4:41 am, Wednesday, 22 April 2026

৫৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে ১৫ টাকায় চাল, ওএমএসেও বড় বরাদ্দ: খাদ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১০ লাখ টন চালের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। রোববারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদে খাদ্যমন্ত্রী জানান, বছরে ছয় মাস (আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল) এ চাল বিতরণ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ১০ লাখ টন চালের সংস্থান রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৭ দশমিক ৯৩ লাখ টন সাধারণ চাল বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৭৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
মো. আব্দুল বারী জানান, দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভিটামিন এ, বি-১, বি-১২, বি-৯ (ফলিক এসিড), আয়রন এবং জিংক সমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪৮টি উপজেলায় ৫ মাসব্যাপী ৩ দশমিক ৭ লাখ টন পুষ্টিচাল সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদরের ১ হাজার ৯১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে খাদ্যশস্য বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং ২ কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক ১ হাজার ১৮৫ টন চাল ও ১ হাজার ৪৩২ টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে ওএমএসের মাধ্যমে। এছাড়া চালের ঊর্ধ্বমূল্য ঠেকাতে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ৪১৮টি উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওএমএস খাতে ৩ লাখ টন চাল ও ৫ দশমিক ২৫ লাখ টন গমের বাজেট রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত এ খাতের বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মো. আব্দুল বারী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদেরও চাল দিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারের মধ্যে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে মোট ৩৩ হাজার ৮৩৩ টন চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্য সহনীয় রাখতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

৫৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে ১৫ টাকায় চাল, ওএমএসেও বড় বরাদ্দ: খাদ্যমন্ত্রী

Update Time : 11:20:54 am, Sunday, 5 April 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বড় পরিসরে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার। বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪৯৫টি উপজেলায় ৫৫ লাখ পরিবারকে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১০ লাখ টন চালের বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। রোববারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
সংসদে খাদ্যমন্ত্রী জানান, বছরে ছয় মাস (আগস্ট থেকে নভেম্বর এবং মার্চ ও এপ্রিল) এ চাল বিতরণ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ১০ লাখ টন চালের সংস্থান রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৭ দশমিক ৯৩ লাখ টন সাধারণ চাল বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৭৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।
মো. আব্দুল বারী জানান, দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভিটামিন এ, বি-১, বি-১২, বি-৯ (ফলিক এসিড), আয়রন এবং জিংক সমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪৮টি উপজেলায় ৫ মাসব্যাপী ৩ দশমিক ৭ লাখ টন পুষ্টিচাল সরবরাহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ১৪টি শ্রমঘন জেলা এবং ৫২টি জেলা সদরের ১ হাজার ৯১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে খাদ্যশস্য বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং ২ কেজির প্যাকেট আটা ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক ১ হাজার ১৮৫ টন চাল ও ১ হাজার ৪৩২ টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে ওএমএসের মাধ্যমে। এছাড়া চালের ঊর্ধ্বমূল্য ঠেকাতে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় ৪১৮টি উপজেলার ৮৩৬টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০৬ টন চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওএমএস খাতে ৩ লাখ টন চাল ও ৫ দশমিক ২৫ লাখ টন গমের বাজেট রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত এ খাতের বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মো. আব্দুল বারী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদেরও চাল দিচ্ছে খাদ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে ৬৭ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭টি পরিবারের মধ্যে প্রতি মাসে ৩০ টাকা কেজি দরে মোট ৩৩ হাজার ৮৩৩ টন চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার হতদরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারমূল্য সহনীয় রাখতে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।