11:31 pm, Tuesday, 7 July 2026

বিশ্বজুড়ে মানবপাচারবিরোধী অভিযান: গ্রেপ্তার ১ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বিশ্বের ৫৯টি দেশে পরিচালিত মানবপাচারবিরোধী সমন্বিত অভিযানে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন গ্লোবাল চেইন’ অভিযানে যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইন্টারপোল জানায়, অভিযানে মোট ২ হাজার ৭০ জন ভুক্তভোগী বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নারী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৩৪ জন মানবপাচারের অভিযোগে এবং ৬৯০ জন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত।
অভিযানে কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা চক্রে কাজ করতে ভুক্তভোগীদের পাচারকারী একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং ইউরোপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্মে বাধ্যকারী একটি চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোল এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে মানবপাচারের নতুন রুট ও কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ইউরোপে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে লাতিন আমেরিকার নাগরিকদের পাচারের প্রবণতা বাড়ছে।

শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রায় ১০ শতাংশই আমেরিকা অঞ্চলের অপ্রাপ্তবয়স্ক, যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
ইন্টারপোল আরও জানায়, ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ ৪০৬ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে ৮৩ জন ব্রাজিলীয় এবং ৩২৩ জন বিদেশি নাগরিক। একটি আন্তঃদেশীয় চক্র তাদের কম্বোডিয়ায় পাচার করে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জোরপূর্বক যুক্ত করেছিল।

এ ছাড়া পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের বিশেষ নোটিশ জারি করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার পুলিশ বলিভিয়ার দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে, যাদের একটি মুদি দোকানে জোরপূর্বক কাজ করানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বেলজিয়ামেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বন্দি রেখে বেলজিয়াম ও ফ্রান্সজুড়ে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে একটি মানবপাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

গত ৮ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন।

ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের অধিকাংশকেই যৌনকর্মে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ শতাংশকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে, ১১ শতাংশকে জোরপূর্বক শ্রমে এবং ২ শতাংশকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।

শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের নিজ নিজ দেশের সুরক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ অভিযানের ভিত্তিতে ৪৬৫টি নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আরও ২০১ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ একাধিক দেশ এ অভিযানে অংশ নেয়।

ইন্টারপোলের মহাসচিব ভালদেসি উরকিজা বলেন, মানবপাচার এখনো সংগঠিত অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম লাভজনক ও বিস্তৃত অপরাধ, যা প্রতিবছর অবৈধভাবে বিপুল অর্থের লেনদেন সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, এ অপরাধ ভুক্তভোগীদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর ক্ষতি ডেকে আনে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধী চক্রগুলো ভেঙে দিতে দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার কার্যকারিতা এ অভিযানের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সৌহার্দ্য সুদৃঢ় করতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

বিশ্বজুড়ে মানবপাচারবিরোধী অভিযান: গ্রেপ্তার ১ হাজারের বেশি

Update Time : 09:16:29 am, Tuesday, 7 July 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বিশ্বের ৫৯টি দেশে পরিচালিত মানবপাচারবিরোধী সমন্বিত অভিযানে এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন গ্লোবাল চেইন’ অভিযানে যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা এবং ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ইন্টারপোল জানায়, অভিযানে মোট ২ হাজার ৭০ জন ভুক্তভোগী বা সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নারী।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৩৪ জন মানবপাচারের অভিযোগে এবং ৬৯০ জন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত।
অভিযানে কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণা চক্রে কাজ করতে ভুক্তভোগীদের পাচারকারী একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং ইউরোপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্মে বাধ্যকারী একটি চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউরোপোল এবং ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে মানবপাচারের নতুন রুট ও কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ইউরোপে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে লাতিন আমেরিকার নাগরিকদের পাচারের প্রবণতা বাড়ছে।

শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রায় ১০ শতাংশই আমেরিকা অঞ্চলের অপ্রাপ্তবয়স্ক, যারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
ইন্টারপোল আরও জানায়, ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ ৪০৬ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করেছে। তাদের মধ্যে ৮৩ জন ব্রাজিলীয় এবং ৩২৩ জন বিদেশি নাগরিক। একটি আন্তঃদেশীয় চক্র তাদের কম্বোডিয়ায় পাচার করে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জোরপূর্বক যুক্ত করেছিল।

এ ছাড়া পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের বিশেষ নোটিশ জারি করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার পুলিশ বলিভিয়ার দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে, যাদের একটি মুদি দোকানে জোরপূর্বক কাজ করানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বেলজিয়ামেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের বন্দি রেখে বেলজিয়াম ও ফ্রান্সজুড়ে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে একটি মানবপাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

গত ৮ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন।

ইন্টারপোলের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের অধিকাংশকেই যৌনকর্মে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ শতাংশকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে, ১১ শতাংশকে জোরপূর্বক শ্রমে এবং ২ শতাংশকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে।

শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের নিজ নিজ দেশের সুরক্ষা ও সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ অভিযানের ভিত্তিতে ৪৬৫টি নতুন তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আরও ২০১ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ একাধিক দেশ এ অভিযানে অংশ নেয়।

ইন্টারপোলের মহাসচিব ভালদেসি উরকিজা বলেন, মানবপাচার এখনো সংগঠিত অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম লাভজনক ও বিস্তৃত অপরাধ, যা প্রতিবছর অবৈধভাবে বিপুল অর্থের লেনদেন সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, এ অপরাধ ভুক্তভোগীদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর ক্ষতি ডেকে আনে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধী চক্রগুলো ভেঙে দিতে দেশগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার কার্যকারিতা এ অভিযানের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।