5:51 am, Friday, 6 November 2026

সত্যিই সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

ডেস্ক রিপোর্ট : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
ক্ষমতার ভার জনগণের দিকে রাখতে চাইলে ভোটের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান–২ নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন নাগরিকদের দুটি ভোট দিতে হবে একটি সংসদ নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে।

সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেওয়া হচ্ছে, সে সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আফসোস না করতে হয়।
তিনি বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটটি দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে বড় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকবে। যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে সেই সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। নিষ্ক্রিয় থাকলে বা স্পষ্ট মত না দিলে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা আরও বহু বছরের জন্য হারিয়ে যেতে পারে।

গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নোট ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংস্কার শুধু কথায় নয়, ভোটের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ নির্বাচনে তরুণ সমাজ একটি বড় শক্তি।

যেভাবে তরুণরা আমাদের স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করেছে, শুধু সেই অর্জনে সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ আগেও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন দেখেছে। ভয়কে জয় করাই আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস।
তিনি আরও বলেন, তরুণরা যে আত্মত্যাগ করেছে, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমেই সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তব রূপ পাবে।

অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সেবা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে ‘নাগরিক পদক–২০২৫’ প্রদান করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

সত্যিই সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

Update Time : 09:42:08 am, Sunday, 11 January 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
ক্ষমতার ভার জনগণের দিকে রাখতে চাইলে ভোটের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান–২ নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন নাগরিকদের দুটি ভোট দিতে হবে একটি সংসদ নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে।

সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেওয়া হচ্ছে, সে সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আফসোস না করতে হয়।
তিনি বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটটি দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে বড় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকবে। যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে সেই সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। নিষ্ক্রিয় থাকলে বা স্পষ্ট মত না দিলে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা আরও বহু বছরের জন্য হারিয়ে যেতে পারে।

গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নোট ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংস্কার শুধু কথায় নয়, ভোটের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ নির্বাচনে তরুণ সমাজ একটি বড় শক্তি।

যেভাবে তরুণরা আমাদের স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করেছে, শুধু সেই অর্জনে সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ আগেও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন দেখেছে। ভয়কে জয় করাই আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস।
তিনি আরও বলেন, তরুণরা যে আত্মত্যাগ করেছে, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের দায়িত্ব এখন আমাদের সবার। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমেই সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তব রূপ পাবে।

অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সেবা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে ‘নাগরিক পদক–২০২৫’ প্রদান করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা।