস এখন হৃদয়ের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জোমেল ওয়ারিকান। ৪১ ওভার বল করে ১০৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। জয়ডেন সিলসের শিকার দুটি উইকেট। এ ছাড়া শামার জোসেফ, জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজ একটি করে উইকেট পান।