ডেস্ক রিপোর্ট : লিওনেল মেসির গোল উদযাপন সাধারণত আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরা থাকে। তবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য।
ইতিহাস গড়ার মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, চোখ ভিজে ওঠে তার।
ম্যাচ চলাকালীন মেসির কান্নার দৃশ্য দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো বিশ্বকাপে নতুন কোনো কীর্তি গড়ার আনন্দই তাকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
কিন্তু ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেই সেই ধারণা ভেঙে দেন ৩৮ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
মেসি বলেন, ‘এটি খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয় ছিল না।
আমি কিছু কঠিন এবং জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি।’
তবে সেই ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বরং কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য নিজের সতীর্থ এবং আর্জেন্টিনা দলের কোচিং স্টাফ ও সহকারী সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেলেও মাঠে তার পারফরম্যান্সে কোনো ছাপ দেখা যায়নি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল করে আর্জেন্টিনার বড় জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি। ম্যাচের বিশ্লেষণে প্রতিপক্ষের প্রশংসাও করেন মেসি।
মেসি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। আলজেরিয়া দলে দ্রুতগতির ও পরিশ্রমী কিছু খেলোয়াড় আছে। বল পেলে তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সৌভাগ্যক্রমে আমরা শুরুতেই এগিয়ে যেতে পেরেছি, এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখি।’
তবে বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও সামনে সহজ কোনো পথ দেখছেন না মেসি।
২০২২ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, ‘গত বিশ্বকাপ থেকেই আমরা শিখেছি, এখানে কেউ কাউকে কিছু উপহার দেয় না। সব দলই শক্তিশালী, সংগঠিত এবং নিজেদের মতো করে প্রস্তুত। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।’
৩৮ বছর বয়সে এসেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাওয়ার রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এটা আমার প্যাশন। যখন আমার মন ভালো থাকে, আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে দিই। আমি খেলাটা উপভোগ করি। যতদিন আমি পারব এবং খেলার জন্য ফিট থাকব, আমি এখানেই থাকব।’

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















