11:41 am, Wednesday, 21 October 2026

হেরেও এখনও শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আফগানরা

ডেস্ক রিপোর্ট : ৯১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল বড় ব্যবধানে হারবে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে ব্যাটার হিসাবে একমাত্র ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সঙ্গে ছিলেন দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সেখান থেকে দলকে টানলেন ম্যাক্সওয়েল। পাল্টা আক্রমণ শুরু করলেন তিনি। একের পর এক বড় শট খেললেন। সাহসী ক্রিকেট দেখা গেল তাঁর ব্যাটে। তার পুরস্কারও পেলেন। ম্যাক্সওয়েলের সহজ ক্যাচ ছাড়লেন মুজিব উর রহমান। সেটাই কাল হল আফগানিস্তানের। ৯১ রান থেকে দলকে ২৯২ রানে নিয়ে গেলেন ম্যাক্সওয়েল। করলেন বিরাট দ্বিশতরান। পায়ে ক্র্যাম্প ধরায় হাঁটতে পারছিলেন না ম্যাক্সওয়েল। কার্যত এক পায়ে খেলেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ওয়াংখেড়ে দেখল ১২৮ বলে ২০১ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস। গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ জানাল তাঁকে।

ম্যাক্সওয়েল দেখালেন ক্রিকেটকে কেন মহান অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয়। সেখানে শেষ বল হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না। নইলে কে ভেবেছিলেন খেলার ছবি এ ভাবে বদলে যাবে। আফগানিস্তানের বোলিংকে নিয়ে ছেলেখেলা করছিলেন তিনি। মাঠের এমন কোনও কোনা নেই যেখানে শট মারেননি তিনি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কভার থেকে মিড উইকেটের দিকে ছক্কা হাঁকালেন। আবার তাঁর সুইচ হিট থার্ড ম্যানের উপর দিয়ে বাউন্ডারিতে গিয়ে পড়ল। স্রেফ মনের জোর আর নিজের শটের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকলে কী ভাবে শট খেলা যায় তা দেখালেন ম্যাক্সওয়েল। তার কোনও জবাব ছিল না আফগান বোলারদের কাছে। রশিদ খান থেকে শুরু করে নবীন উল হক, কেউ পারলেন না ম্যাক্সওয়েলকে ফেরাতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব থেকে বড় রান তাড়া করে জিতল অস্ট্রেলিয়া। ওয়াংখেড়েতেও রানের ব্যবধানে এটি সব থেকে বড় জয়।

এই জয়ের ফলে তৃতীয় দল হিসাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়া। অন্য দিকে জেতার মুখ থেকে ম্যাচ হেরে নিজেদের সেমিফাইনালে যাওয়ার অঙ্ক নিজেরাই কঠিন করে ফেলল আফগানিস্তান। যদিও এখনও সুযোগ রয়েছে তাদের।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানের ব্যাটিংকে টানলেন ইব্রাহিম জাদরান। এ বারের বিশ্বকাপে দলের সব থেকে ধারাবাহিক ব্যাটার এই ম্যাচেও রান করলেন। রহমানুল্লা গুরবাজ ২১ রান করে আউট হন। দলের মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে একের পর এক জুটি গড়লেন ইব্রাহিম। রহমত শাহ (৩০), শাহিদি (২৬), আজমাতুল্লা ওমরজাই (২২) প্রত্যেকে শুরু করলেও বড় রান করতে পারেননি। কিন্তু এক দিকে টিকেছিলেন ইব্রাহিম।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

হেরেও এখনও শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আফগানরা

Update Time : 08:37:35 am, Wednesday, 8 November 2023

ডেস্ক রিপোর্ট : ৯১ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মনে হয়েছিল বড় ব্যবধানে হারবে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে ব্যাটার হিসাবে একমাত্র ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সঙ্গে ছিলেন দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সেখান থেকে দলকে টানলেন ম্যাক্সওয়েল। পাল্টা আক্রমণ শুরু করলেন তিনি। একের পর এক বড় শট খেললেন। সাহসী ক্রিকেট দেখা গেল তাঁর ব্যাটে। তার পুরস্কারও পেলেন। ম্যাক্সওয়েলের সহজ ক্যাচ ছাড়লেন মুজিব উর রহমান। সেটাই কাল হল আফগানিস্তানের। ৯১ রান থেকে দলকে ২৯২ রানে নিয়ে গেলেন ম্যাক্সওয়েল। করলেন বিরাট দ্বিশতরান। পায়ে ক্র্যাম্প ধরায় হাঁটতে পারছিলেন না ম্যাক্সওয়েল। কার্যত এক পায়ে খেলেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ওয়াংখেড়ে দেখল ১২৮ বলে ২০১ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস। গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ জানাল তাঁকে।

ম্যাক্সওয়েল দেখালেন ক্রিকেটকে কেন মহান অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয়। সেখানে শেষ বল হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যায় না। নইলে কে ভেবেছিলেন খেলার ছবি এ ভাবে বদলে যাবে। আফগানিস্তানের বোলিংকে নিয়ে ছেলেখেলা করছিলেন তিনি। মাঠের এমন কোনও কোনা নেই যেখানে শট মারেননি তিনি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কভার থেকে মিড উইকেটের দিকে ছক্কা হাঁকালেন। আবার তাঁর সুইচ হিট থার্ড ম্যানের উপর দিয়ে বাউন্ডারিতে গিয়ে পড়ল। স্রেফ মনের জোর আর নিজের শটের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকলে কী ভাবে শট খেলা যায় তা দেখালেন ম্যাক্সওয়েল। তার কোনও জবাব ছিল না আফগান বোলারদের কাছে। রশিদ খান থেকে শুরু করে নবীন উল হক, কেউ পারলেন না ম্যাক্সওয়েলকে ফেরাতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব থেকে বড় রান তাড়া করে জিতল অস্ট্রেলিয়া। ওয়াংখেড়েতেও রানের ব্যবধানে এটি সব থেকে বড় জয়।

এই জয়ের ফলে তৃতীয় দল হিসাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়া। অন্য দিকে জেতার মুখ থেকে ম্যাচ হেরে নিজেদের সেমিফাইনালে যাওয়ার অঙ্ক নিজেরাই কঠিন করে ফেলল আফগানিস্তান। যদিও এখনও সুযোগ রয়েছে তাদের।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানের ব্যাটিংকে টানলেন ইব্রাহিম জাদরান। এ বারের বিশ্বকাপে দলের সব থেকে ধারাবাহিক ব্যাটার এই ম্যাচেও রান করলেন। রহমানুল্লা গুরবাজ ২১ রান করে আউট হন। দলের মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে একের পর এক জুটি গড়লেন ইব্রাহিম। রহমত শাহ (৩০), শাহিদি (২৬), আজমাতুল্লা ওমরজাই (২২) প্রত্যেকে শুরু করলেও বড় রান করতে পারেননি। কিন্তু এক দিকে টিকেছিলেন ইব্রাহিম।